শেখ হাসিনার সরকার ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সংস্কার ও উন্নয়নে কাজ করছে: কামাল

রাজশাহী, ১৭ জুলাই, এবিনিউজ : বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য ও সাবেক ছাত্রনেতা এস এম কামাল হোসেন বলেছেন, বঙ্গবন্ধু মদ, জুয়া, হাউজি, ঘোড়দৌড়, লটারি ও অসামাজিক কার্যকলাপ নিষিদ্ধ করেন। বঙ্গবন্ধুর পূর্বপুরুষ শেখ আবদুল আউয়াল দরবেশ (র.) ছিলেন ইসলামের প্রচারক। বঙ্গবন্ধুর জীবনে যে ধর্মীয় মূল্যবোধ ও চেতনা তা তিনি পরিবার থেকে পেয়েছিলেন।

তিনি আজ মঙ্গলবার রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী খাইরুজ্জামান লিটনের পক্ষে রাজশাহী মহানগরীর সকল মসজিদের ইমাম, মোয়াজ্জেম ও মসজিদ কমিটির নেতৃবৃন্দের সাথে মতবিনিময়কালে এসব কথা বলেন।

এস এম কামাল বলেন, জাতির পিতা ১৯৭৫ সালের ২২ মার্চ ইসলামিক ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা করেন। বিশ্ব ইজতেমা, কাকরাইল মসজিদ সম্প্রসারণ ও যাত্রাবাড়ী কওমী মাদ্রাসার জমি বরাদ্দ, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড পুনর্গঠন ও সম্প্রসারণ করেন। বাংলাদেশকে ওআইসি’র সদস্য করেন।

তিনি আরো বলেন, বঙ্গবন্ধুর শাসনামলে বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের সম্পর্ক সুদৃঢ় হয়। বাংলাদেশ হজ পালনের সুযোগ পায়। তিনি ‘হিজবুল বাহার’ নামক জাহাজ ক্রয় করেন।

তিনি বিএনপির সমালোচনা করে বলেন, মেজর জিয়া হজ পালনের জাহাজকে প্রমোদতরীতে পরিণত করেন। মদ ও জুয়ার অবাধ লাইসেন্স প্রদান করেন।

আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির এই নেতা বর্তমান সরকারের উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরে বলেন, বর্তমান সরকার আরবি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেছে। ১০০০ এর বেশি মাদরাসার একাডেমিক ভবন নির্মাণ ও ৮০টি মাদরাসায় অনার্স কোর্স চালু করা হয়েছে। হজের কার্যক্রম ডিজিটাল করা হয়েছে। জেদ্দা হজ টার্মিনাল প্লাজা ভাড়া নেওয়ায় হাজীদের দুর্ভোগ বহুলাংশে লাঘব হয়েছে। আশকোণা হজ ক্যাম্পে এসি ও লিফ্ট স্থাপন করা হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, বায়তুল মুকাররম জাতীয় মসজিদে ১৭০ ফুট সুউচ্চ মিনার নির্মাণ করা হয়েছে। ৫৬০০ জন মহিলার জন্য ‘মহিলা নামাযকক্ষ’ সম্প্রসারণ করা হয়েছে। মসজিদের সাহানে ২০ হাজার মুসল্লীর নামাযের স্থান সম্প্রসারণ করা হয়েছে। ১০১০টি ‘দারুল আরকাম’ নামে বিশেষায়িত মাদ্রাসা পরিচালনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এছাড়া মসজিদভিত্তিক শিশু শিক্ষা ও কুরআন শিক্ষা এবং দারুল আরকাম মাদরাসা পরিচালনার জন্য ২ হাজার ২৭২ কোটি টাকা বরাদ্দ প্রদান করা হয়েছে।

এস এম কামাল বলেন, প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় ১টি করে মোট ৫৬০টি মডেল মসজিদ কাম ইসলামী সাংস্কৃতিক কেন্দ্র’ প্রতিষ্ঠার কাজ হাতে নিয়েছে সরকার। এই মসজিদ কমপ্লেক্সে ইসলামিক ফাউন্ডেশন ভবনসহ মহিলাদের জন্য পৃথক নামায কক্ষ, মুসলিম পর্যটক ও মেহমানদের বিশ্রামাগার থাকবে। এখানে হজযাত্রীদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা, ইসলামী লাইব্রেরি ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রম অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

