ঈদযাত্রার বাসে মশানাশক স্প্রে করার নির্দেশ সেতুমন্ত্রীর

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ০৫ আগস্ট ২০১৯, ১৫:৫৭

এডিস মশাবাহিত ডেঙ্গু জ্বরের প্রকোপের মধ্যে ঈদযাত্রায় প্রতিটি বাস ছাড়ার আগে মশানাশক স্প্রে করার নির্দেশ দিয়েছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

আজ সোমবার (৫ আগস্ট) দুপুরে সচিবালয়ে আসন্ন ঈদুল আজহা উদযাপনে সড়কপথে ঘরমুখো মানুষের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে অংশীজনের সঙ্গে সমন্বয় সভায় তিনি এ নির্দেশ দেন।

এবারের ঈদযাত্রায় ডেঙ্গুজ্বর উদ্বেগ বাড়িয়েছে মন্তব্য করে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘টার্মিনালগুলো পরিচ্ছন্নতা রক্ষা, মশক নির্মূলের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা গ্রহণে আমি ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনকে অনুরোধ জানাচ্ছি। প্রতিটি বাস ছাড়ার পূর্সে বাসে মশা নাশক অ্যারোসল স্প্রে করার জন্য মন্ত্রণালয় থেকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। টার্মিনাল কর্তৃপক্ষ এবং মালিক সমিতি ইতোমধ্যে এ নির্দেশনা বাস্তবায়নে সভা করেছেন, পরিকল্পনা নিয়েছেন।’

সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘ঈদে ফিটনেসবিহীন গাড়িতে পশু বহন করা যাবে না। অনেক সময় পশুর যানবাহন ধীরগতিতে চলে, ফিটনেসবিহীন গাড়িতে পশু বহন করলে সমস্যা সৃষ্টি হয়। তাই এসব গাড়িতে পশু পরিবহন বন্ধ করতে হবে। ফিটনেসবিহীন গাড়িতে পশু পরিবহন বন্ধে সবাইকে নির্দেশ দিয়েছি।’

তিনি বলেন, ‘সড়ক-মহাসড়কের পাশে গরুর হাট বসালে যানজট সৃষ্টি হতে পারে, তাই মহাসড়কের পাশে যেন হাট বসানো না হয়, সে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সড়কের পাশে হাট না বসাতে নির্দেশ দিলেও খবর পাচ্ছি সড়কে পশুর হাট বসানো হচ্ছে। যে অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে, সে বিষয়ে সবার এগিয়ে আসতে হবে ও ব্যবস্থা নিতে হবে। পশুর হাট যেন জনদুর্ভোগ সৃষ্টি না করে, সে জন্য জনপ্রতিনিধি, জেলা প্রশাসন, পুলিশসহ সবার সহযোগিতা চাই।’

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘টার্মিনালে আরও সেবা বাড়াতে হবে। আমাদের ভিজিল্যান্স টিম সক্রিয় থাকবে। মোবাইল কোর্ট কোনো বাড়তি ভাড়া নিলে ব্যবস্থা নেবে। বাড়তি ভাড়া না নিয়ে মালিকদের ত্যাগ শিকারের আহ্বান জানাচ্ছি। আর ঈদযাত্রা এডিস মশা নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। তাই বাস টার্মিনালে মশা নিধনে ব্যবস্থা নিতে সিটি করপোরেশনকে অনুরোধ করা হয়েছে। বাসগুলোতে অ্যারোসল সরবরাহের জন্য চিঠি দেওয়া হয়েছে।’

সড়ক পরিবহনের পক্ষ থেকে ঈদযাত্রায় ৬ থেকে ১৭ আগস্ট নিয়ন্ত্রণ কক্ষ চালু থাকবে বলেও জানান তিনি।

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘ঈদযাত্রার জন্য টঙ্গী-গাজীপুরের বিআরটির কাজ বন্ধ থাকবে। যাতে মেরামত কাজ যথাযথভাবে শেষ করা যায়, সেটি নিশ্চিত করতেও ব্যবস্থা নিতে হবে। আর বিজিএমইর অনুরোধে পোশাক শ্রমিকদের জন্য ১৫১টি বাস বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। চট্টগ্রামে আরো ২০টি বাস দেওয়া হয়েছে, প্রয়োজনে সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।’

তিনি আরও জানান, ১ আগস্ট থেকে সিএনজি স্টেশনগুলো নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ শুরু করেছে। ঈদের আগে তিন দিন মহাসড়কে ট্রাক, কাভার্ডভ্যান ও অন্যান্য ভারী যান চলাচল বন্ধ থাকবে। তবে রপ্তানিযোগ্য পণ্য, খাদ্য, ওষুধ, পচনশীল দ্রব্য, পশুবাহী গাড়ি এর আওতামুক্ত থাকবে।

সড়ক পরিবহনমন্ত্রী বলেন, ‘বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক-মহাসড়কের যেসব রাস্তা এখনো মেরামত করা হয়নি, ঈদের আগের এই সপ্তাহের মধ্যে সব রাস্তাকে চলনসই করার নির্দেশনা দিয়েছি। দীর্ঘমেয়াদি না হলেও অন্তত ঈদের সময় যাতে রাস্তার কারণে যানজটে পড়ে মানুষের ভোগান্তি না হয়, সেটুকু অন্তত করতেই হবে।’

এবিএন/সাদিক/জসিম

এই বিভাগের আরো সংবাদ