প্রিয়া সাহার বক্তব্য একান্তই তার নিজস্ব : রানা দাশগুপ্ত

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ২০ জুলাই ২০১৯, ০৯:১৯

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বাংলাদেশি নারী সংখ্যালঘুদের নিয়ে যে তথ্য উপস্থাপন করেছেন তা নিয়ে বাংলাদেশ হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি রানা দাশগুপ্ত বলেছেন, তাদের সাংগঠনিক সম্পাদক প্রিয়া সাহা হোয়াইট হাউজে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে বাংলাদেশে ‘সংখ্যালঘু নিপীড়নের’ যে অভিযোগ করেছেন তা একান্তই তার নিজস্ব বক্তব্য, সংগঠনের নয়।

ধর্মীয় স্বাধীনতা নিয়ে ওয়াশিংটনে এক সম্মেলনে অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের সঙ্গে গত বুধবার হোয়াইট হাউজে গিয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কাছে অভিযোগ করে প্রিয়া সাহা বলেন, বাংলাদেশে ধর্মীয় সংখ্যালঘুরা মৌলবাদীদের নিপীড়নের শিকার হচ্ছেন। প্রায় ৩ কোটি ৭০ লাখ হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান নিখোঁজ হয়েছেন।

তার ওই বক্তব্য নিয়ে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে চলছে আলোচনা। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মাদ শাহরিয়ার আলম ওই অভিযোগকে উড়িয়ে দিয়ে বলেছেন, ওই নারী কেন এটা করেছেন তা তিনি খতিয়ে দেখবেন। 

আর যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত আর্ল রবার্ট মিলার বলেছেন, আট মাসের অভিজ্ঞতায় বাংলাদেশে যে ধর্মীয় স্বাধীনতা তিনি দেখেছেন তা বিশ্বের জন্য ‘দৃষ্টান্ত’ হতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের আয়োজনে দ্বিতীয়বারের মত আয়োজিত ‘ধর্মীয় স্বাধীনতায় অগ্রগতি’ শীর্ষক তিন দিনের ওই সম্মেলনের সমাপনীতে বৃহস্পতিবার বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আবদুল মোমেনও বক্তব্য দেন।

বাংলাদেশ হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি রানা দাশগুপ্তের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে তিনি বলেন, তার সংগঠন থেকে তিনজন প্রতিনিধিকে ওয়াশিংটনের ওই সম্মেলনে পাঠানো হয়েছিল।

পরিষদের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য অশোক বড়ুয়া ও নির্মল রোজারিও এবং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নির্মল চ্যাটার্জী ছিলন ওই প্রতিনিধি দলে। 

“এর বাইরে আমাদের কোনো প্রতিনিধি ছিলেন না। প্রিয়া সাহা আমাদের সংগঠনের ১১ জন সাংগঠনিক সম্পাদকের একজন। তবে তিনি ওই প্রতিনিধি দলে সদস্য ছিলেন না।”

রানা দাশগুপ্ত বলেন, প্রিয়া যে যুক্তরাষ্ট্রে গেছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলেছেন, তা তিনি জেনেছেন শুক্রবার গণমাধ্যম থেকে।

এর মধ্যে প্রিয়া সাহার সঙ্গে কোনো যোগাযোগ হয়নি জানিয়ে সংগঠনের সভাপতি বলেন, “তিনি যা বলেছেন, এটা তার একান্ত নিজস্ব বক্তব্য, সাংগঠনিক বক্তব্য বা সিদ্ধান্ত নয়।

৩ কোটি ৭০ লাখ হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান নিখোঁজ হয়েছেন বলে প্রিয়া আসলে কী বোঝাতে চেয়েছেন, সেটা তিনিই ভালো বলতে পারবেন বলে মন্তব্য করেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের এই প্রসিকিউটর।

মার্কিন রাষ্ট্রদূত আর্ল মিলার শুক্রবার রাজধানীর মেরুল বাড্ডা বৌদ্ধ বিহারে এক অনুষ্ঠানে গেলে সাংবাদিকরা তাকেও এ বিষয়ে প্রশ্ন করেন।

উত্তর দিতে গিয়ে তিনি বলেন, মার্কিন দূতাবাস বাংলাদেশ থেকে পাঁচজন প্রতিনিধি এবং দুইজন রোহিঙ্গা শরণার্থীকে ওয়াশিংটনের ওই সম্মেলনে পাঠিয়েছিল। সেখানে প্রিয়ার বক্তব্য নিয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করবেন না।

তবে মিলার বলেন, রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব নিয়ে আসার পর গত আট মাসে সবগুলো বিভাগ ঘুরে এবং প্রধান চার ধর্মের উপাসনালয়ে গিয়ে তার ধারণা হয়েছে, ধর্মীয় স্বাধীনতার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ‘উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি’ দেখিয়েছে। 

“আপনি কীভাবে উপাসনা করেন, কীভাবে প্রার্থনা করেন, স্রষ্টাকে আপনি কেমন করে অনুভব করেন-এই সব কিছুর ঊর্ধ্বে থেকে অন্য ধর্মের মানুষকে শ্রদ্ধা করতে পারাটা বিশ্বের জন্যই একটা দৃষ্টান্ত।”  

রাষ্ট্রদূত বলেন, মসজিদ, মন্দির, গির্জা আর প্যাগোডা ঘুরে ইমাম, পুরোহিত আর পাদ্রিদের কাছ থেকে একটি বার্তাই তিনি পেয়েছেন,ঐক্যবদ্ধ না থাকলে কোনো দেশের পক্ষেই উন্নতি করা সম্ভব না।

“এটা আমার দেশের জন্য একটা শিক্ষানীয় বিষয়, পুরো বিশ্বের এখান থেকে শেখার আছে।”

এবিএন/জনি/জসিম/জেডি

এই বিভাগের আরো সংবাদ