হয় লড়াই করে মা’কে আমাদের মাঝে ফিরিয়ে আনবো : নজরুল 

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ২৮ মার্চ ২০১৯, ১৯:৪৭

বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেছেন, যে গণতন্ত্রের জন্য দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ৯টি বছর লড়াই করেছেন, সেই দেশের কারাগারে আজ তিনি বন্দি আছেন একটি মিথ্যা ভিত্তিহীন অভিযোগে। শুধু তাই নয়, তিনি দারুণভাবে অসুস্থ। হাত নাড়াতে পারেন না, পায়ে বল পান না। উনি কিছু ধরে রাখতে পারেন না। ধীরে ধীরে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে তাঁকে।’

বৃহস্পতিবার দুপুরে (২৮ মার্চ) জাতীয় প্রেসক্লাবের তৃতীয় তলার কনফারেন্স লাউঞ্জে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে জাতীয়তাবাদী কৃষক দল আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

নজরুল ইসলাম খানবলেন,চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে কারামুক্ত করতে আমাদের সিদ্ধান্ত হোক, হয় আমরা লড়াই করে আমাদের মা’কে আমাদের মাঝে ফিরিয়ে আনবো আর না হয় আমরা সবাই আমাদের মায়ের কাছে চলে যাবো। উনি (খালেদা জিয়া) জেলখানায় তিলে তিলে মৃত্যুর দিকে চলে যাবেন, আর আমরা বসে বসে আলোচনা করবো আর মুক্তির দাবি করবো, এটা হতে পারে না। আগামী দিনে শক্তিশালী লড়াইয়ের আহ্বান জানাই।

তিনি বলেন, ‘ডাক্তাররা তাঁকে দেখতে যাবেন এটাও অনুরোধ করে হয় না। আদালতের নির্দেশে মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়, তারপর তারা দেখতে যায়। গত সাড়ে ৩ মাসে কেউ তাঁকে দেখতে যাননি। যিনি নানা রোগে আক্রান্ত তাঁকে এভাবে জেলে ফেলে রাখার অর্থটা কী? উদ্দেশ্যটা কী? আমরা ও আমাদের চিকিৎসকরা চেষ্টা করে যাচ্ছি তাঁর ন্যূনতম চিকিৎসা করার জন্য।’

আওয়ামী লীগ নেতাদের সমালোচনা করে সাবেক এই শ্রমিক নেতা বলেন, ‘যখন তারা জিয়াউর রহমানকে পাকিস্তানের চর বলেন তখন তারা এটা মনে রাখতে ভুলে যান, যে মানুষটি জিয়াউর রহমানকে মুক্তিযোদ্ধাদের সর্বোচ্চ খেতাব বীরউত্তমে ভূষিত করেছিলেন তিনি তাদেরই নেতা শেখ মুজিবুর রহমান। জিয়াউর রহমান যদি পাকিস্তানের চর হয় তাহলে তাঁকে যিনি বীরউত্তম খেতাব দিলেন পাকিস্তানের সাথে তার (বঙ্গবন্ধুর) সম্পর্ক কেমন ছিল? পাকিস্তানের একজন চরকে কে খেতাব দিলেন? এইটুকু বুদ্ধি আমাদের মন্ত্রীদের নাই। তারা জিয়াউর রহমানকে অসম্মান করতে গিয়ে তাদের নেতাকে (বঙ্গবন্ধুকে) অসম্মান করছেন, এটা তারা ভাবেননি।’

বাকশাল সংসদীয় গণতন্ত্রকে হত্যা করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বাকশালের বিরুদ্ধে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠাকারী জিয়াউর রহমান আর সৈরাচারী এরশাদের হাত থেকে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারকারী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া। বাকশালের মাধ্যমে শুধু গণতন্ত্রকে হত্যাই নয়, সংসদীয় গণতন্ত্রকে হত্যা করে রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার কায়েম করা হয়েছিল। বেগম খালেদা জিয়া সেই সংসদীয় গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনেন। বাংলাদেশে যা যা হরণ করার সেটা করেছে আওয়ামী লীগ, আর যা যা ফিরিয়ে আানার সেটা করেছে বিএনপি। এটিই ইতিহাস।’

তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, ‘প্রতিদিনই তিনি আজেবাজে কথা বলেন। যেসব কথার কোনও অর্থ হয় না। এসব কথা কেউ বিশ্বাস করে না। আমি বুঝিনা তারা নিজেরা নিজেদের ভালো বুঝেন কি না। এইটুকু বুদ্ধি আমাদের মন্ত্রীদের মধ্যে নাই। তারা যে তাদের নেতাকে অসম্মান করেছেন জিয়াউর রহমানকে অসম্মান করতে গিয়ে এটাও তারা বুঝে না।’

কৃষকদলের আহ্বায়ক শামসুজ্জামান দুদুর সভাপতিত্বে এবং সদস্য এসকে সাদীর সঞ্চালনায় আলোচনায় সভায় বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, কৃষকদলের সদস্য সচিব কৃষিবিদ হাসান জাফির তুহিন, যুগ্ম-আহ্বায়ক তকদির হোসেন মোহাম্মাদ জসিম, নাজিম উদ্দীন মাষ্টার, শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন, ওলামা দলের সাধারণ সম্পাদক হাফেজ মাওলানা নেছারুল হক, ছাত্রদলের দফতর সম্পাদক আব্দুস সাত্তার পাটোয়ারী, কৃষকদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট নাসির হায়দার, নাসির হাজারী, মিয়া মো: আনোয়ার, আলিম হোসেন, খলিলুর রহমান ইব্রাহিম, কে এম রকিবুল ইসলাম রিপন, মোজাম্মেল হক মিন্টু ও এম জাহাঙ্গীর আলম প্রমুখ বক্তব্য দেন।

এবিএন/মমিন/জসিম

এই বিভাগের আরো সংবাদ