পুলিশের ওপর মানুষের আস্থা ফিরেছে : প্রধানমন্ত্রী

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১২:১১ | আপডেট : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১৩:১১

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, একটি দেশকে উন্নত করতে হলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ঠিক রাখা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের পুলিশ বাহিনী অত্যন্ত সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে বাংলাদেশের জনগণের নিরপত্তা নিশ্চিত করতে সক্ষম হয়েছে। এখন পুলিশের ওপর মানুষের আস্থা ফিরেছে।

আজ রবিবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার দিকে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ ও গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ ইউনিটের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনকালে তিনি এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, গাজীপুর ও রংপুরের উন্নয়নে এই দুই পুলিশ ইউনিট ভূমিকা রাখবে। ফলে এসব অঞ্চলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা বাড়বে, ফলে অপরাধ নিয়ন্ত্রণে থাকবে ও জনসাধারণ নির্বিঘ্নে জীবনযাপন করতে পারবে।

পুলিশ বাহিনীর প্রশংসা করে শেখ হাসিনা বলেন, আসলে কাজের কথা বিবেচনা করে, আমি দেখেছি, পুলিশ বাহিনীকে অনেক কষ্ট করতে হয়। ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় এসে আমি দেখেছি মাত্র ২০ শতাংশ পুলিশ রেশন পেতো, আমি সেখান থেকে তা বাড়িয়ে দিয়েছি, ঝুঁকি ভাতা চালু করা থেকে শুরু করে অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে পদক্ষেপ নিয়েছি, তাদের আবাসন ব্যবস্থা করেছি। আজকে রংপুর ও গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের দুটি ইউনিউ চালু করছি যাতে এই দুই অঞ্চলের মানুষ আইনি সেবা পেতে পারে।

জঙ্গিবাদ দমনে পুলিশের ভূমিকার প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের এ দেশে বাংলাভাই, জঙ্গিবাদের বিস্তার ঘটেছিল। পুলিশ বাহিনীকে ধন্যবাদ জানাই, তারা সময়োচিত সিদ্ধান্ত নিয়ে দেশকে জঙ্গিবাদমুক্ত রাখতে চেষ্টা করে যাচ্ছে। তাদের কোনো কর্মঘণ্টা নেই। বিএনপি-জামায়াত জোটের অগ্নিসন্ত্রাসের শিকার হয়েছে পুলিশ বাহিনী। প্রায় ২৭ জন পুলিশ নিহত হয়েছে সে সময়।’ 

উত্তরবঙ্গের প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, উত্তরবঙ্গ একসময় অবহেলিত ছিল। আমরা সেখানে ইপিজেড করেছি। অর্থনৈতিক অঞ্চল করেছি। আমরা রংপুরকে বিভাগ করেছি। এখন রংপুরকে মেট্রোপলিটন পুলিশ ইউনিট ঘোষণা করছি। আমরা উত্তরবঙ্গের উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছি।

দেশের সার্বিক উন্নয়নের প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০৪১ সালে বাংলাদেশকে উন্নত দেশ হিসেবে গড়তে চাই। ২১০০ সালে বাংলাদেশকে কোনো জায়গায় দেখতে চাই সে পরিকল্পনা করে ডেল্টা প্ল্যান করেছি। প্রজন্মের পর প্রজন্ম সুন্দর উন্নত দেশে আমাদের শিশুদের জন্ম নিশ্চিত করতে পরিকল্পনা করছি।

উদ্বোধনের ফলে আজ থেকে রংপুর ও গাজীপুর মেট্রোপলিটনের  কার্যক্রম শুরু হলো।

২০১০ সালে দেশের সপ্তম বিভাগ প্রতিষ্ঠার পর রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ গঠনের সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। চালু হওয়া এ মেট্রোপলিটন পুলিশের আওতায় রয়েছে ৬টি থানা। এগুলো হলো- কোতোয়ালি, তাজহাট, মাহিগঞ্জ, হারাগাছ, পরশুরাম ও হাজিরহাট থানা। ২৪০ বর্গকিলোমিটার আয়তনের নতুন এ মেট্রোতে ৬টি থানা ছাড়াও দুটি পুলিশ ফাঁড়ি (ধাপ ও নবাবগঞ্জ) রয়েছে।  ১ হাজার ১৮৫ জন জনবল ও ১৩০টি যানবাহন নিয়ে নগরবাসীকে সেবা দিতে প্রস্তুত রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ। ইতোমধ্যেই পুলিশ কমিশনারসহ ৯০ ভাগ জনবল নিজ নিজ পদে যোগ দিয়েছেন। 

২০১৩ সালের ১৬ জানুয়ারি গাজীপুর পৌরসভাকে ১১তম সিটি করপোরেশন হিসেবে গেজেট প্রকাশ করে সরকার। ২০১৫ সালের ডিসেম্বরে মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই সিটি করপোরেশনে মহানগর পুলিশ গঠনে আইনের নীতিগত অনুমোদন দেয়া হয়। এ ছাড়া গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের আওতায় থাকবে ৮টি থানা। জিএমপির নতুন থানা ও এর অধিভুক্ত এলাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর আওতাধীন আটটি নতুন থানা হলো- সদর (বর্তমান জয়দেবপুর থানা), বাসন, কোনাবাড়ী, কাশিমপুর, গাছা, পূবাইল, টঙ্গী পূর্ব ও টঙ্গী পশ্চিম থানা।

এবিএন/সাদিক/জসিম

এই বিভাগের আরো সংবাদ