বিজ্ঞান ও কারিগরি শিক্ষাকে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে : প্রধানমন্ত্রী

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১৭ জুলাই ২০১৯, ১১:১৯

বিজ্ঞান ও কারিগরি শিক্ষার প্রতি আরও বেশি গুরুত্ব দিতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

আজ বুধবার গণভবনে এইচএসসি ও সমমানের ফল প্রকাশ অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, একটা সময় আমাদের ছেলেমেয়েরা বিজ্ঞান ও কারিগরি শিক্ষা গ্রহণে ভয় পেতো, এখন কারিগরি শিক্ষার হার দেখে বোঝা যায় সেটা তারা কাটিয়ে ওঠেছে। কম্পিউটারও ঠিকমতো চালাতে পারতো না। আমরা চেষ্টা করেছি সেই ভয় দূর করতে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় আসার পর বিজ্ঞান, কারিগরি ও স্বাক্ষরতার হার বাড়াতে আমরা উদ্যেগ নিয়ে ছিলাম। কিন্তু আমরা ২০০১ সালে আমরা আসতে পারিনি। এরপর ২০০৯ সালে আবার আমরা ক্ষমতায় এসে আজকে শিক্ষাক্ষেত্রে যে সাফল্য সেটা অর্জন করতে পেরেছি। একটা নীতিমালাও তৈরি করেছি, সে অনুযায়ী কাজ করছি।

শেখ হাসিনা বলেন, এবারও আমাদের ছাত্রীদের পাসের হার একটু বেশি। জেন্ডার সমস্যা বিশ্বব্যাপী প্রচলিত। এখন আমাদের বলতে হয়, আমাদের ছাত্রদের পাসের হার আরও বাড়াতে হবে, যেন জেন্ডার সমতা এসে যায়। 

তিনি বলেন, ‘এ বছর পাসের হার ৭৩. ৯৩ ভাগ। এটা ভালো। আশা করি, সামনে পাসের হার আরও বাড়বে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের লক্ষ্য ছিল, শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা ও ফল দুটোই যেন সময়মতো হয়, যাতে তাদের সময় নষ্ট না হয়। তারা যেন সময়মতো ভর্তি হতে পারে। এর জন্য ৬০ দিনের সময় বেঁধে দিয়েছিলাম। এর মধ্যেই পরীক্ষার ফল দিতে হবে এবং তা সময়মতোই হয়েছে। এর জন্য প্রতিটি বোর্ড, শিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে আমি ধন্যবাদ জানাই।

শেখ হাসিনা বলেন, একটা সমাজকে উন্নত করতে হলে একটি দেশকে দারিদ্র্য, ক্ষুধামুক্ত এবং উন্নত দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে হলে শিক্ষাই সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ। একটি শিক্ষিত জাতিই পারে দেশকে দারিদ্র্য, ক্ষুধামুক্ত ও উন্নত দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে। দেশ এগিযে যাচ্ছে, যাবে। বাংলাদেশ এখন উন্নয়নের রোল মডেল। এই গতি আমাদের ধরে রাখতে হবে। 

এর আগে  বুধবার সকাল ১০টায় গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে ফলাফলের অনুলিপি আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপুমনি। এ সময় দেশের সব শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানরা উপস্থিত ছিলেন।

এবার পরীক্ষা শেষের ৫৫ দিনের মাথায় ফল প্রকাশ করা হলো।  আটটি সাধারণ, মাদ্রাসা ও কারিগরিসহ ১০টি শিক্ষাবোর্ড থেকে এ বছর ১৩ লাখ ৩৬ হাজার ৬২৯ শিক্ষার্থী অংশ নেয়। এর মধ্যে পাস করেছে ৯ লাখ ৮৮ হাজার ১৭২ জন। ৮টি সাধারণ বোর্ডে পাসের পার ৭১.৮৫ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪১ হাজার ৮০৭ জন। মাদ্রাসা বোর্ডে পাসের হার ৮৮.৫৬ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে দুই হাজার ২৪৩ জন। আর কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ৮২.৬২ শতাংশ এবং জিপিএ ৫ পেয়েছে তিন হাজার ২৩৬ জন।

এবিএন/সাদিক/জসিম

এই বিভাগের আরো সংবাদ