দুই বছরে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে খুন ৪৩, ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত ৩২

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ২৫ আগস্ট ২০১৯, ১২:২৯

আজ ২৫ আগস্ট। নির্যাতনের শিকার হয়ে মিয়ানমার থেকে রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে পালিয়ে আশার দুই বছর পূর্ণ হলো। এ সময়ের মধ্যে দুবার রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের ব্যাপারে উদ্যোগ নেওয়া হলেও তাদের অনীহার কারণে তা বাস্তবায়ন করা যায়নি। ফলে এই বিপুল জনগোষ্ঠীর প্রত্যাবাসন নিয়ে সরকারের পাশাপাশি স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা বাড়ছে।

বিশেষ করে এ দুই বছরে রোহিঙ্গাদের নিজেদের মধ্যে সংঘাতে জড়িয়ে খুন-হত্যার মতো ঘটনা বেড়েছে। পাশাপাশি মাদক ও মানবপাচারের মতো অভিযোগে অনেক রোহিঙ্গাকে কথিত বন্দুকযুদ্ধে প্রাণ হারাতে হয়েছে। শরণার্থী ক্যাম্পের বাসিন্দা হয়ে এরই মধ্যে হাজারো রোহিঙ্গা বিভিন্ন মামলায় আসামি হয়েছে। এসব বিষয় নিয়ে রোহিঙ্গাদের নিজেদের মধ্যে রয়েছে অস্বস্তি আর অস্থিরতা। সামনের দিনগুলো নিয়ে তাদের মধ্যেও এক গভীর অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে।        

২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট রাখাইনের ৩০টি নিরাপত্তা চৌকিতে একযোগে হামলার ঘটনা ঘটে। এর প্রতিক্রিয়া হিসেবে মিয়ানমার সেনাবাহিনী রোহিঙ্গাদের ওপর নিপীড়ন শুরু করে। ফলে প্রাণ বাঁচাতে প্রায় সাত লাখ রোহিঙ্গা সীমান্ত পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নেয়।

এর আগে থেকেই বাংলাদেশে আরও প্রায় ৪ লাখ রোহিঙ্গা অবস্থান করছিল। উখিয়া ও টেকনাফের ৩০টি শিবিরে এখন ১১ লাখের বেশি রোহিঙ্গা অবস্থান করছে। তবে জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, এই সংখ্যা ১১ লাখ ৮৫ হাজার ৫৫৭। তাদের মধ্যে নারী ও শিশুর সংখ্যাই বেশি।

রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে নানা ধরনের তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। এ ব্যাপারে সহযোগিতার জন্য বিশ্বের প্রভাবশালী বিভিন্ন দেশের প্রতিও আহ্বান জানানো হয়েছে। কিন্তু দুবার উদ্যোগ নিয়েও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরু করা যায়নি। সবশেষ গত ২২ আগস্ট রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের জন্য দিন নির্ধারিত ছিল। কিন্তু কোনো রোহিঙ্গাই যাওয়ার ব্যাপারে আগ্রহ দেখায়নি। এর আগে ১৫ নভেম্বরও একই ধরনের উদ্যোগ নিয়েছিল সরকার। কিন্তু সেবারও রোহিঙ্গারা জানায়, তারা দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত মিয়ানমারে ফিরে যাবে না। এ অবস্থার মধ্যেই আজ রোহিঙ্গা প্লাবনের দুই বছর হতে চলেছে।

কক্সবাজার জেলা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সূত্রে জানা গেছে, গত দুই বছরে রোহিঙ্গা শিবিরে নিজেদের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বে নিহত হয়েছে ৪৩ রোহিঙ্গা। আর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছে আরও ৩২ রোহিঙ্গা। এ ছাড়া ডাকাতি, অপহরণ, ধর্ষণ, চুরি, মাদক ও মানবপাচারসহ রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে ৪৭১টি। যার মধ্যে মাদক মামলা ২০৮, হত্যা মামলা ৪৩ ও নারী-সংক্রান্ত মামলা ৩১টি। এসব মামলায় আসামি ১১০৫ রোহিঙ্গা। অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া আরও কঠিন হয়ে পড়বে বলে মনে করছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

স্থানীয়রা বলছেন, দিন দিন রোহিঙ্গারা বেপরোয়া হয়ে উঠছে। তারা জড়িয়ে পড়ছে চুরি, হত্যাসহ বিভিন্ন অপরাধে। ক্যাম্প থেকে বেরিয়ে স্থানীয়দের উপর হামলার ঘটনাও ঘটছে। গত বৃহস্পতিবার টেকনাফের হ্নীলার ওয়ার্ড যুবলীগ সভাপতি ওমর ফারুককে গুলি করে হত্যা করে রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীরা।

কক্সবাজারের সিভিল সোসাইটির নেতা ফজলুল কাদের চৌধুরী বলেন, বেপরোয়া রোহিঙ্গারা বেশিরভাগ সময় স্থানীয়দের উপর আগ্রাসী হচ্ছে। কিছু এনজিওর উস্কানিতে তারা এমন আচরণ করছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

এবিএন/সাদিক/জসিম

এই বিভাগের আরো সংবাদ