‘গ্রেনেড হামলায় খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান জড়িত’

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ২৪ আগস্ট ২০১৮, ১৮:৫৫ | আপডেট : ২৪ আগস্ট ২০১৮, ১৯:৫৩

ঢাকা, ২৪ আগস্ট, এবিনিউজ : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ২০০৪ সালের ২১ আগস্টের বর্বরোচিত গ্রেনেড হামলার হত্যাযজ্ঞে খালেদা জিয়া এবং তার সন্তান তারেক রহমান সরাসরি জড়িত এতে কোনো সন্দেহ নেই। রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাস বিরোধী সমাবেশে এ জঘন্য গ্রেনেড হামলায় বিএনপি, খালেদা জিয়া (সাবেক প্রধানমন্ত্রী) ও তার পুত্র তারেক রহমান সরাসরি জড়িত রয়েছেন এতে কোনো সন্দেহ নেই।

শেখ হাসিনা তিনি আজ ২৪ আগস্ট (শুক্রবার) সকালে ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট আওয়ামী লীগের সন্ত্রাস বিরোধী সমাবেশে গ্রেনেড হামলায় হতাহতদের স্মরণে বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে আয়োজিত এক সমাবেশে এসব কথা বলেন। এর আগে তিনি সেদিনের ঘটনাস্থল ২৩ বঙ্গবন্ধু এভিনিউস্থ আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের নিচে শহীদদের স্মরণে নির্মিত অস্থায়ী বেদিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান।

শেখ হাসিনা বলেন, আওয়ামী লীগের যে কোন সমাবেশের নিরাপত্তা বজায় রাখতে স্বেচ্ছাসেবক এবং ছাত্রলীগ নেতা ও কর্মীদের সমন্বয়ে গঠিত একটি স্বেচ্ছাসেবক গ্রুপ দায়িত্ব পালন করে থাকেন। তারা সাধারণত পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন ভবনের ছাদ থেকে এ দায়িত্ব পালন করেন।

তিনি বলেন, কিন্তু ওই দিন তাদের (স্বেচ্ছাসেবকদের) সমাবেশের আশেপাশের কোন ভবনের ছাদে থাকার অনুমতি দেওয়া হয়নি। সুতরাং এটা স্পষ্ট যে, কারা এ হামলায় জড়িত।

আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, হামলার সময় সেখানে উপস্থিত সেনা গোয়েন্দা সংস্থার এক সদস্য তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশ হেড কোয়ার্টারে ফোন করে এখানে কি হচ্ছে জানতে চাইলে তাকে ধমক দিয়ে সেখান থেকে সরে যেতে বলা হয়।

তিনি আরো বলেন, যেসব পুলিশ কর্মকর্তারা একটু সাহায্য করতে চেয়েছে তাদের সরকার ও বিএনপির পক্ষ থেকে তিরস্কার করে সেখান থেকে সরে যেতে বলা হয়। হতাহতদের সাহায্যে এগিয়ে না এসে পুলিশ বরং যারা সাহায্য করতে এসেছিল তাদের ওপর বেধড়ক লাঠিচার্জ ও টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে খুনীদের নির্বিঘ্নে পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দেয়া হয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের এতগুলো মানুষ হতাহত হলো কিন্তু সেটা নিয়ে সংসদে সে সময় কোন কথা বলতে দেওয়া হয়নি। কেউ কথা বলতে গেলেই মাইক বন্ধ করে দেয় আর সেটা নিয়ে নির্মম ব্যঙ্গোক্তি এবং হাসি-তামাশা-ঠাট্টা করে। কোন শোক প্রস্তাবও আনতে দেওয়া হয়নি।

তিনি বলেন, এমনও অপপ্রচার চালানো হয় এমনকি সংসদেও বলা হয়েছে, আমি নাকি ভ্যানিটি ব্যাগে করে গ্রেনেড এনে এই হামলা চালিয়েছি।

প্রধানমন্ত্রী এ সময় খালেদা জিয়া এবং বিএনপি নেতাদের দেওয়া বক্তব্যগুলো স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, এর কয়দিন আগেই খালেদা জিয়া এবং বিএনপি বলেছিল হাসিনা প্রধানমন্ত্রী তো দূরের কথা বিরোধী দলের নেতাও হতে পারবে না। আর আওয়ামী লীগ আগামী একশ’ বছরেও ক্ষমতায় যেতে পারবে না।

তিনি অারো বলেন, এ দেশের ১৫ আগস্টের খুনীদের মত ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় জড়িতদেরও তৎকালীন বিএনপি-জামায়াত সরকার পুরস্কৃত করে এবং তাদের বাহবা দেয়। আর তাদের দুঃখ ছিল আমি কেন মরলাম না, আর এটারই তারা বারবার খবর নেওয়ার চেষ্টা করে।

শেখ হাসিনা বলেন, ’৭৫ এ বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার পর ৬ বছর তাকে দেশে ফিরতে দেওয়া হয়নি। দেশে ফিরে আসার পর হত্যার জন্য বারবার তার ওপর আঘাত এসেছে উল্লেখ করে বন্ধবন্ধু কন্যা বলেন, বাংলাদেশের যেখানে গিয়েছি সেখানেই এই ধরনের পরিস্থিতির শিকার হতে হয়েছে। আল্লাহ আমাকে বাঁচিয়েছেন। আর আওয়ামী লীগের অসংখ্য নেতা-কর্মী জীবন বাজী রেখে আমাকে রক্ষা করেছেন। আর ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা থেকেও নিজেদের জীবন বাজী রেখে তারা আমার জীবন রক্ষা করেছেন।

এ সময় ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলায় নিহতদের রুহের মাগফিরাত ও আহতদের দ্রুত আরোগ্য এবং ’৭৫-এর ১৫ আগস্টের শহীদদের স্মরণে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।
পরে প্রধানমন্ত্রী নিহতদের পরিবার-পরিজন এবং আহতদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন।

শেখ হাসিনা এদিন সমাবেশস্থলে এসেই প্রথমে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শহীদদের স্মরণে নির্মিত অস্থায়ী বেদীতে পুুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এরপর আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ দলের নেতা-কর্মীদের নিয়ে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে শহীদদের বেদীতে শ্রদ্ধা জানান।

এসময় উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রিপরিষদ সদস্যবৃন্দ, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টাগণ, সংসদ সদস্যবৃন্দ, জ্যেষ্ঠ আওয়ামী লীগ এবং ১৪-দলীয় জোট নেতৃবৃন্দ, ২১ আগস্টে নিহতদের পরিবার ও আত্মীয়-স্বজন এবং সেদিন যারা আহত হন তারা।

উল্লেখ্য, ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট রাাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে সারাদেশে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের বোমা সন্ত্রাস এবং ব্রিটিশ হাইকমিশনার আনোয়ার চৌধুরীর ওপর হযরত শাহজালাল (র.)-এর মাজারে গ্রেনেড হামলার প্রতিবাদে অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগের শান্তিপূর্ণ সমাবেশে গ্রেনেড হামলা হয়। সে হামলায় মহিলা আওয়ামী লীগের সভানেত্রী এবং সাবেক রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের স্ত্রী আইভি রহমানসহ ২৪ জন নিহত এবং পাঁচ শতাধিক নেতা-কর্মী আহত হয়। আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের মানবঢাল রচনায় শেখ হাসিনা অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে গেলেও গ্রেনেডের শব্দে তার শ্রবণ শক্তিতে মারাত্মক সমস্যা হয়।

তথ্যসূত্র: বাসস।

এবিএন/মাইকেল/জসিম/এমসি

এই বিভাগের আরো সংবাদ