৬৯-এ সমগ্র বাঙালি জাতি স্বাধীনতার আকাঙ্খায় উজ্জীবিত হয়েছিল: তোফায়েল 

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ২০:৩৮ | আপডেট : ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ২১:০২

১৯৬৯ সালে সমগ্র বাঙালি জাতি স্বাধীনতার অগ্নি-আকাঙ্খায় উজ্জীবিত হয়েছিল বলে জানিয়েছেন ৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানের নায়ক তোফায়েল আহমেদ। আজ সোমবার অমর একুশে গ্রন্থ ’মেলার মূলমঞ্চে ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধি অর্জনের সুবর্ণজয়ন্তী শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা জানান।

তোফায়েল আহমেদ বলেন, ৬৯-এ সমগ্র বাঙালি জাতি স্বাধীনতার অগ্নি-আকাঙ্খায় উজ্জীবিত হয়েছিল। সংগ্রামী ছাত্রজনতার সঙ্গে মিলেমিশে গিয়েছিল কৃষক, শ্রমিক, মেহনতি মানুষের মুক্তির দাবি। উপনেবিশের শৃঙ্খল ভেঙে স্বাধীন সার্বভৌম বাঙালি জাতিরাষ্ট্রের ভিত্তি স্থাপন হয়েছিল আসাদ, মতিয়ুর, সাজর্ন্টে জহুরুল হক, শামসুজ্জোহা প্রমুখের রক্তে। জাতীয় মুক্তি সংগ্রামকে গতিবেগ দিয়েছে মিথ্যা মামলা থেকে বঙ্গবন্ধুর কারামুক্তির দাবি। 

অবশেষে ছাত্রজনতার গণসংর্বধনায় ১৯৬৯-এর ২৩ ফেব্রুয়ারি শেখ মুজিবকে ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধি প্রদানের মাধ্যমে যেন আসন্ন স্বাধীনতা সংগ্রামের মহানায়ক হিসেবে যেন জাতির সামনে উপস্থাপন করা হয়। জাতির সে প্রত্যাশা তিনি পূরণ করেছেন। বাংলার বন্ধু হয়ে বাংলার মানুষের জন্য হাজার বছরের প্রতীক্ষিত স্বাধীনতা উপহার দিয়েছেন। 

স্বাগত বক্তব্যে হাবীবুল্লাহ সিরাজী বলেন, আজকের আলোচনা অনুষ্ঠানটি ঐতিহাসিক তাৎপর্যের দাবি রাখে কারণ ৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানের নায়ক তোফায়েল আহমেদ এ অনুষ্ঠানে জাতির পক্ষ থেকে শেখ মুজিবকে ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধিতে অভিষিক্ত করার বিষয়ে বক্তব্য রাখতে উপস্থিত হয়েছেন। 

এই প্রাবন্ধিক বলেন, ঐতিহাসিক বাস্তবতা হচ্ছে, ১৯৬৯-এ ২৩ ফেব্রুয়ারি রেসকোর্স ময়দানে তোফায়েল আহমেদ যখন শেখ মুজিবকে ‘বঙ্গবন্ধু’ উপধিতে ভূষিত করার ঘোষণা দেন তখন মঞ্চে উপস্থি’ত ছাত্রলীগ, ছাত্র ইউনিয়ন (মতিয়া) ছাত্র ইউনিয়ন  মেনন) ও ডাকসুসহ সকল ছাত্র নেতৃবৃন্দ রেসকোর্সের লক্ষ জনতার সাথে দু-হাত তুলে এই ঘোষণার প্রতি সমর্থন জানান। সর্বসম্মতিক্রমেই শেখ মুজিবকে ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধিতে ভূষিত করা হয়। কেউ কেউ কিছু না জেনেই ভিত্তিহীন মতদ্বৈধতার প্রশ্ন তুলতে চান, কেউ আবার ‘বঙ্গবন্ধু’ শব্দটি আগেই চয়ন ও ব্যবহারের কীর্তি দাবি করেন- যার কোনো ঐতিহাসিক মূল্য নেই। আগরতলা মামলা প্রত্যাহারের ৫০ বছর পূর্তি এবং শেখ মুজিবকে ‘বঙ্গবন্ধু উপাধিতে ভূষিত করার ৫০ বছর পূর্তিতে আমাদের মনে রাখতে হবে এ দুটি ঘটনাই ছিল ইতিহাসের অনিবার্য পরিণতি এবং বাঙালি জাতির সম্মিলিত ইচ্ছার মহত্তম প্রকাশ। 

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক হাবীবুল্লাহ সিরাজী। প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ড. নূহ-উল-আলম লেনিন।

আলোচনায় আরো উপস্থিত ছিলেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক হারুন অর রশিদ, কথাসাহিত্যিক আনোয়ারা সৈয়দ হক এবং বিশিষ্ট মিডিয়া ব্যক্তিত্ব সুভাষ সিংহ রায়। 

এবিএন/মমিন/জসিম

এই বিভাগের আরো সংবাদ
well-food