‘মূলধারার গণমাধ্যম গুজব ঠেকানোর ক্ষেত্রে জোরালো ভূমিকা রাখতে পারে’

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১৫ জুলাই ২০২০, ১৩:৩৮

আওয়ামী লীগের বিশেষ ওয়েবিনারের ১১তম পর্বে বক্তারা বলেছেন, মূলধারার গণমাধ্যম গুজব ঠেকানোর ক্ষেত্রে জোরালো ভূমিকা রাখতে পারে।

দলের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে প্রচারিত এই লাইভ অনুষ্ঠানে বক্তরা এই সঙ্কটে গণমাধ্যমে সঠিক তথ্য প্রবাহ নিশ্চিত, করোনা বিষয়ে সঠিক তথ্য প্রচার ও সরবরাহ, দুর্যোগ মোকাবিলায় সঠিক তথ্য প্রচারে গণমাধ্যমগুলোর ভূমিকা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।

এবারের পর্বের আলোচনার বিষয় ছিলো ‘করোনা সংকট মোকাবেলায় সঠিক তথ্যপ্রবাহ’। করোনাকাল ও পরবর্তী বাংলাদেশ নিয়ে আওয়ামী লীগের বিশেষ ওয়েবিনার ‘বিয়ন্ড দ্য প্যানডেমিক’-এর ১১তম পর্ব মঙ্গলবার রাতে অনুষ্ঠিত হয়।

রাত সাড়ে ৮ টায় বরাবরের মতোই পর্বটি সরাসরি প্রচারিত হয় আওয়ামী লীগের অফিশিয়াল ফেসবুক পেজ https://www.facebook.com/awamileague.1949 এবং অফিশিয়াল ইউটিউব চ্যানেলে https://www.youtube.com/user/myalbd.  একই সঙ্গে দেখা যায় বিজয় টিভির পর্দায় এবং ইত্তেফাক, সমকাল, যুগান্তর, ভোরের কাগজ, বিডিনিউজ২৪, বাংলানিউজ২৪, জাগো নিউজ২৪ ও সময় টিভি, বার্তা ২৪ ও সারা বাংলার ফেসবুক পেজে।

প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ব্যারিস্টার শাহ আলী ফরহাদের সঞ্চালনায় আলোচক হিসেবে যুক্ত থাকেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ এমপি, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহ্মেদ পলক এমপি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক, সুচিন্তা ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ এ আরাফাত, একাত্তর টিভির কারেন্ট এ্যাফেয়ার্স এডিটর মিথিলা ফারজানা ও ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য।

আলোচনায় অংশ নিয়ে হাসান মাহমুদ বলেন, করোনা সংকট শুরুর পর থেকেই যখনই প্রবাসীরা দেশে আসছিলো তখন তাদেরকে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টানে রাখার চেষ্টা করা হয়েছিলো। মানুষের ঘনত্ব বিবেচনায় বাংলাদেশ অন্য যে দেশের তুলনায় করোনা আক্রান্তের সংখ্যা কম।

তিনি বলেন, সব কিছু বন্ধ করে দেয়ার পর খেটে খাওয়া মানুষের কথা বিবেচনা করে প্রধানমন্ত্রী সরকারের পক্ষ থেকে ব্যপক ত্রান কার্যক্রম শুরু করেছিলেন যা এখনও চলমান আছে। প্রায় ৭ কোটি মানুষকে এখন পর্যন্ত সরকারিভাবে খাদ্য সহায়তা দেয়া হয়েছে। একই সাথে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে প্রায় ১ কোটি ২৫ লক্ষ পরিবারের কাছে ত্রান সহায়তা পৌছে দেয়া হয়েছে।

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বলেন, আমার সুরক্ষা আমার হাতে এই স্লোগানকে সামনে রেখে আমাদের প্রচেষ্টা ছিলো মানুষের কাছে সঠিক তথ্য উপস্থাপন করা। সংবাদপত্র ও টেলিভিশনের মাধ্যমে জনগন যাতে নিজেকে সুরক্ষা রাখতে পারে, সচেতন রাখতে পারে, সেই তথ্যটা পৌঁছানোর চেষ্টা করা হয়েছে। সচেতনতামূলক প্রচারনা এবং গুজবের বিরুদ্ধে সঠিক তথ্য প্রচার করা হয়েছে। সেই সাথে সংকট কালে বিরোধী দলের মানুষের পাশে না থেকে উলটো চলার রাজনীতিরও সমালোচনা করেন।

জুনাইদ আহ্মেদ পলক বলেন, বিশ্বের সকলকে এই সময়ে দুইটি মহামারির মোকাবেলা করতে হচ্ছে, একটি করোনা ভাইরাস মহামারি অপরটি মিথ্যা অপপ্রচারের মহামারি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ সরকার এইদুটি সংকটের সাথে সাথে আম্পান নামের একটি ঘুর্নিঝড়ের সাথেও মোকাবেলা করতে হয়েছে। আমরা সংকটের শুরুতেই একটি ওয়েবসাইট তৈরি করেছিলাম যেখানে করোনা সংকট মোকাবেলায় জনগনকে সচেতন করতে এবং কোন এলাকা ঝুকিপূর্ন, পাবলিক প্রেসক্রিপশন, কোন এলাকায় হাপাতালের সংখ্যা কত ও সেলফ টেস্ট সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য ছিলো।

আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক বলেন, সঠিক তথ্য সমাজে আলোর ভূমিকা পালন করে। এই করোনা সংকটের সময় সঠিক তথ্যই আমাদের পথ দেখাচ্ছে, তথ্যভ্রান্তির এই যুগে বস্তুনির্ভর তথ্যই আমাদের আলোর পথে নিয়ে যেতে পারে। সাধারন মানুষ সঠিক তথ্য পেতে গনমাধ্যমের উপর নির্ভর করে থাকে, এখানে তথ্যের উৎস থেকে যদি সরাসরি তথ্যটা গনমাধ্যমে প্রদান করা হয় তাহলে ভথ্যবিভ্রান্তটা কমে যায়।

মোহাম্মদ এ. আরাফাত বলেন, স্বাধীনতা বিরোধী অপশক্তিগুলোর জনগনের মধ্যে গুজব তৈরী এবং তা ছড়িয়ে দেয়ার ক্ষেত্রে সবসময় একটা উপযোগিতা আছে। এখন নতুন ভাবে তারা সোশাল মিডিয়া এবং কিছু কিছু ক্ষেত্রে গণমাধ্যমকে ব্যবহার করার চেষ্টা করে। মূলধারার গণমাধ্যম গুজব ঠেকানোর জন্য এসব অপশক্তির বিরুদ্ধে প্রশংসনীয় ভূমিকা পালন করেছে।

এবিএন/সাদিক/জসিম

এই বিভাগের আরো সংবাদ