ছাত্রলীগ নেত্রী শ্রাবণীকে অপহরণ চেষ্টা, নিরাপত্তা চেয়ে জিডি

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১৯ মে ২০১৯, ১৮:১৯

অপহরণের আশঙ্কায় শাহবাগ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন শ্রাবণী ইসলাম দিশা নামে ছাত্রলীগের এক নেত্রী। গতকাল শনিবার রাত একটার দিকে থানায় গিয়ে ওই জিডি করেন তিনি। শ্রাবণী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রোকেয়া হল ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক।

পুলিশ জানায়, গতকাল সন্ধ্যায় শ্রাবণীর সঙ্গে একটি অপহরণ চেষ্টার ঘটনা ঘটে। এরপর নিজের নিরাপত্তাহীনতার আশঙ্কা প্রকাশ করে তিনি জিডি করেছেন। এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন ছাত্রলীগের সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী।

১৩ মে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যানটিনে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণার পর পদপ্রাপ্ত ও পদবঞ্চিতদের মধ্যকার হামলায় আহত হয়েছিলেন শ্রাবণী। তিনি পদবঞ্চিতদের পক্ষে সেদিন মধুর ক্যানটিনে অবস্থান নিয়েছিলেন।

শ্রাবণী দাবি করেন, ‘শনিবার দেড়টার দিকে এস কে রিমা পরিচয় দিয়ে একটি নম্বর থেকে কল আসে। এস কে রিমা বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি। রিমা বলে, আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল আমার সঙ্গে কথা বলতে চান। তখন আমি রিমাকে আমার মুঠোফোন নম্বর উপমন্ত্রীকে দিতে বলি। এর কিছুক্ষণ পর একটি নম্বর থেকে কল আসে। উপমন্ত্রীর পরিচয় দিয়ে বলেন, মধুর ক্যানটিনে হামলার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা হয়েছে। এরপর তিনি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করিয়ে দিতে চান। এ জন্য সন্ধ্যায় বাসায় গাড়ি পাঠানো হবে বলেও জানান।’

শ্রাবণী আরও বলেন, ‘হামলায় আহত হওয়ার পর কিছুদিন বিশ্রামের জন্য মোতালেব প্লাজায় আমার বড় বোন ছাত্রলীগের সাবেক নেত্রী বাণী ইয়াসমিন হাসির বাসায় উঠি। সন্ধ্যার দিকে রিমা সে বাসায় আসে। এরপর তাঁর ফোন থেকেই উপমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলিয়ে দেয়। তখন উপমন্ত্রী হামলার জন্য আমাকে সমবেদনা জানান এবং বলেন যে তিনি মিটিংয়ে আছেন। এরপর আবার রিমার সঙ্গে কথা বলতে শুরু করেন। এমন আচরণ ও উপমন্ত্রীর সঙ্গে রিমার কথা বলার ধরন দেখে আমাদের সন্দেহ হয়। বিষয়টি টের পেয়ে রিমা বাসা থেকে বেরিয়ে যায়। তার পিছু পিছু বাইরে এলেও তাঁকে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি।’

ছাত্রলীগের এই নেত্রী বলেন, ‘উপমন্ত্রীর পরিচয়ে কল করা নম্বরটি ফেসবুক মেসেঞ্জারে উপমন্ত্রীকে পাঠানো হলে তিনি নিশ্চিত করেন এটা তাঁর মুঠোফোন নম্বর নয়। এরপরই নিরাপত্তাহীনতায় থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করি। ধারণা করছি, কমিটি নিয়ে হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করেই অন্য কেউ এই চক্রান্ত করেছে।’

আজ বিকেলে জিডিতে উল্লেখ করা উপমন্ত্রী নওফেল পরিচয়ের নম্বরে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।

অপহরণ চেষ্টার অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে এস কে রিমা বলেন, ‘যে নম্বর থেকে শ্রাবণীর সঙ্গে উপমন্ত্রীর কথা হয়েছে ওই নম্বরে এর আগেও হাজার বার কথা বলেছি আমি। নওফেল ভাই আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হওয়ার পর থেকেই তাঁর সঙ্গে ওই নম্বরে যোগাযোগ হয়েছে। একই নম্বর থেকে ফোন করে শ্রাবণীর সঙ্গে যোগাযোগ করে দিতে বলাতেই আমি সেটা করেছি। এখন এটি অপহরণ চেষ্টা কী করে হলো, সেটা আমার মাথায় ঢুকছে না।’

ছাত্রলীগ নেত্রীর নিরাপত্তা চেয়ে জিডির বিষয়ে জানতে চাইলে শাহবাগ থানার পরিদর্শক (অভিযান) মাহবুবুর রহমান আজ দুপুরে বলেছেন, ‘ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।’


এবিএন/মমিন/জসিম
 

এই বিভাগের আরো সংবাদ