সরকার প্রস্তুতি নেয়ায় রোগীর সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে আছে : স্বাস্থ্যমন্ত্রী

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ২৯ মার্চ ২০২০, ১৩:৪৭ | আপডেট : ২৯ মার্চ ২০২০, ১৫:৪৫

করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে সরকার আগে থেকে প্রস্তুতি নেয়ার কারণেই কোভিড-১৯ রোগীর সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক।

আজ রবিবার (২৯ মার্চ) দুপুরে করোনা সংক্রান্ত এক ভার্চুয়াল মিডিয়া ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।

এর আগে সংবাদ সম্মেলনে আইইডিসিআরের পরিচালক মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা জানান, গত ২৪ ঘণ্টায়ও বাংলাদেশে কারো দেহে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়নি। এনিয়ে পরপর দুই দিন বাংলাদেশে কোভিড-১৯ এর কোনো রোগী পাওয়া গেল না।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেন, ‘আমরা নিজেদের উদ্যোগে দুই মাস আগে থেকে প্রস্তুতি নিয়েছি। আমাদের উদ্যোগটি কাজে লেগেছে। পৃথিবীর সাথে তুলনা করলে বাংলাদেশ এখনো অনেক ভালো আছে।’

যদিও অনেকের অভিযোগ, যথেষ্ট পরিমাণ পরীক্ষা করা হচ্ছে না বলে বাংলাদেশে করোনাভাইরাস আক্রান্তের সঠিক সংখ্যা জানা যাচ্ছে না।

এ প্রসঙ্গে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, অনেক হাসপাতালে পরীক্ষা করার ব্যবস্থা থাকলেও সেখানে মানুষ পরীক্ষা করতে যাচ্ছে না, যা ইঙ্গিত করে যে বাংলাদেশে করোনাভাইরাস আক্রান্তের সংখ্যা কম। চট্টগ্রামে যেই কেন্দ্রে পরীক্ষা করা হচ্ছে সেখানে গত ৪-৫ দিনে ৫-৭ জনও পরীক্ষা করতে আসেনি। কক্সবাজারের পরীক্ষা কেন্দ্রে এখন পর্যন্ত কেউ পরীক্ষা করতে আসেনি। অনেকে বলছে আমাদের দেশে সংখ্যা এত কম কেন? ভাইরাস সংক্রমণের সংখ্যা কম হলেই তো আমাদের খুশি হওয়া উচিত।

কারো দেহে করোনাভাইরাসের উপস্থিতি রয়েছে কিনা, সেই পরীক্ষা শুধু আইইডিসিআরের অধীনে পরিচালিত হওয়ার কারণে বেশিসংখ্যক পরীক্ষা করা যাচ্ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে।

এ রকম ক্ষেত্রে ভাইরাস সংক্রমণের সঠিক চিত্র প্রকাশিত না হওয়ার পাশাপাশি পরবর্তী সময় সংক্রমণের হার নিয়ন্ত্রণের বাইরেও চলে যেতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে।

তবে বাংলাদেশে মানুষের মধ্যে সংক্রমণের হার কম হওয়ার বিষয়টিতে স্বস্তি প্রকাশ করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

এদিকে, আগামী শনিবার বাংলাদেশের সাধারণ ছুটি শেষ হয়ে মানুষজনের কাজে ফেরার কথা। কিন্তু জাহিদ মালেক বলছেন, সেটি নির্ভর করবে পরিস্থিতির ওপর।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, দেশে করোনা পরিস্থিতি যথেষ্ট ভালো। আমরা চিকিৎসা এবং নার্সদের জন্য পর্যাপ্ত পিপিই সংগ্রহ করেছি। পিপিই সংকট নেই। দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ৩ লাখ পিপিই বিতরণ করা হয়েছে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, এ মুহূর্তে প্রায় ৫০০ ভেন্টিলেটর হাতে আছে, আরও ৩০০ আসছে। আমাদের কাছে ৪৫ হাজার কিট আছে, আরও ৮৫ হাজার কিট কিছু দিনের মধ্যে আসছে।

জাহিদ মালেক বলেন, আকিজ গ্রুপ একটি ভবন তৈরি করে দিতে চায়, এটা খুবই ভালো উদ্যোগ। এতে এলাকার মানুষের সুবিধা হবে। আর এ ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষকেও সহনশীল হওয়া উচিত। 

দেশজুড়ে করোনা আক্রান্ত হওয়ার লক্ষণ নিয়ে মারা যাচ্ছেন। এ বিষয়ে অনেক সময় সংশ্লিষ্টদের সহযোগিতা পাওয়া যাচ্ছে না- এ সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, এ ধরনের অবহেলা হয়ে থাকলে তা অবশ্যই অপরাধ হয়েছে, যা কোনো মতেই কাম্য নয়। 

এবিএন/সাদিক/জসিম

এই বিভাগের আরো সংবাদ