‘মানবিক কারণেই রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়েছে বাংলাদেশ’

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ০৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১২:৫৯ | আপডেট : ০৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১৮:৪৮

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, শুধু মানবিক দিক বিচার করেই রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়েছে বাংলাদেশ। এখন রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফিরিয়ে নিতে মিয়ানমারের ওপর চাপ অব্যাহত রাখতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

আজ ০৯ সেপ্টেম্বর (রবিবার) সকালে রাজধানীর একটি অভিজাত হোটেলে ইসলামী ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক ঢাকাস্থ ‘রিজিওনাল হাব’ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ বর্তমানে অত্যন্ত সক্রিয়ভাবে একটি মানবিক বিপর্যয় মোকাবেলা করছে। জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমারের নিপীড়িত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর জন্য বাংলাদেশ সীমান্ত উন্মুক্ত করে দিয়ে তাদেরকে প্রবেশ করতে দিয়েছে। নিজস্ব সম্পদ, বাস্তুসংস্থান এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর ওপর ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব রয়েছে জানা সত্বেও বাংলাদেশ বিশাল সংখ্যক রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী দেশে আসতে দিয়েছে।’

মানবিক দিক বিবেচনা করে বাংলাদেশ রোহিঙ্গাদের আশ্রয় ও খাদ্য দিয়ে যাচ্ছে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা এখন তাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠাতে চাই। বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে নিজ দেশে নিরাপদ ও স্থায়ী প্রত্যাবর্তনের জন্য বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক চুক্তিও সই হয়েছে।’

তিনি বলেন, মিয়ানমারকে চুক্তি বাস্তবায়নের জন্য চাপ অব্যাহত রাখতে আমি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সুনির্দিষ্ট কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য অনুরোধ জানাচ্ছি।

আওয়ামী লীগ সভানেত্রী বলেন, আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) নিপীড়িত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর নির্দেশনা দিয়ে গেছেন। মিয়ানমারের রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী যখন জাতিগত নির্মূলের মুখোমুখি, তখন আইডিবি নিশ্চুপ থাকতে পারে না। তাই রোহিঙ্গাদের নিরাপদে মিয়ানমারে ফিরে যাওয়া নিশ্চিত করতে আইডিবি’কে রোহিঙ্গাদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য সুদৃঢ় অনুরোধ জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, নতুন আঞ্চলিক প্রধান কার্যালয় স্থাপন এ অঞ্চলের অর্থনীতিকে দক্ষ, উন্নত ও গতিশীল করবে। এ উদ্যোগ সদস্য রাষ্ট্রগুলোর উন্নয়ন, অগ্রাধিকার, প্রয়োজনে চ্যালেঞ্জসমূহ আরও ঘনিষ্ঠভাবে বুঝতে আইডিবিকে সহায়তা করবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

বাংলাদেশের অগ্রযাত্রার বর্ণনা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মনুষ্য সৃষ্ট ও প্রাকৃতিকসহ নানা দুর্যোগ সত্বেও বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা থেমে থাকেনি। দারিদ্রসীমা ২২ শতাংশে নেমে এসেছে। জিডিপির আকার বিবেচনায় বাংলাদেশ ৪৩তম বৃহৎ অর্থনীতির দেশ। আর কর্মসমতা বিবেচনায় ৩২তম বৃহৎ অর্থনীতির দেশ।

বাংলাদেশের অর্থনীতির অগ্রগতির কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে জিডিপির প্রবৃদ্ধি ৭ দশমিক ৭৮ শতাংশ। মাথাপিছু আয় ১৭৫২ মার্কিন ডলার। গত ১০ বছরে মুদ্রাস্ফীতি ১২ দশমিক ৩ শতাংশ থেকে কমে দাঁড়িয়েছে ৫ দশমিক ৮ শতাংশে। রাজস্ব জিডিপি ১০ দশমিক ৩ শতাংশ।

তিনি আরো বলেন, চলতি অর্থবছর আমরা বাজেট দিয়েছি ৪ লাখ ৬৪ হাজার ৫৭৩ কোটি টাকার। রফতানি আয় ৩৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলারেরও বেশি আমদানি আয় ৪৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩২ দশমিক ৯ মার্কিন ডলার। বৈদেশিক রেমিটেন্স বছরে ১৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।

রিজিওনাল হাব প্রতিষ্ঠার জন্য বাংলাদেশকে বেছে নেয়ার জন্য আইডিবির প্রেসিডেন্ট ড. বন্দর এমএইচ হাজরকে ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী।

বাংলাদেশে বর্তমানে ইসলামিক উন্নয়ন ব্যাংকের ‘ফিল্ড রিপ্রেজেনটেটিভ অফিস’ রয়েছে। তবে ঢাকায় এর আঞ্চলিক প্রধান কার্যালয় হওয়ার পর ব্যাংকের সিদ্ধান্তমূলক কার্যক্রম প্রক্রিয়া দ্রুত হবে আশা করা হচ্ছে।

এবিএন/মাইকেল/জসিম/এমসি

 

এই বিভাগের আরো সংবাদ