জলবায়ু অভিবাসী সমস্যা মোকাবিলায় কর্মকৌশল তৈরি করুন : প্রধানমন্ত্রী

  ইউ.এন.বি

০২ ডিসেম্বর ২০১৯, ১৬:৪৪ | আপডেট : ০২ ডিসেম্বর ২০১৯, ১৭:১৬ | অনলাইন সংস্করণ

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সোমবার জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণে সৃষ্ট অভিবাসী সমস্যা সমাধানের যুতসই কর্মকৌশল তৈরিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আলোচনার পথ তৈরির আহ্বান জানিয়েছেন।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমাদের ক্ষতিগ্রস্থ সম্প্রদায়ের অভিযোজন ক্ষমতা বাড়ানোর দিকে মনোনিবেশ করতে হবে, কেননা এ স্থানান্তরও একটি কার্যকর অভিযোজন কৌশলের মধ্যে হতে পারে যা আমাদেরকেই সমর্থন করতে হবে। সুতরাং, বাস্তুচ্যুত ব্যক্তিদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের মাধ্যমে তাদের স্থানান্তর এবং সুরক্ষা বিষয়টি বিশ্বব্যাপী যথাযথ মনোযোগ দেয়া উচিত। আমাদের জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাস্তুচ্যুত মানুষের জন্য একটি যুতসই কর্মকৌশল তৈরির বিষয়ে আলোচনা শুরু করা দরকার।’

প্রধানমন্ত্রী স্পেনের রাজধানী ফেরিয়া দে মাদ্রিদে (আইএফইএমএ) ‘অ্যাকশন ফর সারভাইবাল: ভালনারেবল নেশনস কপ২৫ লিডারস’ শীর্ষক সম্মেলনে এ আহ্বান জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মানব অভিবাসনের ওপর পড়তে পারে এ বিষয়টি সর্বজনস্বীকৃত। চরম আবহাওয়ার ঘটনাগুলো ইতিমধ্যে সহিংস দ্বন্দ্বের চেয়েও বেশি মানুষকে স্থানচ্যুত করছে। ধীরস্থিরভাবে সমুদ্র-স্তরের বৃদ্ধি এবং মরুকরণের মতো বিষয়গুলো বিশ্বব্যাপী অনেক কম নজর দেয়া হচ্ছে।  আমাদের অবশ্যই এই ভারসাম্যহীনতা সংশোধনের লক্ষ্যে কাজ করতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, নতুন প্রজন্মের জন্য নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হলে আমাদের শিশুরা ক্ষমা করবে না। আমাদের (বিশ্ব নেতাদের) প্রতি মুহূর্তের নিষ্ক্রিয়তা পৃথিবীর প্রত্যেকটি মানুষের জীবিত মানুষকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। কাজ করার এখনই সময়।

তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন বিশ্বের জন্য এক নির্মম বাস্তবতা। এটি এখন মানবজীবন ও পরিবেশ, বাস্তুতন্ত্র এবং প্রাকৃতিক সম্পদের অপূরণীয় ক্ষতির কারণ।

জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণে অভিবাসী সংকট মোকাবিলায় একটি যথাযথ কাঠামো তৈরি করতে বিশ্ব সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, কার্যকর অভিযোজন কৌশল অনুযায়ী অভিবাসীদের মাইগ্রেশন হলে আমরা অবশ্যই এর প্রশংসা করবো। আক্রান্ত জনগোষ্ঠীর অভিযোজন ক্ষমতা বাড়ানোর ওপর জোর দিতে হবে।

জলবায়ু ক্ষতিগ্রস্থ ফোরামের (সিভিএফ) নেতাদের দিকে ইঙ্গিত করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘এখন আমাদের এমন পরিস্থিতি হয়েছে যে, সবচেয়ে বেশি অগ্রাধিকারের দাবিদার সবচেয়ে দুর্বল দেশগুলো তাদের প্রাপ্য সহযোগিতা পেতে ব্যর্থ হয়েছে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, নতুন সিভিএফ ও ভি২০ ট্রাস্ট ফান্ড এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ওপর নতুন বিশেষ দূত পাওয়া একটি ভালো সফলতা হতে পারে।

সিভিএফ এবং ভি-২০ কে দক্ষিণ-দক্ষিণ এবং ত্রিমুখী সহযোগিতার একটি মহৎ উদাহরণ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা বর্তমান সাফল্যের আরও বিকাশ চাই। মানব ইতিহাসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে আছি, এখন আমরা আমাদের সময়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হুমকির মুখোমুখি হতে চলেছি।’

জলবায়ু পরিবর্তন এখন প্রতিটি দেশের জন্য বিশেষত বাংলাদেশের মতো জলবায়ু প্রবণ দুর্বল দেশগুলোর জন্য একটি অস্তিত্বের হুমকিতে পরিণত হয়েছে, বলেন শেখ হাসিনা।

মিয়ানমার থেকে আসা ১১ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা বিভিন্ন ধরনের পরিবেশ বিপর্যয়ের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এরই মধ্যে সবচেয়ে খারাপ পরিবেশ বিপর্যয়ের সম্মুখীন হওয়ার অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের রয়েছে, বলেন তিনি।

এবিএন/জনি/জসিম/জেডি

এই বিভাগের আরো সংবাদ