দুর্যোগ মোকাবেলায় বাংলাদেশ রোলমডেল : প্রধানমন্ত্রী

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ২৪ জানুয়ারি ২০১৯, ১৩:৫০ | আপডেট : ২৪ জানুয়ারি ২০১৯, ১৭:৩৯

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, দুর্যোগ মোকাবেলায় বাংলাদেশ বিশ্বে রোলমডেল হওয়ার পথে এগিয়ে যাচ্ছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় বিনিয়োগ, দুর্যোগের পূর্বাভাস, উদ্ধার, আশ্রয়ণ ও পুনর্বাসনের জন্য বাংলাদেশ আজ এগিয়ে গেছে। এ বিষয়ে বিশ্বে স্বীকৃতিও মিলেছে।

আজ বৃহস্পতিবার (২৪ জানুয়ারি) হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে এশিয়া ও প্রশান্ত মাহসাগরীয় রিজিওনাল কনসালটিভ গ্রুপের চতুর্থ সেশনের উদ্বোধনে তিনি এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ডেল্টা প্ল্যানের আওতায় জলবায়ু পরিবর্তন ও দুর্যোগ ঝুঁকি রোধে সরকার কাজ করে যাচ্ছে। এ প্ল্যানের সঠিক বাস্তবায়নে দুর্যোগে প্রাণহানিসহ সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি কমিয়ে আনা ও দুর্যোগ মোকাবিলায় আরও কার্যকর ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে।

তিনি বলেন, দুর্যোগ মোকাবিলার অংশ হিসেবে কেবল প্রাকৃতিক দুর্যোগ নয় মনুষ্যসৃষ্ট দুর্যোগ মোকবিলাতেও সরকার কাজ করছে। এ বিষয়ে বিভিন্ন বাহিনী ও সংস্থাগুলোকে আধুনিক করা হচ্ছে। প্রযুক্তিগতভাবে স্বাবলম্বী হতে বিভিন্ন আধুনিক সরঞ্জামও সংগ্রহ করা হচ্ছে।

শেখ হাসিনা বলেন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় ত্রাণ মন্ত্রণালয় অবদান রেখেছে। মন্ত্রণালয়ের সঠিক কর্ম পরিকল্পনার কারণে সাম্প্রতিক সময়ের বিভিন্ন দুর্যোগ সভফলভাবে মোকাবেলা করা সম্ভব হয়েছে। এতে করে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কমানো হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা দুর্যোগ প্রতিরোধ করতে হয়তো পারব না, কিন্তু আমাদের দূরদর্শী কাজের মাধ্যমে দুর্যোগে যে ক্ষতিসাধন হয়, সেই ক্ষতির পরিমাণ হ্রাস করতে আমরা পারি। বাংলাদেশে আমরা ক্ষয়ক্ষতি হ্রাস ও ঝুঁকি প্রশমনের প্রতিই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব আরোপ করেছি।

শেখ হাসিনা তার লিখিত বক্তব্যে বলেন, ‘এশীয় প্রশান্ত মহাসাগরীয় এলাকায় বৃহদাকার মানবিক সংকটের সংখ্যা ক্রমবর্ধমান। তাই আমাদের এ অঞ্চলে মানবিক সহায়তা কার্যক্রমে অসামরিক-সামরিক সমন্বয়ের প্রাসঙ্গিকতা বৃদ্ধি পেয়েছে। দুর্যোগে সাড়াদানের ক্ষেত্রে অসামরিক এবং সামরিক বাহিনীর সদস্যরা যৌথভাবে বিভিন্ন কার্যক্রমে, বিশেষ করে অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযানে, মৃতদেহ ও জঞ্জাল ব্যবস্থাপনা বা সড়ক, সেতু মেরামত করতে কাজ করে যাচ্ছেন।’

তিনি বলেন, আমাদের সার্বিক জাতীয় কৌশলের অংশ হিসেবে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিষয়ে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা ছাড়াও বাংলাদেশ ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স, বাংলাদেশ পুলিশ, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), আনসার-ভিডিপি, বাংলাদেশ স্কাউটস, বিএনসিসি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে। বাংলাদেশকে ২০১৭ সালে এই গ্রুপের সভাপতি মনোনয়ন করায় আমি রিজিওনাল কনসালটেটিভ গ্রুপের সব সদস্য দেশকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি।’

প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে ‘রূপকল্প ২০২১ এবং ২০৪১’-এর উল্লেখ করে তিনি বলেন, এর দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়ে আমরা জাতীয় স্থিতিস্থাপকতার দিকে অগ্রসর হচ্ছি। মানবিক সহায়তা কার্যক্রমের জন্য আমাদের জাতীয় কাঠামো অসামরিক-সামরিক সমন্বয়বান্ধব। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা আইন-২০১২-এর আওতায় একটি একীভূত সমন্বয় কাঠামো প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।

শেখ হাসিনা বলেন, প্রায় ১১ লাখ জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমার নাগরিকের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ, অবকাঠামো নির্মাণ, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় অসামরিক-সামরিক সমন্বয়ে পরিচালিত কার্যক্রম, মানবিক সহায়তার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে টেকসই উন্নয়নের একটি নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে।

তিনি বলেন, সম্প্রতি আমরা ব-দ্বীপ পরিকল্পনা ২১০০ প্রণয়ন করেছি। এ পরিকল্পনার আয়তায় আগামী ১০০ বছরে টেকসই উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে এবং পর্যায়ক্রমে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে। নেদারল্যান্ডস সরকার এই চুক্তিতে আমাদের সঙ্গে আবদ্ধ আছে। আমরা তাদের সঙ্গে আমাদের ডেল্টা পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করব। এটি বাস্তবায়িত হলে জলবায়ু পরিবর্তন ঝুঁকি মোকাবিলাসহ দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস পাবে এবং খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী বিগত কয়েক বছরে ভূমিকম্পসহ অন্যান্য দুর্যোগ অনুসন্ধান ও উদ্ধারকাজ পরিচালনার জন্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় ২৩৬ কোটি টাকার সরঞ্জাম ক্রয় করে আর্মড ফোর্সেস ডিভিশন ও অন্যান্য সংস্থাকে হস্তান্তর করেছে বলেও উল্লেখ করেন।

সম্মেলনে মোট ২৬টি দেশ অংশগ্রহণ করেছে। এছাড়া অংশ নিয়েছে ২৪টি আঞ্চলিক এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার ১২০ জন প্রতিনিধি। উদ্বোধনী ও কারিগরি মিলিয়ে অনুষ্ঠিত হবে ১৮টি সেশন।

এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা ও সমন্বয়কারী সংস্থা ইউএনওসিএইচ-এর উদ্যোগে ২০১৪ সালে রিজিওনাল কনসালটেটিভ গ্রুপ (আরসিজি) গঠন করা হয়। সংগঠনটির উদ্দেশ্য ছিল সিভিল মনিটরিং সমেন্বয়ের মাধ্যমে বড় ধরনের দুর্যোগ মোকাবিলা কার্যক্রম বেগবান করা।

এবিএন/সাদিক/জসিম

এই বিভাগের আরো সংবাদ