আজকের শিশুরাই সোনার বাংলা গড়বে : প্রধানমন্ত্রী

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ২৬ মার্চ ২০১৯, ১০:৫৪ | আপডেট : ২৬ মার্চ ২০১৯, ১২:৫২

আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আজকের শিশুরাই একদিন সোনার বাংলা গড়বে। তারাই একদিন দেশের নেতৃত্ব দেবে।

আজ মঙ্গলবার (২৬ মার্চ) সকালে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে শিশু-কিশোর সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন। বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, শিশুদের দেশপ্রেমিক ও সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করছে সরকার। প্রযুক্তি শিক্ষায় শিশুরা যেন গড়ে উঠতে পারে এমন শিক্ষা পদ্ধতি প্রণয়ন করছে সরকার।

তিনি বলেন, আজকের শিশুরাই আগামী দিনের প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী হবে। তারা দেশ পরিচালনা করবে। তাদের সেভাবেই গড়ে উঠতে হবে।

শেখ হাসিনা বলেন, অভিভাবকরা জঙ্গিবাদ ও মাদক সম্পর্কে আপনারা শিশুদের বোঝাবেন। আজকের শিশুরাই আগামী দিনে দেশকে এগিয়ে নিবে। তাদের এগিয়ে যেতে হবে।

তিনি বলেন, তোমরা বাবা-মা ও শিক্ষকদের কথা শুনবে, মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা করবে, শরীরের যতœ নেবে। তোমাদেরকেই গঠন করতে হবে বলিষ্ঠ জাতি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বাধীন দেশে প্রতিটি মানুষ সুন্দরভাবে বাঁচবে এবং একটু উন্নত জীবন পাবে এটাই ছিল জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্ন। আজ আমরা লাল-সবুজ পতাকা পেয়েছি। আমরা একটি দেশ পেয়েছি। জাতি হিসেবে আত্মমর্যাদা পেয়েছি। এই মর্যাদাকে উন্নত ও সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নেওয়াই ছিল জাতির পিতার মূল লক্ষ্য। ছোট বেলা থেকেই তিনি ছোটদের কল্যাণে কাজ করেছেন। আমরা যে মাতৃভাষায় কথা বলি সেই বাংলা ভাষায় কথা বলার অধিকার আদায়ের সংগ্রাম থেকে, অর্থাৎ সেই ১৯৪৮ থেকে তিনি যে যাত্রা শুরু করেছিলেন ১৯৭১ সালে তারই নেতৃত্বে আমরা মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে স্বাধীনতা অর্জন করি।

তিনি বলেন, একটি দেশকে উন্নত ও সমৃদ্ধশালী করা, ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তোলা এটাই ছিল জাতির পিতার লক্ষ্য।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশর মানুষ এক সময় হতদরিদ্র ছিল। এমন ছিল যে- এক বেলা খেতেও পারত না। শিশুরা অপুষ্টিতে ভুগতো। শিশু ও মাতৃ মৃত্যুর হার অনেক বৃদ্ধি ছিল। মানুষ চিকিৎসা পেত না, শিক্ষা পেত না। জাতির পিতা দেশ স্বাধীন করেছিলেন। তার লক্ষ্য ছিল এ দেশের প্রতিটি শিশু শিক্ষা গ্রহণ করবে, প্রতিটি নাগরিক সুশিক্ষিত হবে, দেশ ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত হবে, উন্নত ও সমৃদ্ধশালী হবে। সেই লক্ষ্য নিয়েই তিনি যুদ্ধ বিদ্ধস্ত বাংলাদেশ গঠনের কাজ শুরু করেন। কিন্তু হাতে সময় পেয়েছিলেন মাত্র সাড়ে তিন বছর। এই অল্প সময়ের মধ্যে দেশ গঠন করতে গিয়ে যখন তিনি উন্নয়নের পথে যাত্রা শুরু করেন এবং এর শুভ ফল দেশবাসী পেতে শুরু করে, আমাদের দুর্ভাগ্য ’৭৫ এর ১৫ আগষ্ট জাতির পিতাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হলো। সেই সঙ্গে আমার মা, ভাইসহ আমার পরিবারকে। এই হত্যার মধ্য দিয়ে আমাদের অগ্রযাত্রা ব্যহত হলো।’

তিনি বলেন, ২১ বছর পর আওয়ামী লীগ যখন ক্ষমতায় আসে তার পর থেকেই আমাদের উন্নয়নের যাত্রা শুরু। ৫ বছর ক্ষমতায় ছিলাম, দেশকে আমরা খাদ্যে সয়ংসম্পূর্ণ করেছিলাম। বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়িয়েছিলাম। এরপর ২০০৮-এ জনগণ আবারও নৌকা মার্কাকে ভোট দিয়ে আমাদের দেশে সেবার সুযোগ দেয়। ২০০৮ থেকে এ পর্যন্ত আমরা রাষ্ট্র পরিচালনা করে বাংলাদেশকে আজ আমরা উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে উন্নিত করেছি।

এর আগে সকাল ৮টায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতীয় স্টেডিয়ামে উপস্থিত হলে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক ও ঢাকা জেলা প্রশাসক আবু সালেহ মোহাম্মদ ফেরদৌস খান তাকে অভিবাদন জানান। এর পর প্রধানমন্ত্রী জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন। এ সময় এক সঙ্গে জাতীয় সঙ্গীত গাওয়া হয়।

বেলুন ও শান্তির প্রতীক পায়রা উড়িয়ে ৪৯তম স্বাধীনতা দিবস ও শিশু কিশোর সমাবেশের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

এবিএন/সাদিক/জসিম

এই বিভাগের আরো সংবাদ
well-food