ইসমাত আরা সাদেকের দেশপ্রেম ছিল অসামান্য: প্রধানমন্ত্রী

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ২১ জানুয়ারি ২০২০, ১৯:১৩ | আপডেট : ২১ জানুয়ারি ২০২০, ২০:০৬

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ইসমাত আরা সাদেক অত্যন্ত সততা, নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করতেন। ইসমাত আরা সাদেকের সবচেয়ে বড় গুণ ওনার সততা, একাগ্রতা, নিষ্ঠা, দেশপ্রেম। এটা ছিল অসামান্য।

মঙ্গলবার (২১ জানুয়ারি) বিকেলে একাদশ সংসদের ৬ষ্ঠ অধিবেশনে সংসদ সদস্য ইসমাত আরা সাদেকের মৃত্যুতে আনিত শোক প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে সংসদ নেতা একথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী ইসমাত আরা সাদেকের স্মৃতিচারণ করে বলেন, মিসেস সাদেক, আসলে তিনি গৃহিনী ছিলেন। বিভিন্ন সংস্থার সাথে জড়িত ছিলেন কিন্তু কখনো রাজনীতিতে খুব সক্রিয় ছিলেন না। তার স্বামী এ এস এইচ কে সাদেক ১৯৯২ সালে আওয়ামী লীগে যোগদান করেন। ১৯৯১ সালে যখন আমরা সরকার গঠন করতে পারলাম না তিনি (এ এস এইচ কে সাদেক) আমার সঙ্গে দেখা করলেন, বললেন আমি আসছি এবং সংগঠনের জন্য কাজ করতে চাই। সেই থেকে প্রায়ই তারা দুই জন এক সাথেই আসতেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৯৬ সালে যখন সরকার গঠন করি মিসেস সাদেকের স্বামী এ এস এইচ সাদেককে মন্ত্রী করি। তখন তিনি অনেক কাজ করে দিয়ে গেছেন। ২১ ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস করা, নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্লান্ট করার জন্য কমিটি করে দিয়েছিলাম তারই নেতৃত্বে। সুন্দরবন ইউনেস্কো বিশ্ব ঐহিত্য ঘোষণা দিয়েছে সব ব্যাপারে তার স্বামীর যথেষ্ট অবদান রয়েছে।

ওনার মৃত্যুর পর মিসেস সাদেককে যখন নির্বাচনে অংশ গ্রহণের অনুরোধ করলাম। ওনি প্রথমে একটু ঘাবড়ে ছিলেন, যে এটা পারব কি না। আমি বলেছিলাম হ্যাঁ আপনি পারবেন। ওনি নির্বাচন করে জিতে আসার পর প্রথমে প্রাথমিক গণ শিক্ষার দায়িত্ব দিলাম। ওনি (ইসমাত আরা সাদেক) বললেন আমিতো কখনো এভাবে অফিস চালাইনি, কখনো কিছু করি নাই, আমি তো গৃহিনী ছিলাম। আমি কিভাবে করব? আমি বলেছিলাম যেহেতু আপনি শিক্ষিত মহিলা, আপনি পারবেন। আর চিন্তা করবেন না আমি তো আছি। আপনার কোনো চিন্তা নাই যখন যা দরকার হবে, আপনি বলবেন। ওনি প্রতিটি কাজ সুষ্ঠুভাবে সততার সাথে করতেন।

সংসদ নেতা বলেন, ২০১৪ সালের নির্বাচনের পর ওনাকে আমি জনপ্রশাসনের দায়িত্ব দিলাম। তখনও ওনি বললেন আমি পারব কিনা? সব সময় দ্বিধাদ্বন্দ্বে থাকতেন। প্রতিমন্ত্রী থাকার সময় কেবিনেট শেষে ওনার সাথে বসতাম। বিভিন্ন বিষয় আলোচনা করতাম। তিনি অত্যন্ত সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করতেন। ইসমাত আরা সাদেকের সবচেয়ে বড় গুণ ওনার সততা একাগ্রতা, নিষ্ঠা এবং দেশপ্রেম এটা ছিল অসামান্য।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, মৃত্যুর এক সপ্তাহ আগেও ওনার সাথে অনেক কথা বললাম। আমি বললাম অপারেশন করার আগে আরেকজনের মত নেন। আর চিন্তা করবেন না, আমি তো আপনার চেয়ে বড়। তখন বললেন হ্যাঁ জানি কিন্তু মৃত্যুতো আর বড় ছোট হয়ে আসে না। আজ সকালে একনেক বৈঠকের সময় খবর পেলাম ওনি আর নেই। আসলে মৃত্যু তো এভাবেই আসে। এই সংসদে এবার আমাদের কিরকম দুর্ভাগ্য পর পর ৪ জন মৃত্যু বরণ করলেন। হঠাৎ করে এতো তাড়াতাড়ি চলে যাবে এটা আমি ভাবতেও পারিনি। এটা সত্যি কষ্টকর। অনেক সদস্যকে হারিয়েছি।

আলোচনায় অংশ নেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য তোফায়েল আহমেদ, জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন, উপাধ্যক্ষ আব্দুস শহিদ, সংসদ সদস্য কাজী নাবিল আহমেদ, ওয়াশিকা আয়শা খান, রওশন আরা মান্নান প্রমুখ।

এবিএন/মমিন/জসিম

এই বিভাগের আরো সংবাদ