সাংগঠনিক দায়িত্ব বন্টণসহ যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সভায় গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১৩ জানুয়ারি ২০২১, ১৮:৫০

গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭.৩০টায় বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের ৭ম জাতীয় কংগ্রেস পরবর্তীতে যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ এবং সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব মোঃ মাইনুল হোসেন খান নিখিলের নেতৃত্বে পূর্ণাঙ্গ কমিটি প্রকাশের পর যুবলীগের সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারণী ফোরামের প্রেসিডিয়াম সদস্যদের প্রথম সভা ভার্চুয়ালি অনুষ্ঠিত হয়েছে।

যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ভার্চুয়াল সভায় সাংগঠনিক বিভাগের দায়িত্ব বন্টণসহ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্ম শতবার্ষিকী উদযাপন সংক্রান্ত কর্মসূচি প্রণয়ন কমিটি, বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের প্রকাশনা-পুস্তিকা-বুকলেট প্রকাশ সংক্রান্ত কমিটি, বাজেট প্রণয়ন কমিটি গঠনসহ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

ভার্চুয়াল সভায় বক্তব্য প্রদান করেন প্রেসিডিয়াম সদস্য অ্যাডভোকেট মামুনুর রশীদ, মঞ্জুর আলম শাহীন, আবু আহমেদ নাসিম পাভেল, ডা. খালেদ শওকত আলী, এফবিসিসিআই এর সভাপতি শেখ ফজলে ফাহিম, মুজিবুর রহমান চৌধুরী নিক্সন এমপি, মো. রফিকুল ইসলাম, মো. হাবিবুর রহমান পবন, মো. নবী নেওয়াজ, আবুল কালাম মো. আহসানুল হক চৌধুরী এমপি, মো. এনামুল হক খান, ড. সাজ্জাদ হায়দার লিটন, মো. মোয়াজ্জেম হোসেন, সুভাষ চন্দ্র হাওলাদার, ব্যারিস্টার সেলিম আলতাফ জর্জ এমপি, মৃণাল কান্তি জোদ্দার, তাজউদ্দিন আহমেদ, জুয়েল আরেং এমপি, মো. জসিম মাতুব্বর, মো. আনোয়ার হোসেন ও এম শাহাদাত হোসেন তসলিম।

বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ এর চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ সভার আনুষ্ঠানিক বক্তব্য প্রদান-পরবর্তীতে সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব মোঃ মাইনুল হোসেন খান নিখিল বক্তব্য প্রদান করেন। দীর্ঘ আড়াই ঘন্টাব্যাপী অনুষ্ঠিত ভার্চুয়াল সভায় গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলোর মধ্যে একটি হচ্ছে সাংগঠনিক দায়িত্ব বন্টণ। ৯টি সাংগঠনিক বিভাগের জন্য ৯ জন সাংগঠনিক সম্পাদকবৃন্দের মাঝে দায়িত্ব বন্টণ করা হয়েছে।

যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকদের সাংগঠনিক সম্পাদকদের সাথে দুটি করে বিভাগের দায়িত্ব বন্টণ করা হয়েছে। যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদকবৃন্দের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিভাগ সমূহ: বরিশাল বিভাগ: যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক: বদিউল আলম, সাংগঠনিক সম্পাদক: কাজী মাজহারুল ইসলাম, রাজশাহী বিভাগ: যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক: বিশ^াস মুতিউর রহমান বাদশা, সাংগঠনিক সম্পাদক: ডাঃ হেলাল উদ্দিন, চট্টগ্রাম দক্ষিণ বিভাগ: যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক: শেখ নাঈম, সাংগঠনিক সম্পাদক: মোঃ সাইফুর রহমান সোহাগ, চট্টগ্রাম উত্তর বিভাগ: যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক: শেখ নাঈম,

