অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করতে হবে না : সচিব

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ০৫ জুলাই ২০২০, ১৫:১৯

কাউকেই ব্যবহারের অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করতে হবে না বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ সচিব ড. সুলতান আহমেদ। 

তিনি বলেন, যাদেরই অতিরিক্ত বিল এসেছে তার সব সমন্বয় করে দেওয়া হয়েছে। গ্রাহকের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক এক দিনের নয়। কাজেই কোনো গ্রাহক যদি এখনো মনে করে তার বিল বেশি এসেছে তার জন্য আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন। আমরা তার বিলটি পরীক্ষানিরীক্ষা করে দেখে ব্যবস্থা নেব। 

আজ রবিবার (০৫ জুলাই) দুপুরে ভাচুয়াল মিটিংয়ে বিদ্যুৎ সচিব এ তথ্য জানান।

সচিব বলেন, আমরা সব সময়ই গ্রাহকবান্ধব। আমরা যে আস্থা হারিয়েছি আশা করছি তা শিগগিরই পুনরুদ্ধার করতে পারব। ভবিষ্যতে বিতরণ কোম্পানিগুলো এ ধরনের সংকট সমাধানে শতভাগ মিটার রিডিং নিয়ে বিল করবে।


তিনি বলেন, করোনার মধ্যে আমাদের মিটার রিডাররা বাড়ি বাড়ি গিয়ে মিটার রিডিং করতে পারেনি। এ জন্য এ সমস্যা তৈরি হয়েছে। করোনার মধ্যে ৬০১ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। এর মধ্যে ১২ জন বিদ্যুৎ কর্মী মারা গেছেন।

জুনের মধ্যে বিল পরিশোধের ক্ষেত্রে মাসুল ছাড়া বিল দেওয়ায় ছাড় দেওয়া হয়েছিল তা বাড়ানোর চিন্তা করা হচ্ছে। তবে সেটি শুধুই আবাসিকের ক্ষেত্রে দেওয়া হতে পারে বলে সচিব জানান।

তিনি বলেন, আমাদের ৬টি সংস্থা বিদ্যুৎ বিতরণে কাজ করে। এর মধ্যে পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের ২ কোটি ৯০ লাখ গ্রাহকের মধ্যে অভিযোগ এসেছে ৩৪ হাজার ৬৮১টি। অনিয়মে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া শুরু হয়েছে। ডিপিডিসির ৯ লাখ ২৬ হাজার ৬৭৯ জন গ্রাহকের মধ্যে ১৫ হাজার ২৬৬ জনের অভিযোগ এসেছে। এখানে ৪ জনকে সাময়িক বরখাস্তসহ আরও ১৪ জনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ডেসকোর ১০ লাখ গ্রাহকদের মধ্যে অভিযোগের ভিত্তিতে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। নেসকোর ১৫ লাখ ৪৮ হাজার ৩৪৮ জন গ্রাহকের মধ্যে ২ হাজার ৫২৪ জনের অভিযোগ এসেছে। ইতোমধ্যে নেসকোর ২২৩ জনকে তলব করা হয়েছে এবং তদন্ত চলছে। পিডিবির ৩২ লাখ ১৮ হাজার ৫১৫ জন গ্রাহকের মধ্যে অভিযোগ এসেছে ২ হাজার ৫৮২ জনের। যার সবগুলো নিষ্পত্তি করা হয়েছে।

ভুতুড়ে বিদ্যুৎ বিল করার অভিযোগ ও গাফলতি নিয়ে বিদ্যুৎ সচিব বলেন, আমাদের গ্রাহকের পূর্বের রেকর্ড দেখে বিল করা হয়েছে, যেটা এখন থেকে রিডিং দেখে হবে। রেকর্ড দেখে ম্যানুয়ালি করতে গিয়ে কারো অতিরিক্ত বিল এসেছে। এতে আমাদের কারো কোনো গাফলতি থাকলে দেখা হবে। ইতোমধ্যে তদন্ত শুরু হয়েছে অনেকে শাস্তির আওতায় এসেছেন, অনেকের অভিযোগ নিষ্পত্তি হয়েছে। তবে কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি যেন শাস্তি না পায় এটা ভালো ভাবে দেখতে হবে কোম্পানিগুলোকে।

ডিপিডিসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) প্রকৌশলী বিকাশ দেওয়ান বলেন, ইতোমধ্যে আমাদের চার প্রকৌশলীকে বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া আরও ৩৬ প্রকৌশলীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেওয়া হয়েছে। আগামী ১০ দিনের মধ্যে তাদের কারণ দর্শাতে বলা হয়েছে। অভিযোগ তদন্তে কোম্পানির নির্বাহী পরিচালককে (আইসিটি) প্রধান করে ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। এখন থেকে রিডিং দেখে বিল করা হবে।

পাওয়র সেলের মহাপরিচালক মোহাম্মদ হোসাইন ছাড়াও সংবাদ সম্মেলনে বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এবিএন/সাদিক/জসিম

এই বিভাগের আরো সংবাদ