বিভেদ ভুলে জাতীয় ঐক্যের আহ্বান বিএনপির

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ০১ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১৮:২৪ | আপডেট : ০১ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ২০:২০

অপেক্ষার সময় নেই, মন্তব্য করে সকল বিভেদ ভুলে জাতীয় ঐক্যের আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। একই সঙ্গে তিনি বলেছেন, আইনি প্রক্রিয়ায় খালেদা জিয়ার মুক্তি সম্ভব নয়। বুকের তাজা রক্ত দিয়ে মুক্ত করে আনতে হবে।

বিএনপির ৪০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে জনসভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি বলেন, সমস্ত দেশবাসী, রাজনৈতিক সংগঠনকে আহ্বান করছি, কালবিলম্ব না করে দেশকে, গণতন্ত্রকে রক্ষার জন্য ঐক্যবদ্ধ হোন। চলুন, আরো বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলে এই সরকারকে পতন করি।

মির্জা ফখরুল বলেন, বিএনপিকে ধ্বংস করার জন্য অসুস্থ খালেদা জিয়াকে কারাগারে বন্দি করে রাখা হয়েছে। আপনাদেরকে বুকে সাহস নিয়ে ঘুরে দাঁড়াতে হবে। আমাদের নেত্রীকে আমরা আর কারাগারে দেখতে চাই না। আমি সরকারকে বলতে চাই, অবিলম্বে খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিন। অন্যথায় তার সমস্ত দায় দায়িত্ব আপনাদেরকে নিতে হবে।

তিনি বলেন, দেশের তরুণরা আজকে আবার জেগে উঠেছে। নব্বইয়ে গণতন্ত্র, একাত্তরে স্বাধীনতা যেভাবে ছিনিয়ে এনেছিলো, একইভাবে আমাদের তরুণরা আজকে বুকের তাজা রক্ত দিয়ে গণতন্ত্রের মাতাকে কারাগার থেকে ছিনিয়ে আনবে।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, আওয়ামী লীগের নেতারা রাতে দুঃস্বপ্ন দেখেন। এই বুঝি আসলো আসলো খালেদা জিয়া। এই বুঝি আসলো তারেক রহমান। তাদের মাঝে খালেদা ও তারেক ভীতি। এ ভীতি থেকে বাঁচার জন্য তারা সব কৌশল করছে। এখন ইভিএম নিয়ে বাঁচতে চায়। কিন্তু বাঁচতে পারবে না। আওয়ামী লীগ একটি দেউলিয়ার দল। মানুষ আওয়ামী লীগকে চায় না।

নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে ফখরুল বলেন, আমাদের যারা হারিয়ে গেছে, গুম হয়েছে তাদের রক্ত ছুঁয়ে আজকে শপথ নিতে হবে যে, আমরা দেশকে, গণতন্ত্রকে, খালেদা জিয়াকে মুক্ত করবো।

তিনি বলেন, খালেদা জিয়াসহ সকল নেতাকর্মীর মুক্তি চাই ৷ তারেক রহমানকে মিথ্যা মামলা দিয়ে বিদেশে নির্বাসিত রাখা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে নতুন ষড়যন্ত্র করছে সরকার। আগে থেকে বলে দিচ্ছেন একুশে আগস্ট মামলা তার নাকি সাজা হবে। আপনারা কি বিচারকের দায়িত্ব নিয়েছেন? সঠিক তদন্ত করেছেন? এই ধরনের ষড়যন্ত্রের কোনো রায় দেশের মানুষ মেনে নেবে না

সরকারকে শর্ত দিয়ে ফখরুল বলেন, নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগে খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিতে হবে, সরকারকে পদত্যাগ করতে হবে, সংসদ ভেঙে দিতে হবে, নিরপেক্ষ সরকার দিতে হবে, সেনা মোতায়েন করতে হবে এবং লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি করতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে লক্ষ্য করে বিএনপির জ্যেষ্ঠ মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আপনার পতনের আওয়াজ ওঠেছে। আকাশে-বাতাসে, গাছের লতায়, পাতায় আপনার পতনের শব্দ শুনছি। আপনার পতন নিশ্চিত। হুড়হুড় করে পতন হবে আওয়ামী লীগের। শনিবার বিএনপির জনসভায় রিজভীসহ নেতৃবৃন্দ এইসব কথা বলেন।

বিএনপির ৪০ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে জনসভায় রিজভী হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, আজকের এই লাখো মানুষের উত্তাল দেখুন। এরা বেগম জিয়াকে ভালোবাসে। এরা বেগম খালেদা জিয়াকে ছাড়া নির্বাচনে যাবে না।

বিএনপির জ্যেষ্ঠ মহাসচিব বলেন, বেগম খালেদা জিয়াকে ছাড়া, নিরপেক্ষ সরকার ছাড়া নির্বাচন হবে না৷ ইভিএম বাদ দিতে হবে। তিনি বলেন, সরকার নড়বড় করছে। কিন্তু তারা বুঝতে পারছে না।


শনিবার দুপুরে চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ছাড়াই নয়াপল্টনে শুরু হয় বিএনপির ৪০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে জনসভা।

দুপুর ২টায় পবিত্র কুরআন তেলাওয়াতের মধ্যদিয়ে শুরু হওয়া জনসভায় সভাপতিত্ব করছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখবেন নিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির জ্যেষ্ঠ সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনসহ দলটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।

জনসভা ২টায় শুরু হওয়ার কথা থাকলেও শনিবার সকাল ১১টায় রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে মিছিল-স্লোগানে নয়াপল্টনে আসতে থাকে নেতাকর্মীরা।

এরই মধ্যে হাজার হাজার জনতার সমাগমে পূর্ণ হয় নয়াপল্টন থেকে নাইটঙ্গেল মোড়, ফকিরাপুল থেকে মতিঝিল, দৈনিক বাংলা, শান্তিনগর এলাকা।

এবিএন/মমিন/জসিম

এই বিভাগের আরো সংবাদ