রাজধানীতে ১০৭ সহ সারা দেশে ১৫০ নেতাকর্মী আটক: রিজভী

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১৮:১৩

কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সুচিকিৎসা ও তার নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে দলটির পূর্বঘোষিত অনশন কর্মসূচিকে ঘিরে সারা দেশে বিএনপির অন্তত ১৫০ নেতাকর্মীকে আটক করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন দলটির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। এর মধ্যে রাজধানী ঢাকায় কর্মসূচি থেকে দলের ১০৭ নেতাকর্মীকে আটক করেছে পুলিশ।

রিজভী বলেন, ‘আজ আমাদের প্রিয় নেত্রীর মুক্তির দাবিতে শান্তিপূর্ণ অনশন কর্মসূচির জন্য ডিএমপি অনুমতি দিলেও তারা ইঞ্জিনিয়ার ইনস্টিটিউশনে আসা যাওয়ার পথে গতিরোধ করে এখন পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী ১০৭ জনকে আটক করেছে। এছাড়া ঢাকার বাইরেও ৪৪ জনকে আটকের তথ্য আমরা পেয়েছি।’

আজ বুধবার (১২ সেপ্টেম্বর) পূর্বঘোষিত প্রতীকী অনশন কর্মসূচি শেষে নেতাকর্মীদের আটক ইস্যুতে বিকেলে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব তথ্য তুলে ধরেন। 

রুহুল কবীর রিজভী বলেন, ‘আজ কেন্দ্রঘোষিত কর্মসূচি ‘প্রতীকী অনশন’কে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিএনপির নেতাকর্মীদের ওপর ব্যাপক তাণ্ডব চালিয়েছে। পুলিশ বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েছে এবং তাদের নির্বিচারে আটক করেছে।’ 

‘বিরোধীদলকে দলনের এক নতুন ফন্দি অবলম্বন করেছে পুলিশ’ এমন মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘বিএনপি’র কর্মসূচির মৌখিক অনুমতি দেয়ার পরও শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির ওপর পুলিশকে লেলিয়ে দিয়ে নোতকর্মীদেরকে আটকের এক নতুন স্ট্র্যাটেজি অবলম্বন করেছে সরকার। অর্থাৎ অনুমতির কথা শুনে নেতাকর্মীরা নির্দিষ্ট সময়ে কর্মসূচির জন্য এক জায়গায় জড়ো হবে, আর সেই সুযোগে পুলিশ অনায়াসেই তাদেরকে ধরতে পারবে। এটি আসলে বিএনপি নেতাকর্মীদেরকে ধরতে পুলিশের একটি নতুন ফাঁদ।’ 

বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘দখল ও সন্ত্রাসের ভাবধারায় অনুপ্রাণিত সরকার আগামী জাতীয় নির্বাচনের পূর্বে সারা দেশ জনশূন্য করার জন্যই পুলিশকে অবাধ কর্মকাণ্ডের সনদ দিয়েছে। আজকের ঘটনায় এটাই প্রতীয়মান হয় যে, সরকার দমননীতির উত্থান প্রবল থেকে প্রবলতর করছে। আওয়ামী লীগের ঐতিহাসিক চরিত্রই হচ্ছে হানাদারী আচরণে জনঅধিকার কেড়ে নেয়া। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আইনের বাহিনী না বানিয়ে সবচেয়ে নিম্নমানের দাসত্বের তকমা ঝুলিয়ে দিয়েছে সরকার। পুলিশি গ্রেফতারের এই অবাধ কর্মকাণ্ডে জনগণের পুঞ্জীভূত মধ্যকার নীরব ক্ষোভ প্রশমিত হবে না, বরং তা আগ্নেয়গিরির মতো উদগীরণ হবে।’

তিনি বলেন, ‘আজকেও বেপরোয়া পুলিশি আটক অভিযান গণতন্ত্রের জন্য এক মহাবিপদ সংকেত। বাক-স্বাধীনতা হরণ করতে সরকারের আগ্রাসী মনোভাব এখন চরম পর্যায়ে। অবৈধ সরকার দেশকে অতি দ্রুত গৃহযুদ্ধের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।’ 

তিনি আরও বলেন, ‘আওয়ামী সরকারের কাশিম বাজার কুঠিতে মন্ত্রী ও আওয়ামী নেতাদের বৈঠক চলছে দিনরাত। একের পর এক চক্রান্তমূলক পরিকল্পনা আঁটা হচ্ছে সেইসব বৈঠকে। তাদের লক্ষ্য হচ্ছে-অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন, মত প্রকাশের স্বাধীনতা, বিরোধী দলের অস্তিত্ব, সর্বোপরি গণতান্ত্রিক রীতিনীতি ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে ধ্বংস করা।’ 

রিজভী বলেন, ‘অবাধ, সুষ্ঠু নির্বাচন হলে আওয়ামী লীগের জন্য মহালজ্জার দৃষ্টান্ত তৈরি হবে। তারা চরম সংখ্যালঘুতে পরিণত হবে। আওয়ামী সরকার এখন প্রান্ত বেলায়, খাদের কিনারে পতনের শংকায়। সেজন্য তারা শেষ ভরসা করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর। কিন্তু এই ভরসাই তাদের জন্য কাল হয়ে দাঁড়াবে। ক্ষমতার কানেকশন বিচ্ছিন্ন হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিলে এই আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তাদের সাথে থাকবে না।’ 

তিনি বলেন, ‘বিএনপি নেতাকর্মীরা আত্মবিশ্বাসের সাথে সরকারি বাহিনীর অন্যায় আচরণ মোকাবিলা করতে প্রস্তুত। সকল বাধা অতিক্রম করে সামনের আন্দোলনে গণতান্ত্রিক শক্তি জীবনবাজি রেখে অংশগ্রহণ করবে।’

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আব্দুস সালাম, যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ, খন্দকার মাসুকুর রহমান, যুবদল নেতা জাহাঙ্গীর হাওলাদার ও এস এম জাহিদুর রহমান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

এবিএন/মমিন/জসিম

এই বিভাগের আরো সংবাদ