মুজিববর্ষ ঘিরে মানুষের উৎসাহ বৃদ্ধি পাচ্ছে: প্রধানমন্ত্রী

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ২৪ জানুয়ারি ২০২০, ১৮:৫১ | আপডেট : ২৫ জানুয়ারি ২০২০, ১১:৩২

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ৭৫ এ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুকে হত্যাকাণ্ডের ২১ বছর পর আমরা ক্ষমতায় এসে জাতির পিতা পদাঙ্ক অনুসরণ করি। মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করতে আমরা চেষ্টা করছি। মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করাই আমাদের মূল লক্ষ্য।

জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদনের পর গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় হোয়াইট হাউজে এক যৌথসভার শুরুতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ সব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী উদযাপনের জন্য আমরা কর্মসূচি গ্রহণ করেছি। আওয়ামী লীগের পাশাপাশি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানও উদ্যোগ নিয়েছে। মুজিববর্ষ ঘিরে মানুষের উৎসাহ বৃদ্ধি পাচ্ছে তা বোঝা যাচ্ছে।’

শেখ হাসিনা আরও বলেন, ‘১৯৭৫ সালে জাতির পিতাকে হত্যার মাধ্যমে হত্যাকারীরা তার নাম মুছে দিয়েছিল। আজকে সেই নামটি আবার উচ্চারিত হচ্ছে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর নাম আর কখনও কেউ মুছে ফেলতে পারবে না। কারণ জাতির পিতা সারাটি জীবন সংগ্রাম করেছেন। মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় তিনি কাজ করেছেন। এ দেশের শোষিত-বঞ্চিত মানুষের জন্য তিনি কাজ করেছেন।’

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘২৪ বছরের সংগ্রাম এবং ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে আমরা স্বাধীনতা পেয়েছি। স্বাধীনতার জন্য ৩০ লাখ মানুষ, দুই লাখ মা-বোন আত্মত্যাগ স্বীকার করেছেন। তাদের আত্মত্যাগকে অর্থবহ করে তুলতে হবে।’

বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা ও উন্নয়ন প্রসঙ্গে জাতির পিতার কন্যা বলেন, ‘এখন বাংলাদেশের উন্নয়ন দৃশ্যমান হচ্ছে। আপনারা জানেন, এরইমধ্যে দেশের দারিদ্র্যহার ২০ দশমিক ৫ ভাগ নামিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছি। দারিদ্র্যমুক্ত স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ গড়তে আমরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা মনে করি, আজকে যে প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছি অর্থনৈতিকভাবে এবং সেই সকল অর্জনের সুফল একেবারে তৃণমূল পর্যায়ের গ্রামের মানুষ যেন পায় সেই লক্ষ্য নিয়ে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। আওয়ামী লীগের প্রত্যেকটা নেতাকর্মীকেই জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শ নিয়ে চলতে হবে। এ বাংলাদেশকে আমরা জাতির পিতার ক্ষুধামুক্ত, দারিদ্র্যমুক্ত স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ে তুলব এটিই আমাদের মূল লক্ষ্য।’

ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচনি কর্মকাণ্ডে ব্যস্ত থাকার কারণে দলের কয়েকজন নেতা জাতির পিতার সমাধিতে টুঙ্গিপাড়া যেতে পারেননি তার কারণও জানান দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘সিটি নির্বাচনে যারা কাজ করছেন, তাদের যাওয়ার দরকার নেই। যারা বাকি থাকবেন তাদের নিয়ে আবার আসব। পরবর্তীতে নোটিশ নিয়ে ওয়ার্কিং কমিটির সভা করা হবে বলেও জানান তিনি। আজকে যেহেতু বেশি সময় নেই, আমাকে হয়ত অল্প সময়ের মধ্যে রওনা দিতে হবে।

এরপর উপস্থিত সকল নেতার প্রতি ধন্যবাদ ও আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে সভার সমাপ্তি ঘোষণা করেনন শেখ হাসিনা। হোয়াইট হাউজ থেকে সাড়ে ৩টার দিকে বের হয়ে হেলিপ্যাড থেকে হেলিকাপ্টারযোগে ঢাকার উদ্দেশে টুঙ্গিপাড়া ত্যাগ করেন আওয়ামী লীগ সভাপতি।

এর আগে, সকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতির পিতার সমাধিতে শ্রদ্ধা জানান। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সেখানে দোয়া-মোনাজাত করা হয়। এরপর হোয়াইট হাউজে যৌথসভায় অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

এবিএন/মমিন/জসিম

এই বিভাগের আরো সংবাদ