ভোলার ঘটনায় কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না : প্রধানমন্ত্রী

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ২০ অক্টোবর ২০১৯, ২০:৩৮ | আপডেট : ২১ অক্টোবর ২০১৯, ০৯:৩৩

ভোলায় স্থানীয় জনতা ও পুলিশ সংঘর্ষে চার জন নিহতের ঘটনায় দেশবাসীকে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়ে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘যারাই এ ঘটনায় জড়িত থাকুক, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ঘটনায় যারা ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের চেষ্টা করছেন, তাদের কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।’ 

আজ রোববার (২০ অক্টোবর) বিকেলে গণভবনে যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদকদের নিয়ে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।

এসময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘একটি মহল উদ্দেশ্যপূর্ণভাবে দেশে অশান্ত পরিবেশ সৃষ্টির জন্য এমন ঘটনা ঘটাতে পারে।’ তিনি বলেন, ‘দেশকে যখন আমরা এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি, তখনই দেখা যাচ্ছে কিছু ব্যক্তি জল ঘোলা করার চেষ্টা করছেন। যারা অপরাধী তাদের কোনও ক্ষমা নেই। আমরা কোনও অন্যায়-অবিচার বরদাশত করবো না। দেশকে জঙ্গিবাদ, মাদক ও সন্ত্রাসমুক্ত করতে যে অভিযান শুরু হয়েছে, তা চালিয়ে যাওয়া হবে।’

তিনি বলেন, ‘ভোলায় আইডি হ্যাক করা হয়েছে, তিনি জিডি করেছেন। আর যিনি আইডি হ্যাক করেছিলেন, তাকেও গ্রেফতার করা হয়েছে। আমার কথা হলো, আইডি হ্যাক করে যিনি নোংরা কথা লিখেছেন, তিনি তো মুসলমান। সত্যি যদি তার ধর্মে বিশ্বাস ও শ্রদ্ধা থাকতো, তাহলে রাসুল (সা.) সম্পর্কে তিনি এসব কথা লিখতে পারতেন না। তার পেছনে কারা আছে, তাদের খুঁজে বের করতে হবে। নবীর বিরুদ্ধে কেউ কিছু লিখলে তা যাচাই করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনগুলোর নিয়মিত সম্মেলন করার ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, ‘নিয়মিত সম্মেলন করলে দলে গতি আসে। যুবলীগের পর পর্যায়ক্রমে অন্যান্য সংগঠনের সঙ্গেও বৈঠক করা হবে।’

যুবলীগের নেতাকর্মীদের বঙ্গবন্ধুর ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ পড়ার পরামর্শ দিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘‘বঙ্গবন্ধুর ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’, ‘কারাগারের রোজনামচা’র পর তাকে নিয়ে গোয়েন্দা রিপোর্টের ওপরে বই বের করা হচ্ছে। ১৯৪৭ সাল থেকে বঙ্গবন্ধুর নামে যত রিপোর্ট আছে, সেগুলোও সংগ্রহ করা হয়েছে। রিপোর্টগুলোয় প্রায় ৪০ হাজার পাতা ছিল। সব পড়ে মূল কথা দিয়ে মোট ১৪টি খণ্ড ছাপানো হবে। এখন পর্যন্ত ৪টি খণ্ড ছাপানো হয়েছে।’ এসব রিপোর্ট থেকে সবাই সঠিক ইতিহাস জানতে পারবে।”

মাদক-দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযান প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, ‘মাদক-দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে।  দলের কারো বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ থাকলে দল কখনোই মেনে নেবে না।

সংগঠনের প্রেসিডিয়াম, সাধারণ সম্পাদক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদকদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর এ বৈঠকে যুবলীগের চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরী, প্রেসিডিয়াম সদস্য নুরুন্নবী চৌধুরী শাওন এমপি, শেখ ফজলুর রহমান মারুফ ও শেখ আতিয়ার রহমান দিপু উপস্থিত নেই। তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের দুর্নীতি-অনিয়মের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ ওঠায় বৈঠকে তাদের বাদ দেওয়া হয়েছে বলে জানা যায়।

তবে বৈঠকে অংশ নিতে শেখ ফজলুর রহমান মারুফ গণভবনে গেলেও তাকে ভেতরে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি।

বৈঠকে যুবলীগ সাধারণ সম্পাদক মো. হারুনুর রশীদ, প্রেসিডিয়াম সদস্য শেখ শামসুল আবেদীন, শহিদ সেরনিয়াবাত, মজিবুর রহমান চৌধুরী, মো. ফারুক হোসেন, মাহবুবুর রহমান হিরন, আবদুস সাত্তার মাসুদ, মো. আতাউর রহমান, অ্যাডভোকেট বেলাল হোসাইন, আলতাব হোসেন বাচ্চু, মো. সিরাজুল ইসলাম মোল্লা, আবুল বাশার, মোহাম্মদ আলী খোকন, অধ্যাপক এবিএম আমজাদ হোসেন, আনোয়ারুল ইসলাম, ইঞ্জিনিয়ার নিখিল গুহ, শাহজাহান ভুঁইয়া মাখন, অ্যাডভোকেট মোতাহার হোসেন সাজু, ডা. মোখলেছুজ্জামান হিরু, যুগ্ম সম্পাদক মহিউদ্দিন আহম্মেদ মহি, সুব্রত পাল, মনজুর আলম শাহীন, নাসরিন জাহান চৌধুরী শেফালী, সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম জাহিদ, আমির হোসেন গাজী, মুহা. বদিউল আলম, ফজলুল হক আতিক, আবু আহম্মেদ নাসিম পাভেল, আসাদুল হক, এমরান হোসেন খান, আজহার উদ্দিন ও ফারুক হাসান তুহিন উপস্থিত ছিলেন।

এবিএন/জনি/জসিম/জেডি

এই বিভাগের আরো সংবাদ