 সাংগঠনিক সম্পাদক: মশিউর রহমান চপল, ঢাকা উত্তর বিভাগ: যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক: রফিকুল আলাম জোয়ার্দার সৈকত, সাংগঠনিক সম্পাদক: জহির উদ্দিন খসরু, রংপুর বিভাগ:, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক: মুতিউর রহমান বাদশা, সাংগঠনিক সম্পাদক: মোঃ সোহেল পারভেজ, ঢাকা দক্ষিণ বিভাগ: যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক: সুব্রত পাল, সাংগঠনিক সম্পাদক: আবু মনির মোঃ শহিদুল হক রাসেল, খুলনা বিভাগ: যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক: সুব্রত পাল, সাংগঠনিক সম্পাদক: শামীম আল সাইফুল সোহাগ, সিলেট বিভাগ: যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক: রফিকুল আলম সৈকত জোয়ার্দার, সাংগঠনিক সম্পাদক: প্রফেসর ড. রেজাউল কবির।

বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের গঠনতন্ত্রের অনুচ্ছেদ নম্বর ১২ এবং ১৩ তে কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সদস্যদের মাসিক চাঁদার পরিমাণ ৫০০ টাকা এবং কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্যদের চাঁদার পরিমাণ ২০০ টাকা উল্লেখ আছে। মানুষের গড় আয় বৃদ্ধি, জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন এবং সমসাময়িক বাজার বিশ্লেষণপূর্বক কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদ এবং কেন্দ্রীয় সদস্যদের কাছ থেকে যথাক্রমে ৫০০, ২০০ টাকা চাঁদা এই মুহূর্তে  কতটা সময়োপযোগী এবং প্রাসঙ্গিক; তা যুবলীগ চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারণী সদস্যদের কাছে জানতে চান এবং তাদের পরামর্শ ও মতামত দেবার আহবান জানান।

যুবলীগ চেয়ারম্যানের এ সংক্রান্ত বিষয়ের উপর প্রেসিডিয়াম সদস্য এড. মামুনুর রশীদ প্রস্তাব উত্থাপন করে বলেন, রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ উন্নয়ন ও অগ্রগতির পথে এগিয়ে চলেছে। মানুষের মাথাপিছু আয় ক্রমান্বয়ে বাড়ছে, জীবন-যাত্রার মান বাড়ছে। এই সময়ে নির্বাহী সদস্যদের মাসিক চাঁদার পরিমাণ হওয়া উচিত ২০০০ টাকা এবং কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্যদের চাঁদার পরিমাণ হওয়া উচিত ১০০০ টাকা। যদি কোনো নির্বাহী সদস্য/কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য এককালীন বাৎসরিক/ষান্মাসিক/ত্রৈমাসিক চাঁদার অর্থ অগ্রীম পরিশোধ করতে চান, সেই সুযোগ সদস্যদের জন্য রাখা উচিত এবং সদস্যদের মাসিক চাঁদা ক্যাশ/মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস/ ব্যাংক একাউন্টের মাধ্যমে পরিশোধ করার সুযোগ রাখতে হবে। প্রস্তাবের পক্ষে সমর্থন জানান প্রেসিডিয়াম সদস্য মঞ্জুর আলম শাহীন। নীতি নির্ধারণী সভার সদস্যবৃন্দ সর্বসম্মতিক্রমে প্রস্তাবের পক্ষে মত দেন।