তিনি উল্লেখ করে বলেন, ২০১৬ সালে শিশুদের মধ্যে বিনামূল্যে ৪ লক্ষ ৫০ হাজার পবিত্র কুরআনুল করীম বিতরণ। এ বছর ৫ লক্ষ ১৫ হাজার পবিত্র কুরআনুল করিম বিতরণ করা হচ্ছে। আরবি, বাংলা ও ইংরেজি ভাষায় পবিত্র কুরআনের ডিজিটাল ভার্সন করা হয়েছে। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের কার্যক্রম ডিজিটাল করা হয়েছে। ডিজিটাল আর্কাইভ করা হয়েছে। মসজিদ, মাদরাসা, খানকা ও দ্বীনি প্রতিষ্ঠানের তথ্যসম্বলিত ডাটাবেস তৈরির কাজ চলছে।

কেন্দ্রীয় এই নেতা আরো বলেন, প্রায় ৩৯ কোটি টাকা ব্যয়ে ২১ হাজার ৫২০টি মসজিদ ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সংস্কার ও উন্নয়ন করা হয়েছে। ২৮ হাজার ৭৪২টি মসজিদ পাঠাগার স্থাপন করা হয়েছে। ইমাম-মুয়াজ্জিন কল্যাণ ট্রাস্টের মাধ্যমে কর্ম-অক্ষম ইমাম-মুয়াজ্জিনদের আর্থিক সুবিধা প্রদান করা হয়েছে। ট্রাস্টের সদস্যভুক্ত ইমামদের সুদমুক্ত ঋণ দেওয়া হচ্ছে। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে এ পর্যন্ত প্রায় ১ লক্ষ ৭৫ হাজার আলেমকে দীনী বিষয় ও কম্পিউটারসহ আর্থ-সামাজিক বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে। আলেম-ওলামাদের জন্য একটি অর্থনৈতিক জোন করার চিন্তা-ভাবনা চলছে।

তিনি উল্লেখ করে বলেন, হালাল খাদ্য ও পণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানে পর্যবেক্ষণ ও তত্ত্বাবধানের জন্য ইসলামিক ফাউন্ডেশন অনুমোদনপ্রাপ্ত একজন করে আলেম নিয়োগদানের বিষয়টি বিবেচনায় আছে। এতে আলেম ওলামাদের কর্মক্ষেত্র সম্প্রসারিত হবে। ২০০৯-১৭ সাল পর্যন্ত বর্তমান সরকার মাদরাসা ও ইসলামী শিক্ষা বিস্তারে বিভিন্ন যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। ফলে বর্তমানে মাদ্রাসা শিক্ষার ব্যাপক অগ্রগতি সাধিত হয়েছে।

জনাব কামাল ভবিষ্যতে সরকারের করণীয় বিষয়গুলি সম্পর্কে বলেন, দেশের সব জেলা ও উপজেলায় একটি করে মোট ৫৬০টি মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র স্থাপন করবে সরকার। ধর্ম মন্ত্রণালয়ের অধীনে প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় এসব মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র স্থাপনের কাজ করবে ইসলামিক ফাউন্ডেশন। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৯ হাজার ৬২ কোটি টাকা। এর মধ্যে সৌদি সরকারের অনুদান হিসেবে পাওয়া যাবে ৮ হাজার ১৭০ কোটি টাকা।

সভায় সভাপতিত্ব করেন সংসদ সদস্য রাজশাহী-২ আসনের সাংসদ ও বাংলাদেশ ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশা।

এছাড়াও অন্যান্যদের মধ্যে উপস্হিত ছিলেন কেন্দ্রীয় যুবলীগ নেতা শওকত, রাজশাহী মহানগরের আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও বিভিন্ন ওয়ার্ডের নেতৃবৃন্দ।

এবিএন/মাইকেল/জসিম/এমসি