'ছাত্র রাজনীতিকে জাতীয় রাজনীতি থেকে দূরে রাখতে হবে'

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ০২ ডিসেম্বর ২০১৯, ২১:৫৯

ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধ করার কোনো সিদ্ধান্ত সঠিক হবে না। ছাত্র রাজনীতি বন্ধ করা সমাধান নয়। বরং ছাত্র রাজনীতিকে জাতীয় রাজনীতি থেকে দূরে সরিয়ে রাখতে হবে।

ছাত্র রাজনীতি নিয়ে  সোমবার জাতীয় প্রেসক্লাবে এক গোলটেবিল বৈঠকে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা ও অতিথিরা একথা বলেন। 'বাংলাদেশের ছাত্র রাজনীতি ও প্রাসঙ্গিক ভাবনা' শীর্ষক এ বৈঠকের আয়োজন করে সুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজন।

বৈঠকে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন বলেন, রাজনৈতিক দলের সাংগঠনিক নিয়ন্ত্রণ থেকে মুক্ত হতে পারলে দেশের ছাত্র রাজনীতি এগিয়ে যাবে। ছাত্রদের হলে সিট পাওয়া, বেতন বৃদ্ধি- এসব বিষয় চাপা পড়ে যাচ্ছে। ছাত্র সংগঠনের সাংগঠনিক নিয়ন্ত্রণ দলীয় প্রধানের নিয়ন্ত্রণমুক্ত করতে হবে। তবেই ছাত্র সংগঠন স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারবে। জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডি সভাপতি ও ডাকসুর সাবেক ভিপি আ স ম আবদুর রব বলেন, বর্তমান সরকার নিজেদের পাপ আড়াল করতে ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধ করতে চাচ্ছে, যাতে ছাত্ররা কথা বলতে না পারে। কিন্তু তাদের কথা বলতে হবে। স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্বকে রক্ষা করার জন্য দেশে ছাত্র রাজনীতি থাকতে হবে।

সিপিবি সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেন, ছাত্র রাজনীতিতে এখন কৃষ্ণপক্ষ চলছে। কিন্তু সব কিছু অন্ধকারে হারিয়ে যায়নি। তাহলে গণজাগরণ মঞ্চ, কোটা সংস্কার আন্দোলন, নিরাপদ সড়কের আন্দোলন থেকে শুরু করে হালের আবরার হত্যার বিচারের আন্দোলন হতো না। তিনি বলেন, ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধ করা ঠিক হবে না। অবারিত করে দেওয়া দরকার।

ডাকসুর সাবেক ভিপি ও নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, ছাত্র রাজনীতি মানে জাতীয় রাজনীতির বড় জায়গা। সত্যের পক্ষে তারুণ্যকে সব সময় থাকতে হবে। সঠিক কথা বলতে হবে। দেশ আজ গভীর সংকটে। এর বিরুদ্ধে কি কথা বলা যাবে না? কথা বলতে হবে।

সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক আবু সাইয়িদ বলেন, ছাত্র রাজনীতিকে জাতীয় রাজনীতি থেকে বিযুক্ত করতে হবে। বর্তমানে জাতীয় রাজনীতি লুটেরাদের হাতে চলে গেছে। এ অবস্থা দূর করতে ঐক্য প্রয়োজন।

ডাকসুর সাবেক ভিপি ও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমানউল্লাহ আমান বলেন, দেশে বর্তমানে ঐতিহাসিক পরিবর্তন প্রয়োজন। ডাকসুর বর্তমান ভিপি নুরুল হক নুরকে বলব, তুমি নেতৃত্ব দাও। এ দেশের বুদ্ধিজীবী সমাজ, সাবেক ছাত্রনেতারা তোমাদের পাশে আছে। দেশ, মানুষ, গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা, মানবাধিকার ফিরিয়ে এনে ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে হবে।

ডাকসুর ভিপি নুরুল হক নুর বলেন, যে দল যখন ক্ষমতায় যায় তখন ছাত্র সংগঠনকে ব্যবহার করে হল দখল, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি করে। তারা ছাত্র সংগঠনগুলোকে লাঠিয়াল হিসেবে ব্যবহার করে। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকার কারণে ছাত্রলীগ লাগামহীন হয়ে পড়েছে। বিএনপি ক্ষমতায় থাকলে হয়তো ছাত্রদলও এমন লাগামহীন হয়ে পড়ত।

সভাপতির বক্তব্যে সুজনের নির্বাহী সদস্য ও সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব আলী ইমাম মজুমদার বলেন, শিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধি পেলে, ছাত্র রাজনীতি এই কলুষতা থেকে মুক্তি পাবে।

গোলটেবিল বৈঠকে আরও বক্তব্য দেন সিপিবির সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য রুহিন হোসেন প্রিন্স, শিক্ষাবার্তা সম্পাদক এ এন রাশেদা, সাংবাদিক অজয় দাশগুপ্তসহ অনেকে। সুজনের সাধারণ সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদারের সঞ্চালনায় 'বাংলাদেশের ছাত্র রাজনীতি ও প্রাসঙ্গিক ভাবনা' শীর্ষক প্রবন্ধ পাঠ করেন সুজনের সমন্বয়কারী দিলীপ কুমার শর্মা।

এবিএন/মমিন/জসিম

এই বিভাগের আরো সংবাদ