নেপাল পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ৩০ আগস্ট ২০১৮, ১০:৪৮ | আপডেট : ৩০ আগস্ট ২০১৮, ১৩:৫৩

বে অব বেঙ্গল ইনিশিয়েটিভ ফর মাল্টিসেক্টরাল টেকনিক্যাল অ্যান্ড ইকোনমিক কো-অপারেশনের (বিমসটেক)-এর চতুর্থ শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে দুই দিনের সরকারি সফরে আজ বৃহস্পতিবার (৩০ আগস্ট) নেপাল গেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। 

স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা ২৫ মিনিটে বাংলাদেশ বিমানের একটি ভিভিআইপি ফ্লাইটে কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী। 

বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানান নেপালের উপ-প্রধানমন্ত্রী ঈশ্বর পোখারেল এবং নেপালে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মাশরাফি বিনতে শামস।

প্রধানমন্ত্রীকে মোটর শোভাযাত্রা করে বিমানবন্দর থেকে নিয়ে যাওয়া হয় হোটেল সোয়ালটি ক্রাউনি প্লাজায়। এ সফরে তিনি সেখানেই থাকছেন।

এর আগে আজ সকাল ৮টা ৫ মিনিটে বাংলাদেশ বিমানের একটি ভিভিআইপি ফ্লাইটে প্রধানমন্ত্রী এবং তার সফরসঙ্গীরা হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুর উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেন। 

কাঠমান্ডুর হোটেল সোয়ালটি ক্রাউন প্লাজায় আজ বিকালে সাতটি দেশের আঞ্চলিক এই জোটের নেতৃবৃন্দকে নিয়ে শীর্ষ সম্মেলন শুরু হবে। এর উদ্দেশ্য হচ্ছে দক্ষিণ ও দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক জোরদারের মাধ্যমে একটি সেতুবন্ধ তৈরি করা। শীর্ষ সম্মেলনে যোগদানের পাশাপাশি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, নেপালের প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলি এবং ভুটানের প্রধান উপদেষ্টা (অন্তবর্তী সরকারের প্রধান) দাশো সেরিং ওয়াংচুকের সঙ্গে বৈঠক করবেন।

সফরের প্রথম দিনই শেখ হাসিনা নেপালের প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলির সঙ্গে তার রাজপ্রাসাদের বাস ভবনে বৈঠক করবেন। পরে একই স্থানে ভুটানের প্রধান উপদেষ্টা দাশো সেরিং ওয়াংচুক প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ করবেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অন্যান্য বিমসটেক নেতাদের সঙ্গে রাষ্ট্রপতির বাসভবন শীতল নিবাসে সেদেশের রাষ্ট্রপতি বিদ্যা দেবী ভান্ডারীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। সেখানে নেপালের রাষ্ট্রপতির দেওয়া মধ্যাহ্ন ভোজেও অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী। বিকালে প্রধানমন্ত্রী অন্যান্য নেতাদের সঙ্গে সোয়ালটি ক্রাউন প্লাজা হোটেলে অনুষ্ঠেয় চতুর্থ বিমসটেক শীর্ষ সম্মেলনের উদ্বোধনী পর্বে যোগ দেবেন।

সন্ত্রাসবাদ মোকাবেলা, আঞ্চলিক যোগাযোগ এবং ব্যবসা-বাণিজের উন্নয়নের বিষয় সম্মেলনে অংশগ্রহণকারী দক্ষিণ ও দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর নেতাদের অলোচনার মূল বিষবস্তু হবে বলে মনে করা হচ্ছে। বাংলাদেশ, ভারত, মিয়ানমার, শ্রীলঙ্কা, থাইল্যান্ড, ভুটান ও নেপালের নেতারা সম্মেলনে তাদের তিন বাহিনীর সম্মিলিত সামরিক অনুশীলন এবং একটি মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষরের বিষয়েও মতবিনিময় করবেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং অন্যান্য নেতৃবৃন্দ স্থানীয় হায়াৎ রিজেন্সি হোটেলে তাদের সম্মানে নেপালের প্রধানমন্ত্রী কেপি শার্মা ওলী আয়োজিত নৈশভোজেও যোগ দেবেন। শুক্রবার বিকালে প্রধানমন্ত্রীর দেশে ফিরে আসার কথা রয়েছে।

এই উপ-আঞ্চলিক সংস্থাটি ১৯৯৭ সালের ৬ জুন ব্যাংকক ঘোষণার মধ্যদিয়ে গঠিত হয়। এর সদস্য দেশগুলোর মধ্যে ৫টি দক্ষিণ এশিয়ার। এগুলো হচ্ছে- বাংলাদেশ, ভুটান, ভারত, নেপাল, শ্রীলঙ্কা। অন্য দুটি দেশ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মিয়ানমার ও থাইল্যান্ড।

প্রাথমিকভাবে ৪টি সদস্য রাষ্ট্র নিয়ে একটি অর্থনৈতিক জোট গঠিত হয়েছিল। যার সংক্ষিপ্ত নাম ছিল ‘বিআইএসটি-ইসি’ (বাংলাদেশ, ভারত, শ্রীলংকা এবং থাইল্যান্ড ইকোনমিক কো-অপারেশন)। ১৯৯৭ সালের ২২ ডিসেম্বর থাইল্যান্ডের ব্যাংককে একটি বিশেষ মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে এই জোটে মিয়ানমারের অর্ন্তভুক্তির মাধ্যমে এর নতুন নামকরণ হয় ‘বিআইএমএসটি-ইসি’ (বাংলাদেশ, ভারত, মিয়ানমার, শ্রীলঙ্কা অ্যান্ড থাইল্যান্ড ইকোনমিক কো-অপারেশন)। ষষ্ঠ মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে (ফেব্রুয়ারি ২০০৪, থাইল্যান্ড) নেপাল এবং ভুটান অন্তর্ভুক্ত হলে জোটের নতুন নামকরণ হয় ‘বে অব বেঙ্গল ইনিশিয়েটিভ ফর মাল্টিসেক্টরাল টেকনিক্যাল অ্যান্ড ইকোনমিক কো-অপারেশন (বিমসটেক)।’

এই ধরনের একটি জোট গঠনের উদ্দেশ্য হচ্ছে বিশ্বায়নের আগ্রাসন মোকাবেলা করে আঞ্চলিক সম্পদ এবং ভৌগোলিক সুবিধাদি কাজে লাগিয়ে সবার স্বার্থে পারষ্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করা। খবর বাসস

এবিএন/সাদিক/জসিম

এই বিভাগের আরো সংবাদ