গণতন্ত্রের গলা টিপে ধরা হয়েছে: নজরুল ইসলাম

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১৫:১০

বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, গণতন্ত্রের গলা টিপে ধরা হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে জাতীয় প্রসক্লাবে নাগরিক অধিকার আন্দোলন ফোরাম আয়োজিত অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আদায়ে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের ভূমিকা ও আমাদের করণীয় শীর্ষক এক আলোচনা সভায় তিনি এমন মন্তব্য করেন।

তিনি আরও বলেন, আজ মৃতপ্রায় গণতন্ত্র যদি নিহত হয় তাহলে আবার কখন গণতন্ত্র ফিরে পাই তার ঠিক নেই। সরকার এখন এক অস্বাভাবিক মন মসনসিকতা নিয়ে আছে। কারণ তাদের মধ্যে ভীতি ঢুকেছে। এটি পরাজয়ের ভয়। পরাজয়ের পর কি হবে তার ভয়।

আওয়ামী লীগ নেতাদের বক্তব্য তুলে ধরে তিনি বলেন, খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম এক বক্তব্যে বলেছেন নিবাচনে হেরে গেলে আওয়ামী লীগ নাকি রোহিঙ্গা হয়ে যাবে। তোফাইল বলেন, এক লাখ মানুষ মারা যাবে।

নজরুল ইসলাম বলেন, কিন্তু আওয়ামী নেতাদের এসব বক্তব্য ভূল। গণতান্ত্রিক নির্বাচনে কেও হারবে, কেও জিতবে এটাই নিয়ম। আমরা কেও কারোর শত্রু নই। আমরা রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী। আমরা কারোর ক্ষতির চিন্তা করি না। রাজনীতি করি তো আবেগ থেকে, দেশকে ভালোবেসে। কারো ক্ষতির জন্য নয় বলেও মন্তব্য করেন নজরুল ইসলাম খান।

জোটের এই জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, কিন্তু অত্যন্ত বেদনার সঙ্গে বলতে হচ্ছে আমরা যেন আজ ৭৫ পূর্ববর্তী সময়ে ফিরে যাচ্ছি৷ রাজনৈতিক দলগুলোকে কাজ করতে না দেয়া এবং দলগুলোকে নিষিদ্ধ করে দেয়া একই কথা বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

নতুন আইনের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ডিজিটাল আইন পাশ হয়েছে৷ যেটি স্বাধীন সাংবাদিকতার জন্য হুমকি। যেখানে স্বাধীন মিডিয়া, বিচার বিভাগ থাকতে পারবে না। সেখানে গণতন্ত্র থাকবে কি করে? গণতন্ত্র কোনো বস্তু না। এটি একটি ব্যবস্থা বলেও মন্তব্য নজরুল ইসলাম খানের।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ বিএনপি প্রতিদ্বন্দ্বী হতে পারে। কিন্তু আমরা একে অপরকে আঘাত করবো না। কিন্তু তবুও সরকার ভীত অবস্থায় আছে। মোটামুটি কোন রকমেরও যদি একটি নিরপেক্ষ নির্বাচন হয়। তাহলে আওয়ামীলীগ জিততে পারবে না। আ.লীগের লজ্জাজনক পরাজয় হবে। তাই তারা ভয়ে আছে। আমি বলি, রাজনতিতে ভয়ের কি আছে? সবসময় জিতবেন নাকি? কখনো হারবেন, কখনো জিতবেন। কখনো বিরোধী দলে থাকবেন৷

আমাদের নেত্রী বলেছেন, আমরা প্রতিহিংসার রাজনীতি করি। প্রতিহিংসা থেকে আমরা কারো বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ আমরা নেব না। কাজেই ভয় পাবেন না। নিরপেক্ষ নির্বাচন দেন। খালেদা জিয়া অসুস্থ। তাকে মুক্তি দিয়ে দেন।  তাকে সাজা দিয়েছেন ৫ বছরের। কিন্তু তাকে বিনা চিকিৎচায় মরে যেতে হবে এমন কোনো অপরাধ তো তিনি করেননি বলেও মন্তব্য নজরুলের। 

তিনি আরো বলেন, আমি দাবি করছি, অবিলম্বে তার সুচিকিৎসা দিন।  সরকার একটি অসৎ প্রক্রিয়ায় এগুচ্ছে। এই আচরণ গণতান্ত্রিক আচরণ নয়। এরকম অত্যাচার আমরা ৭৫ পূর্ববতী সময়ে রক্ষী বাহিনীকে করতে দেখেছি।

সংগঠনের সহ-সভাপতি মোঃ মুজিবর রহমান চৌধুরীর সভাপতিত্বে সভায় আরো বক্তব্য রাখেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান সেলিনা রহমানসহ অন্যান্য নেতাকর্মী।

এবিএন/শাও/জসিম/এমসি

এই বিভাগের আরো সংবাদ
well-food