সরকার দুই পায়ের ওপর দাঁড়িয়ে রয়েছে: রিজভী

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১৬:৫২

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, এই সরকার দাঁড়িয়ে রয়েছে দুই ঠ্যাংয়ের (পা) ওপরে। দুটো পায়ের ওপরে নির্ভর করে আছে সরকার। একটা হচ্ছে যুবলীগ-ছাত্রলীগের সশস্ত্র সন্ত্রাসী আরেকটি হচ্ছে তাদের সাজানো আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এই দুটো পায়ের ওপরে সরকার দাঁড়িয়ে।

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থা জাসাসের আয়োজিত এক মানববন্ধনে তিনি এসব কথা বলেন। সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও তার পরিবারের সদস্যদের ব্যঙ্গ করে মিথ্যা, ভিত্তিহীন, বানোয়াট কাহিনী নির্ভর কুরুচিপূর্ণ প্রচারের প্রতিবাদে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

তিনি বলেন, আজকে যখন ক্ষমতার লোভে, হালুয়া-রুটির লোভে, কয়েকজন তথাকথিত সাংস্কৃতিকজীবীরা যাদের কোনো লেখা নাটক, কবিতা অথবা গান মানুষ কোনোদিন শুনেছে কিনা জানি না, তারা একটা নাটক লিখেছে ‘ইনডেমনিটি’। একটা চটি, বস্তা পচা একটা নাটক, সেটা কি কেউ জানে না। কিন্তু যেহেতু ক্ষমতায় আওয়ামী লীগ, আওয়ামী লীগকে সন্তুষ্ট করতেই, সরকারকে সন্তুষ্ট করতে এ নাটক বানানো হয়েছে। ধমক দিয়ে, হুমকি দিয়ে গণমাধ্যমকে বাধ্য করছে এটা প্রচারের জন্য। এখানে যে সাংস্কৃতিককর্মী যারা আছেন, তাদের দুই-একজনের সামান্য পরিচয় থাকতে পারে, কিন্তু নাটক লেখার মত.....।

বিএনপির এ নেতা বলেন, যারাই নাটক লিখেছে তাদের নাম কি আপনারা কেউ শুনেছেন? শোনেন নাই। কত বিখ্যাত বিখ্যাত লোকের নাম আমরা শুনেছি। কিন্তু এদের নাম কেউ শোনেনি। কেউ যখন এগিয়ে আসেনি তখন এদেরকে ভাড়া করা হয়েছে। তারাও দেখেছে আওয়ামী লীগ করলে টাকা পাচার করা যায়, ছাত্রলীগের নেতা শামীম দুই হাজার কোটি টাকা পাচার করতে পারে, তারাও ভেবেছে আমরাও একটু দালালি করে দেখি দুই-তিন কোটি টাকা উপার্জন করা যায় কিনা। ওরা দেখে আওয়ামী লীগ করলে ঢাকা শহরে ৫২টি ক্যাসিনো চালানো যায়। এবং কোটি কোটি টাকা ওখান থেকে উড়ে চলে যায় পৃথিবীর বিভিন্ন জায়গায়। তাই আমরাও চেষ্টা করি। জিয়াউর রহমান, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া, দেশের বরেণ্য রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, যার ঘোষণা না আসলে এই দেশের মানুষ দিকনির্দেশনাহীন থাকতো, মানুষকে যিনি দিশা দেখিয়েছেন। তাদেরকে অপমান করার জন্য এই নাটকটি লিখেছেন।

আওয়ামী লীগকে উদ্দেশ্য করে রিজভী বলেন, ওরা বলে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাস করে। এইসব সাংস্কৃতিকজীবীরা বেশি বেশি করে এসব কথা বলে। তারা এ নাটক লিখেছে। কারণ এর পিছনে আছে টাকার লোভ, হালুয়া-রুটি লোভ, পোলাও মাংসের লোভ । আরেকদিকে এই সময়ের সাংস্কৃতিক বীর আবু সালেহ নির্দ্বিধায় বুক চিতিয়ে গুম, মামলা-হামলার ভয় উপেক্ষা করে তাদের বিরুদ্ধে কোর্টে মামলা করেছে। এই সরকার এ মামলা কখনো কোর্টে টিকতে দেবে না,
কারণ কোর্ট তাদের, আদালত তাদের। বিরোধীদলকে শাস্তি দেওয়ার জন্য, দমন করার জন্য আদালতকে তারা কসাইখানায় পরিণত করেছে। সাংস্কৃতিক বীর আবু সালেহ, অন্যদিকে এই নাটকটি সাথে যারা জড়িত তারা সাংস্কৃতিক কাপুরুষ।

তিনি বলেন, এই সরকার ডিক্টেটর নয়, নাৎসিবাদের পর্যায়ে চলে গেছে। ডিক্টেটরের বিরুদ্ধে আন্দোলন করে তাকে পরাজিত করা যায়। কিন্তু নাৎসিবাদকে পরাজিত করার জন্য দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের মত যুদ্ধের প্রয়োজন হয়। ফ্যাসিবাদ ও নাৎসিবাদ ঠেকাতে গিয়ে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে হয়েছে। এই সরকারের পেছনে জনগণ নেই।

তিনি বলেন, আমি সরকারকে বলতে চাই এবং আওয়ামী লীগের সাংস্কৃতিক কর্মীদেরকে বলতে চাই, আপনার তো সরকারে আছেন নির্ভয়ে এটা করতে পারছেন। আর বিরোধীদল কথা বললে তাদের মিথ্যা মামলায় কারাগার, না হলে গুম হতে হয়। সরকারের সাথে জনগণ নেই, আমাদের পিছনে জনগণ আছে। আমাদের দেশের জনগণ আছে বলেই, এত অত্যাচার এত নিপীড়নের পরও আমরা আমাদের কণ্ঠে আওয়াজ তুলি। টেকনাফ থেকে তেতুলিয়াসহ সারা বাংলাদেশে এই আওয়াজ হয়।

আপনারা ইতিহাস বিকৃত করবেন, করতে পারেন। তোমার নেতা শেখ মুজিব আমার নেতা জিয়া, তার নামেই তো আন্দোলিত টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া। এই আওয়াজ আপনি বন্ধ করতে পারবেন না। জিয়ার নামে, খালেদা জিয়ার নামে কলঙ্ক লেপন করবেন, কিন্তু আওয়াজ বন্ধ হবে না। আমরা এখনো শার্টের বোতাম খুলে তপ্ত সীসার বুলেট ধারণ করতে পারি। আমরা সেই জাতীয়তাবাদী বাহিনী যারা আপনার এতো গুম-খুনের পরেও এখনো আমরা মাথা উঁচু করে মিছিল করি, আমরা আমাদের বক্তব্য রাখি, আমরা আমাদের কর্মসূচি পালন করি। এই অত্যাচার এর প্রতিশোধ একদিন জনগণ ঐতিহাসিকভাবে দিয়ে দিবে। অন্যায় করে বেশিদিন টিকে যায় না।

এবিএন/মমিন/জসিম

এই বিভাগের আরো সংবাদ