দলকে শক্তিশালী করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে : ড. খন্দকার মোশাররফ 

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১৭:২৮

বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেছেন, দলকে শক্তিশালী করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। যেখানে যা দুর্বলতা আছে তা খুঁজে বের করে দলকে শক্তিশালী করা হবে। আপনারা হতাশ হবেন না।

শনিবার (২৩ ফেব্রয়ারি) জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘নিশি রাত্রির দ্বি-প্রহর’ ও ‘মিথ্যার কাছে জাতি পরাজিত’ গ্রন্থের প্রকাশনা, পাঠ ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।

ড. মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘একটি সভ্য ও গণতান্ত্রিক সমাজে সত্য পরাজিত, মিথ্যা প্রতিষ্ঠিত। গণতন্ত্রের মা, বেগম খালেদা জিয়া আজ কারাগারে বন্দি। দলকে শক্তিশালী করে তার মুক্তি আন্দোলনে নেমে পড়তে হবে। হতাশ না হয়ে জেগে উঠুন।’

নজিরবিহীন এক প্রহসনের মাধ্যমে গণতন্ত্র হত্যা করা হয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, ‘মৌলিক অধিকার হরণ করা হয়েছে মানুষের। এতো কিছু হরণ হয়ে গেলো। দেশের মানুষ এমনিতে বসে থাকবে, তা বিশ্বাস করি না। অনেকে বলেন, বিএনপি পরাজিত। নেতাকর্মীরা হতাশ। এটা সত্য নয়। আমি বলবো বিএনপি পরাজিত নয়। ২৯ ডিসেম্বরের ভোট ডাকাতি ও ৩০ ডিসেম্বরের প্রহসন দেখে আমাদের নেতাকর্মীরা হতভম্ব। 

এই সরকার স্বৈরাচার। আর কোনো স্বৈরাচার বেশি দিন টিকে থাকতে পারেনি। ভোট ডাকাতি করে একটি অস্বাভাবিক পরিস্থিতি সৃষ্টি করে টিকে থাকা যাবে না। মানুষ নিজের অধিকার প্রতিষ্ঠা করবে, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করবে, বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করবে।

চকবাজারের ঘটনায় শোক প্রকাশ করে মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘চকবাজারের ঘটনা ভয়াবহ। এই সরকার কোনো ট্রাজেডির পর কথা রাখেনি। কোনো প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করেনি। যা বলে তারা তা করে না। আমি মনে করি, আবাসিক এলাকায় সেখানে যেসব কেমিক্যাল গোডাউন আছে, তা আলাদা জায়গা নির্ধারণ করে তাদেরকে স্থানান্তর করতে হবে। নইলে চকবাজারের মতো আবারও ঘটনা ঘটতে পারে।’

বিএনপির ভাইস-চেয়ারম্যার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দীন আহমেদ বীর বিক্রম বলেছেন, ‘কিভাবে গভীর রাতে ভোট কারচুপি করতে হয় সেটার জন্য সারা বিশ্বে ট্রেনিং দেয়ার দক্ষতা অর্জন করেছে বর্তমান অবৈধ সরকার।’

তিনি বলেন, ‘সংসদ নির্বাচনের পরে একটি মজার বিষয় লক্ষ্য করলাম আমাদের দেশের দেড় হাজার আমলাকে ট্রেনিং দেয়ার জন্য ভারতে পাঠানো হয়েছে। আমার প্রশ্ন ওটা (ভারত) কি খুব উন্নত দেশ যে ওখানে আমাদের আমলাদেরকে ট্রেনিং দেওয়া হবে। 

সত্যিকারের সিদ্ধান্ত যদি এমন হতো প্রশংসা করতাম আমাদের দেশে ওই দেশ থেকে দেড় হাজার আমলা ট্রেনিংয়ের জন্য আসছে একটা বিষয়ের উপরে যে কিভাবে গভীর রাতে ভোট কারচুপি করতে হয়। কারণ এটার জন্য শুধু ভারত কেন সারা বিশ্বে আমরা ট্রেনিং দেয়ার দক্ষতা অর্জন করেছি।’

মেজর হাফিজ নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, ‘একটি বিষয়ে আমি আশার বাণী শোনাতে চাই এই সরকার শেষ সরকার নয়, ইনশাআল্লাহ যথাসময়ে এই অবৈধ সরকারের পতন ঘটবে। সেই পতন বিএনপি ঘটাতে পারবে কিনা আমি সেই ব্যাপারে নিঃসন্দেহ নই, আমরা পারবো কিনা জানিনা তবে বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ অত্যন্ত লড়াকু তারা এই ধরনের স্বৈরশাসককে কখনো বরদাস্ত করবে না।’

তিনি বলেন, ‘সরকারের শুভ বুদ্ধির উদয় হত যদি গণতন্ত্রের মাধ্যমে, ব্যালটের মাধ্যমে তাদের পরিবর্তন হতো সেটা দেশের জন্য খুব ভালো হতো।

বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘এই দেশ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে গণতন্ত্রের জন্য বাংলাদেশের অভ্যুদয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত করার জন্য। সেই গণতন্ত্রকে বিদায় দিয়েছে এই সরকার। আমরা চেয়েছিলাম গণতন্ত্রের মাধ্যমে ব্যালটের মাধ্যমে তাদের বিদায় হোক কিন্তু সেটি তারা মানতে রাজি নয় সুতরাং আমরাও দর্শকের ভূমিকায় থাকলাম অপেক্ষা করে দেখব কিভাবে তাদের পরিবর্তন হয়। কিভাবে তাদের পতন হয় তবে যেতে তাদেরকে হবেই বাংলাদেশ থেকে নইলে এদেশের ইতিহাস সভ্যতা প্রকৃতি সব কিছুই মিথ্যে হয়ে যাবে।’

অনুষ্ঠানে স্ব-রচিত ‘নিশি রাত্রির দ্বি-প্রহর’ ও ‘মিথ্যার কাছে জাতি পরাজিত’ গ্রন্থ সম্পর্কে তৈমুর আলম খন্দকার বলেন, ‘মানসিক দাসত্বের কারণে আজ বিবেকের স্বাধীনতা ধ্বংস হয়ে গেছে। দেশের জনগণ ও গণতন্ত্র অসহায় হয়ে পড়েছে সরকারের স্টিমরোলারের কাছে। এসব বিষয় তুলে ধরা হয়েছে গ্রন্থ দুটির ভেতর।’

তিনি বলেন, ‘গ্রন্থ দুটিতে দেশ, জনগণ ও সরকারের বিষয়ে অনেক কিছু লেখা হলেও মূলে রয়েছে বর্তমান সরকারের স্বরূপ উন্মোচন। বই দুটি পড়ে দেশের মানুষ উপকৃত হবে। গণতন্ত্রকামী মানুষ তাদের মুক্তির সনদ খুঁজে পাবেন।’

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদুর সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিব, তৈমুর আলম খন্দকার, কবি আবদুল হাই শিকদার, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা:মোস্তাফিজুর রহমান ইরান প্রমুখ বক্তৃতা করেন।

এবিএন/মমিন/জসিম

এই বিভাগের আরো সংবাদ
well-food