যুবলীগ করার সর্বোচ্চ বয়সসীমা ৫৫ বছর নির্ধারণ সংক্রান্ত অনুসঙ্গটি গঠনতন্ত্রে সন্নিবেশিত করার লক্ষ্যে যুবলীগ চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ যুবলীগের সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারণী সভার সদস্যদের মতামত চান। এ বিষয়ে যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্যবৃন্দ 'যুবলীগ করার সর্বোচ্চ বয়সসীমা ৫৫ বছর' এ সংক্রান্ত বিষয় গঠনতন্ত্রে সন্নিবেশিত করার পক্ষে প্রস্তাব দিয়ে বলেন, 'সপ্তম কংগ্রেস পরবর্তী নতুন নেতৃত্ব- বর্তমান চেয়ারম্যান-সাধারণ সম্পাদক এবং পূর্ণাঙ্গ কমিটির সকল সদস্য ৫৫ বছরের হিসাব মোতাবেক নির্বাচিত/মনোনীত হয়েছেন। সভায় প্রস্তাবটি গ্রহণের অনুমতি প্রার্থনা করা হয়। এ সকল প্রস্তাবনাসমূহ নীতি নির্ধারণী সভায় সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়। যুবলীগ চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ বলেন, 'নীতি নির্ধারণী সভায় গৃহীত এসকল প্রস্তাবনাসমূহ পাশ করার লক্ষ্যে অষ্টম জাতীয় কংগ্রেসে পেশ করা হবে।'

এমন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের পাশাপাশি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্ম শতবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে এক বছরের কর্মসূচি প্রণয়নের কমিটি, প্রকাশনা প্রকাশ সংক্রান্ত কমিটি, বাজেট কমিটি গঠন করা হয়। মুজিব জন্মশতবর্ষ উদযাপন সংক্রান্ত কর্মসূচি প্রণয়ন কমিটি: ১) প্রেসিডিয়াম সদস্য: মুজিবুর রহমান চৌধুরী নিক্সন এমপি, ২) প্রচার সম্পাদক: জয়দেব নন্দী, ৩) সাংস্কৃতিক সম্পাদক: বিপ্লব মুস্তাফিজ, ৪) উপ- ক্রীড়া সম্পাদক আব্দুর রহমান, ৫) সহ-সম্পাদক নাজমুল হুদা চৌধুরী ওয়ারেসী চঞ্চল আগামী এক মাসের মধ্যে মুজিব জন্ম শতবার্ষিকীর কর্মসূচির তালিকা দিতে হবে। আগামী এক বছরে মুজিব বর্ষ উপলক্ষে মাসে অন্তত একটি বড় কর্মসূচি পালিত হবে। যুবলীগের উদ্যোগে প্রকাশনা, পুস্তিকা, বুকলেট প্রকাশের জন্য একটি কমিটিও প্রস্তুত করা হয়। প্রকাশনা প্রকাশ সংক্রান্ত কমিটি: ১) প্রেসিডিয়াম সদস্য: রফিকুল ইসলাম, ২) গ্রন্থনা ও প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক: জহুরুল ইসলাম মিল্টন, ৩) উপ-গ্রন্থনা ও প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক: শেখ নবিরুজ্জামান বাবু। উক্ত কমিটিকে আগামী এক মাসের মধ্যে বিভিন্ন ধরনের প্রকাশনা প্রকাশের রূপরেখা জমা দিতে বলা হয়েছে।

যুবলীগের নীতি নির্ধারণী সভায় একটি বাজেট প্রণয়ন কমিটি গঠন করা হয়। বাজেট প্রণয়ন কমিটি: ১) প্রেসিডিয়াম সদস্য: শেখ ফজলে ফাহিম, ২) অর্থ সম্পাদক: শাহাদাত হোসেন, ৩) উপ-অর্থ সম্পাদক: শরিফুল ইসলাম দুর্জয়, ৪) সহ-সম্পাদক আজিজুর রহমান সরকার, ৫) নির্বাহী সদস্য: ড. আশিকুর রহমান শান্ত। উপর্যুক্ত কর্মকর্তাবৃন্দ বাজেট প্রণয়নে সরকারি রীতি-নীতি অনুসরণপূর্বক আগামী দুই মাসের মধ্যে খসড়া বাজেট প্রণয়ন করবেন।

আর কোন আলোচনা না থাকায় যুবলীগের সম্মানীত চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস্ পরশ সবার সম্মতিক্রমে আলোচনা সভার সমাপ্তি ঘোষণা করেন।


এবিএন/জসিম/তোহা

এই বিভাগের আরো সংবাদ