গণমাধ্যমের হাত-পা বাঁধতে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন পাশ: রিজভী

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১৫:৩০ | আপডেট : ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১৫:৩৬

বাংলাদেশের মানুষের মুখ বন্ধ করতে এবং গণমাধ্যমের হাত-পা বাঁধে ফেলতে গতকাল ভোটারবিহীন সংসদে বির্তকিত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন পাশ করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।


আজ বৃহস্পতিবার (২০ সেপ্টেম্বর) নয়াপল্টনে সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, সরকারের লাখ লাখ কোটি টাকার দূর্নীতি ধামাচাপা দিতেই এই কালো আইন করা হয়েছে। গণমাধ্যমে অথবা যেকোন মাধ্যমইে যাতে দূর্নীতির কোন খবর প্রকাশিত না হয়, অথবা প্রকাশ করতে না পারেন সেজন্যই এই ন্যাক্কারজনক কালো আইন তৈরী করা হলো। 

রিজভী বলেন, এই কালো আইনে মানুষের সকল বাক-ব্যক্তি স্বাধীনতা হরণ করা হয়েছে। দুর্নীতি ও মানবধিকার লঙ্ঘনের মত অপরাধের বিস্তার লাভ করার সুযোগ দেয়া হয়েছে। এটি সংবিধান বিরোধী একটি আইন। কারণ এ আইনে সংবিধানের মূল চেতনা বিশেষ করে মুক্ত চিন্তা, বাকস্বাধীনতা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, গণমাধ্যমের স্বাধীনতাসহ মৌলিক অধিকার ক্ষুন্ন করা হয়েছে।

তিনি বলেন, ডিজিটিাল নিরাপত্তা আইনের কারণে দেশের মানুষের নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়ল। কারণ আইন শৃঙ্খলাবাহিনী এখন বিনা ওয়ারেন্টে সংবাদপত্র ও সাংবাদিকদের অফিস ঢুকে তল্লাশীর নামে তান্ডব চালাতে পারবে, কম্পিউটারসহ সকল কিছু সীজ করতে পারবে, যে কাউকে গ্রেফতার করতে পারবে। সাধারণ মানুষও এই কালো আইনের থাবা থেকে রেহাই পাবে না।

বিএনপির এই নেতা আরো বলেন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন নামক এই কালো আইনের ৮, ২১, ২৫, ২৮, ২৯, ৩১, ৩২ ও ৪৩ ধারা সংবিধান পরিপন্থী। এই আইন বাকশালেরই প্রেতাত্মা। এই কালাকানুনের বিরুদ্ধে দেশবাসীসহ সকল গণমাধ্যমের কর্মী, মুক্ত চিন্তার মানুষদের রুখে দাঁড়ানোর আহবান জানাচ্ছি।

এসময় রিজভী বলেন, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিএনপি’র মনোনয়ন চূড়ান্ত করা হয়েছে বলে তালিকা করে আজগুবি সংবাদ প্রকাশ করছে কিছু গণমাধ্যম। উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে দেশব্যাপী সংসদীয় এলাকায় বিএনপি’র নামে ভুয়া প্রার্থী তালিকা ছাপানো হচ্ছে। এটি সম্পূর্ণরুপে একটি চক্রান্ত এবং সরকারের বিভিন্ন এজেন্সিরাই মিথ্যা তালিকা প্রকাশে কাজ করছে। আমি দলের পক্ষ থেকে এধরণের বানোয়াট সংবাদ প্রচার ও প্রকাশ থেকে বিরত থাকার জন্য গণমাধ্যমের প্রতি আহবান জানাচ্ছি।

এবিএন/শাও/জসিম/এমসি

এই বিভাগের আরো সংবাদ