দস‌্যুমুক্ত দেশ গড়তে কাজ করছে সরকার : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ২৩ নভেম্বর ২০১৯, ১৯:১৩

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, বাংলাদেশ এখন সারা বিশ্বে উন্নয়নের রোল মডেল। এই দেশকে দস্যুতা, সন্ত্রাস ও দুর্নীতি থেকে মুক্ত করে গড়ে তুলতে কাজ করে যাচ্ছে সরকার।

শনিবার দুপুরে কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার কালারমারছড়া ইউনিয়ন পরিষদ মাঠে জলদস্যু ও অস্ত্রকারিগরদের আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

যেসব জলদস‌্যু এখনো আত্মসমর্পণ করেনি, তাদের প্রতি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যারা এখনো আত্মসমর্পণ করেনি, আমরা তাদের নাম-ঠিকানা পেয়ে গেছি। তারা যদি স্বাভাবিক জীবনে ফিরে না আসে, তাহলে তাদের কঠোর পরিণতি ভোগ করতে হবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আত্মসমর্পণকারীদের বিরুদ্ধে করা খুন ও ধর্ষণের মামলা ছাড়া বাকি মামলা তুলে নেয়া হবে। তারা যেন স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে পারে, সরকারের পক্ষ থেকে সেজন‌্য সহযোগিতা করা হবে। অস্ত্রকারিগররা ভালো অস্ত্র বানায়। তারা যদি চায় ওয়ার্কশপ দিতে পারে। সেখানেও সরকার সহযোগিতা করবে।

তিনি বলেন, অতীতে যে জলদস্যুরা আত্মসমর্পণ করেছিল, এখন তারা স্বাভাবিক জীবনে ফিরে এসেছে। অন্ধকার জগতের এই জীবন কতটা কষ্টের, সেটি তারা টের পেয়েছে। নিজের কষ্ট, দুঃখ-দুর্দশার কথা চিন্তা করে তারা আত্মসমর্পণ করেছিল। আজকে যারা আত্মসমর্পণ করেছে, তারাও বুঝতে পেরেছে, অন্ধকার জগতে জীবনযাপন করা কতটা কষ্টকর। তারা নিজের ভুল বুঝতে পেরে, নিজের ও পরিবারের কষ্টের কথা বুঝতে পেরে আত্মসমর্পণ করেছে।’

তিনি আরো বলেন, কক্সবাজারে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হচ্ছে। এই এলাকায় কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র তৈরি করা হচ্ছে। সাবরাংকে পর্যটনের জন্য বিশেষ জোন হিসেবে গড়ে তোলা হচ্ছে। ৩ লাখ কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প এখন কক্সবাজারে চলছে। সুন্দরবন এখন দস্যুমুক্ত। আমরা জোর গলায় এখন বলতে পারি, দেশকে দস্যু, সন্ত্রাস ও দুর্নীতিমুক্ত করতে কাজ করছে এ সরকার।

এর আগে দুপুরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামালের হাতে অস্ত্র জমা দিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন কক্সবাজারের মহেশখালীর ৯৬ জন দস্যু ও অস্ত্রকারিগর। এ সময় তারা ১৫৫টি দেশি অস্ত্র, ২৭৫ রাউন্ড কার্তুজ ও অস্ত্র তৈরির নানা সরঞ্জাম জমা দেন। আত্মসমর্পণকারী ৯৬ জনকে ৫০ হাজার টাকা করে অনুদান দেয়া হয়।

এর আগে ২০১৮ সালে সশস্ত্র ৪৩ জন জলদস্যু আত্মসমর্পণ করেছিলেন। চলতি বছরের ১৬ ফেব্রুয়ারি টেকনাফে আত্মসমর্পণ করেন ১০২ জন ইয়াবা ব্যবসায়ী।

এবিএন/জনি/জসিম/জেডি

এই বিভাগের আরো সংবাদ