প্রত্যাবাসন : তালিকাভুক্ত রোহিঙ্গাদের সাক্ষাৎকার শুরু আজ

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ২০ আগস্ট ২০১৯, ১১:১১

প্রত্যাবাসনের তালিকায় নাম থাকা রোহিঙ্গাদের সাক্ষাৎকারের জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে কক্সবাজার টেকনাফের শালবাগান রোহিঙ্গা শিবিরে। 

আজ মঙ্গলবার (২০ আগস্ট) সকাল থেকে সাক্ষাৎকার শুরু করা হবে। এ জন্য সোমবার (১৯ আগস্ট) ক্যাম্প ইনচার্জের পক্ষ থেকে রোহিঙ্গা শিবিরে বসবাসকারীদের বার্তা দেওয়া হয়েছে।

টেকনাফের জাদিমোরা শালবন রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ইনচার্জ মোহাম্মদ খালেদ হোসেন বলেন, প্রত্যাবাসনের তালিকায় নাম থাকা রোহিঙ্গাদের সাক্ষাৎকার নেওয়া হবে মঙ্গলবার থেকে। এজন্য ক্যাম্প ইনচার্জের অফিসের পাশে বেশ কয়েকটি প্লাস্টিকের ঘর তৈরি করা হয়েছে। সেখানে ৩ হাজার ৩১০ জনের সাক্ষাৎকার নেওয়া হবে। সাক্ষাৎকারের সময় ইউএনএইচসিআর এবং শরণার্থী, ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনারের প্রতিনিধি উপস্থিত থাকবেন।

শরণার্থী ত্রাণ ও পুনর্বাসন কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল কালাম বলেন, রোহিঙ্গাদের জোর করে পাঠানো হবে না। মিয়ানমারের চূড়ান্ত তালিকায় থাকা রোহিঙ্গারা ফিরতে চান কিনা ইউএনএইচসিআরের কর্মকর্তারা তা জানতে চাইবেন। এ সময় বাংলাদেশের প্রতিনিধিদের উপস্থিতি থাকবে।

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের জন্য বাংলাদেশ ও ইউএনএইচসিআরের মধ্যকার সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী রাখাইনে স্বেচ্ছায় যাওয়ার বিষয়ে রোহিঙ্গাদের সাক্ষাৎকার নেবে ইউএনএইচসিআর। গত বছরের নভেম্বরে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের সব কিছু চূড়ান্ত হয়।

সেবারও রোহিঙ্গারা ফিরতে চায় কিনা সে বিষয়ে তাদের সাক্ষাৎকার নেয় ইউএনএইচসিআর। সেবার সাক্ষাৎকারের সময় বাংলাদেশের প্রতিনিধিদের রাখা হয়নি। তখন রোহিঙ্গারা ফিরতে রাজি না হওয়ায় ওই প্রক্রিয়া থেমে যায়।

সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রত্যাবাসনের জন্য বাংলাদেশে দুটি ট্রানজিট পয়েন্ট প্রস্তুত থাকলেও দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে শুধু বান্দরবানের ঘুমধুমের স্থলপথেই রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানো হবে। আপাতত দিনে ১৫০ জন রোহিঙ্গা ফেরত পাঠানোর প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, যে প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে সে অনুসারে উভয় দেশের সাপ্তাহিক ছুটির দিন ছাড়া বাকি ৫ দিনে সর্বোচ্চ ১৫০০ জন ফিরতে পারবে। তবে দুপক্ষের আলোচনার ভিত্তিতে এ সংখ্যা বাড়তে পারে।

জানা যায়, মিয়ানমার দ্বিতীয় দফায় পরিবার ও গ্রামভিত্তিক যাচাই-বাছাইয়ের পর রাখাইনের মংডু এবং বুথিডংয়ের ৩ হাজার ৪৫০ জন রোহিঙ্গার প্রত্যাবাসন বিষয়ে অনাপত্তি দেয়। এ তালিকায় ১ হাজার ৫৬টি পরিবারের ৩ হাজার ৪৫০ জনের নাম রয়েছে।

কিন্তু বাংলাদেশ বলছে, তালিকায় ১৫টি পরিবারের ৪৭ জনের নাম দুবার রয়েছে। এ ছাড়া যাচাইয়ের জন্য বাংলাদেশ পাঠায়নি এমন তিনটি পরিবারের ৪ জনের নাম মিয়ানমার তালিকায় যুক্ত করে তাদের ফেরত চেয়েছে।

তাদের বিষয়ে বাংলাদেশ খোঁজখবর নিচ্ছে। সবমিলে অতিরিক্ত ১৮টি পরিবারের ৫১ জনকে বাদ দিয়ে সংশোধিত একটি তালিকা করেছে বাংলাদেশ।

আবুল কালাম জানান, তালিকায় থাকা ১ হাজার ৩৮টি পরিবারের ৩ হাজার ৩৯৯ জনকে চূড়ান্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে ৩৩৭ পরিবারের সকল সদস্য রয়েছেন। এই সংখ্যা ১ হাজার ৩৯০ জন। এ ছাড়া ৭০১টি পরিবারের আংশিক সদস্যের নাম এসেছে তালিকায়। এ সংখ্যা ২ হাজার ৯ জন। ফলে এসব পরিবারের যাদের নাম আসেনি প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় তাদের বিচ্ছিন্ন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ফলে একটি সমস্যার থেকেই যাচ্ছে।

প্রসঙ্গত, ২০১৭ সালে ২৫ আগস্ট রাখাইনের ৩০টি নিরাপত্তা চৌকিতে একযোগে হামলার ঘটনা ঘটে। প্রতিক্রিয়ায় মিয়ানমার সেনাবাহিনী রোহিঙ্গাদের ওপর নিপীড়ন শুরু করে। ফলে প্রাণ বাঁচাতে প্রায় ৭ লাখ রোহিঙ্গা সীমান্ত পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নেয়। পুরনোসহ উখিয়া-টেকনাফের ৩০টি শিবিরে এখন ১১ লাখের বেশি রোহিঙ্গা অবস্থান করছে। তবে জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, এই সংখ্যা ১১ লাখ ৮৫ হাজার ৫৫৭। তাদের মধ্যে নারী ও শিশুর সংখ্যাই বেশি।

জাতিগত নিধন ও গণহত্যার প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে আন্তর্জাতিক চাপের মুখে ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে বাংলাদেশ-মিয়ানমার প্রত্যাবাসন চুক্তি সম্পন্ন হয়।

এবিএন/সাদিক/জসিম

এই বিভাগের আরো সংবাদ