দেশের প্রতিটি ঘরে আলো জ্বলবে : প্রধানমন্ত্রী

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ২৮ নভেম্বর ২০১৯, ১৫:৩৫

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘মুজিব বর্ষ’ উদযাপনকালে সারাদেশের প্রত্যেক ঘরে বিদ্যুতের আলো জ্বালাবার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, শুধু পার্বত্য চট্টগ্রাম নয়, বাংলাদেশের একটি ঘরও অন্ধকার থাকবে না। প্রতিটি ঘরে আলো জ্বলবে। কাজের গতি বাড়বে, সময় বাড়বে। বিদ্যুতের আলোয় কাজ হবে।

আজ বৃহস্পতিবার সকালে গণভবনে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে চারটি প্রকল্পের উদ্বোধন করে তিনি এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম এক সময় অশান্ত ছিল। ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় আসার পর শান্তি চুক্তির মাধ্যমে তার সরকার এ সমস্যার সমাধান করেছে এবং এক সময়ের অন্ধকার পার্বত্য চট্টগ্রামে এখন বিদ্যুতের আলো ছড়াচ্ছে।

শেখ হাসিনা বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের লক্ষ্য ছিল এ দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের। বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করা না হলে স্বাধীনতার ১০ বছরের মধ্যে এই বাংলাদেশ উন্নত দেশ হতো। স্বাধীনতার পর পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্ত পরিবেশ ছিল। কিন্তু ’৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করার পর পার্বত্য চট্টগ্রাম অশান্ত হয়ে ওঠে।

তিনি বলেন, ’৯৬ সালে তার ক্ষমতায় আসার পর পার্বত্য চট্টগ্রামের সমস্যার সমাধান এবং এর কারণ চিহ্নিত করতে সক্ষম হয়েছিল যে, পার্বত্য চট্টগ্রামের সমস্যাটা রাজনৈতিক। কাজেই রাজনৈতিক পথেই তার সরকার এটি সমাধানের উদ্যোগ নেয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘শান্তি চুক্তির মাধ্যমে পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি ফিরে এসেছে। সেখানকার ১ হাজার ৮শ’ অস্ত্রধারী আত্মসমর্পণ করেছে। তাদের আমরা পুনর্বাসন করেছি। বিএনপির আমলে পার্বত্য চট্টগ্রামে মোবাইল ফোন ব্যবহার নিষিদ্ধ ছিল। এখন সেখানে উন্নয়নের ঢেউ উঠেছে। সোলার বিদ্যুৎ ব্যবহারের ফলে সেখানে রাতদিন কাজ হচ্ছে। অর্থনীতিতে গতি সঞ্চার হচ্ছে।

ঢাকার বেইলি রোডে পার্বত্য চট্টগ্রাম কমপ্লেক্স নির্মাণসহ পার্বত্য চট্টগ্রামের উন্নয়নে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিচ্ছিন্ন দ্বীপ বলে গ্রিড লাইনের মাধ্যমে বিদ্যুৎ দেয়া সম্ভব না। এ কারণে আমরা সোলার প্যানেলের মাধ্যমে পার্বত্য চট্টগ্রামকে আলোকিত করেছি।

ডিজিটাল বাংলাদেশের উন্নয়নের নানা চিত্র তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এখন হাতে হাতে ঘরে ঘরে ল্যাপটপ কম্পিউটার। সব ডিজিটাল করে দিয়েছি। প্রত্যন্ত অঞ্চলে বসেও এখন সবাই কম্পিউটার ব্যবহার করছে। বঙ্গবন্ধু হাইটেক সিটিতে ফোর টায়ার ডাটা সেন্টার উদ্বোধনের মাধ্যমে আমরা ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তোলার আরেক ধাপে উন্নীত হলাম।

সমুদ্রজয়ের পেছনে জাতির পিতার নানা অবদানের কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, ১৯৭৪ সালে জাতির পিতা সমুদ্রসীমা আইন তৈরী করেন। পরবর্তী সময় সেই ভিত্তি ধরেই আমরা সমুদ্রসীমা অর্জন করেছি। আমরা সবচেয়ে কম টাকায় নদীপথে যাতায়াত করি। মানুষের পণ্য পরিবহনসহ সবকিছুর জন্য নদী দরকার। সারাবিশ্বের সভ্যতার দিকে তাকালে দেখতে পাব সব সভ্যতাই গড়ে উঠেছে হয় নদীর পাড়ে না হলে সাগর পাড়ে। এদিক থেকে বলব যে আমরা অত্যন্ত সৌভাগ্যবান যে আমাদের দেশে এত নদী আছে। নদী এবং নৌপথ যদি আমরা ব্যবহার করতে পারি তাহলে আমাদের শিল্পায়ন থেকে শুরু করে যোগাযোগ সবক্ষেত্রেই এগিয়ে যেতে পারব। আমাদের দুর্ভাগ্য আগে যারা ক্ষমতায় ছিল তারা এদিকটায় ততটা খেয়াল করেনি।

জাহাজশিল্পের উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, ভবিষ্যতে আমরা বড় বড় যুদ্ধজাহাজ তৈরি করতে পারবো। রয়েছে বরগুনায় শিপইয়ার্ড তৈরির পরিকল্পনা। পৃথিবীর বড় বড় দেশ আমাদের কাছ থেকে জাহাজ ক্রয় করছে। নৌ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে পাঁচটা জাহাজ তৈরি করেছি। আজ সেগুলোই উদ্বোধন করবো। এ বিষয়ে আমরা অনেক সহায়তাও পেয়েছি।

যেসব নদী দূষণের শিকার সেগুলো দূষণমুক্ত করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। নদীগুলো খনন করে নাব্যতা ফিরিয়ে আনারও চেষ্টা করছি আমরা।


শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী বীর বাহাদুল উশৈ সিং, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান মেজর (অব:) রফিকুল ইসলাম বীর উত্তম, আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক, বাংলাদেশে চীনের রাষ্ট্রদূত লি জিমিংসহ সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এবং গণভবনের শীর্ষ কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব মো. নজিবুর রহমান ভিডিও কনফারেন্সটি সঞ্চালনা করেন।

এর আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ৪টি উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন করেন।

উদ্বোধন করা প্রকল্পগুলো হলো- চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও এনিম্যাল সাইন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যোগে কাপ্তাইয়ে লেকে স্থাপিত ভ্রাম্যমাণ গবেষণা কেন্দ্র, গাজীপুরের কালিয়াকৈরে বঙ্গবন্ধু হাইটেক সিটিতে ‘ফোর টায়ার ন্যাশনাল ডেটা সেন্টার’, পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রত্যন্ত এলাকায় সোলার প্যানেল স্থাপনের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সরবরাহ (১ম সংশোধিত) প্রকল্পের অধীনে প্রদত্ত সৌরবিদ্যুৎ সুবিধা এবং বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশন পাঁচটি জাহাজ।

এ সময় শেখ হাসিনা ভিডিও কনফারেন্সে স্থানীয় সুবিধাভোগী, শিক্ষার্থী ও প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গেও মতবিনিময় করেন।       

এবিএন/সাদিক/জসিম

এই বিভাগের আরো সংবাদ