বাংলাদেশ, ভারত, নেপালে বন্যায় বাড়ছে মৃতের সংখ্যা

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১৫ জুলাই ২০১৯, ১৮:৩১

ভারী বৃষ্টিপাতের পর বন্যা, ভূমিধস এবং বজ্রপাতে বাংলাদেশ এবং প্রতিবেশী ভারত ও নেপালে অন্তত ৭৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ সংখ্যা প্রতিদিনই বাড়ছে। পাশাপাশি বন্যায় ক্ষয়ক্ষতির ব্যাপক আশঙ্কা করছে নেপালের সংবাদ মাধ্যম ‘দি হিমালয়’।

রোববার পত্রিকাটি জানায়, ভারী বৃষ্টিপাতের ফলে তৈরি হওয়া বন্যা ও ভূমিধসে গত কয়েকদিনে শুধু নেপালেই ৫০ জনের মৃত্যু হয়েছে। আর ভারতের উত্তরপূর্বাঞ্চলে নিহতের সংখ্যা প্রায় ১৪ জন।

এছাড়াও মৌসুমি বৃষ্টিপাতের প্রভাবে বাংলাদেশের গ্রামাঞ্চলে গত শনিবার থেকে বজ্রপাতে মারা গেছে প্রায় ১২ জনের বেশি কৃষক। বন্যা ও ভূমিধসে মারা গেছে আরোও কয়েকজন।

বাংলাদেশের পানি উন্নয়ন বোর্ডের একজন কর্মকর্তা রবিউল ইসলাম ওই দি হিমালয়কে বলেন, সেখানে বন্যায় আক্রান্ত হয়েছেন প্রায় ৪০ হাজার মানুষ। যাদের ঘরবাড়ি বন্যায় প্লাবিত হয়েছে।

মূলত বাংলাদেশ নিম্ন ব-দ্বীপ অঞ্চলে অবস্থিত হওয়ায় এখানে প্রায় ১৩০টির বেশি বড় নদী রয়েছে। ভারি বৃষ্টিপাত এবং ভারতের উজান থেকে আসা পানির ফলে এই নদীগুলো প্রবাহিত হয়ে মৌসুমি বন্যার সৃষ্টি হয়।

ভূমিধসের পাশাপাশি বন্যায় নেপালে প্রায় ৩০ জনের বেশি মানুষ আহত হয়েছে। বন্যায় আটকা পড়া এক হাজার এক‘শ মানুষকে উদ্ধার করে অন্যত্র সরিয়ে নিয়েছে নেপালের প্রশাসন। ধারণা করা হচ্ছে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে বন্যায় কবলিত এলাকা থেকে অন্যত্র সরিয়ে নিতে হবে।

নেপালের জাতীয় জরুরি সেবা কেন্দ্র জানায়, গত শুক্রবারে থেকে মৌসুমি ভারী বৃষ্টিপাতের ফলে ভূমিধসে ও বন্যার কবলে পড়ে এখনো প্রায় ৩০ জন নিখোঁজ রয়েছে। ভূমিধস ও বন্যার কারণে দেশটির প্রায় ৯টি বড় সড়ক বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

সড়কগুলোতে যানচলাচলের জন্য প্রস্তুত করতে কাজ করছে জরুরি সেবা প্রতিষ্ঠানটি। অন্যান্য সড়কগুলো পরিষ্কার করতে দেশটিতে কাজ করছে প্রায় কয়েক হাজার পুলিশ সদস্য। খারাপ আবহাওয়ায় জরুরি সেবা দিতে হেলিকপ্টার নামানো হয়েছে।

নেপালের আবহাওয়া অফিস থেকে আগাম সতর্কবার্তা দেয়া হয়েছে। দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে আরো সংকট তৈরি হতে পারে। বন্যার পানি আরো বাড়তে পারে বলে জানানো হয়েছে।

ভারতের উত্তরপূর্বাঞ্চলে বন্যায় নিহত হয়েছেন প্রায় ১৪ জন। বন্যায় কবলিত হয়েছে প্রায় ১০ লাখ মানুষ।দেশটির অরুণাচল, আসাম, সিকিম, মিজোরাম, মেঘালয় রাজ্যগুলোতে বন্যার প্রকোপ বৃদ্ধি পাচ্ছে।

এবিএন/মমিন/জসিম

এই বিভাগের আরো সংবাদ