ফেব্রুয়ারিতে একসঙ্গে বিশ্ব ইজতেমা

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ২৩ জানুয়ারি ২০১৯, ১৫:০৬ | আপডেট : ২৩ জানুয়ারি ২০১৯, ১৫:৩৮

দীর্ঘ সময়ের মতাদর্শিক দ্বন্দ্ব আর রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ভুলে ইসলাম ও দেশের স্বার্থে টঙ্গীর তুরাগতীরে একসঙ্গে বিশ্ব ইজতেমা পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিবদমান দুপক্ষ।

আজ বুধবার দুপুরে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে দুপক্ষের সঙ্গে বৈঠক শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

মন্ত্রী বলেন, আজকে দুপক্ষকে নিয়ে আমরা বৈঠকে বসেছিলাম। একটা হলো মাওলানা ওয়াশেখের নেতৃত্বে। আরেকটি হলো মাওলানা জুবায়েরের নেতৃত্বে। এ ছাড়া দুই পক্ষের সবাই এখানে উপস্থিত ছিলেন। খোলামেলা আলাপ হয়েছে। আলাপের পর সিদ্ধান্ত হলো, আগামী ফেব্রুয়ারি মাসের যেকোনো সময় টঙ্গীতে বিশ্ব ইজতেমা হবে। দুপক্ষই একত্রে এ ইজতেমা করবে।

তবে ইজতেমা কীভাবে সম্পন্ন হবে সে বিষয়ে আগামীকাল সকাল সাড়ে ১০টায় ধর্ম প্রতিমন্ত্রীর নেতৃত্বে আরেকটি সভা হবে বলে জানান স্বরাষ্ট্রমমন্ত্রী।

তিনি বলেন, সেই সভাতে কবে, কখন এবং কীভাবে ইজতেমা হবে সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, মাওলানা সাদ এই ইজতেমায় আসবেন না বলে সিদ্ধান্ত হয়েছে।

সাংবাদিকদের আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ইজতেমা দুইবারে হবে নাকি একবারেই সম্পন্ন হবে সে বিষয়ে আগামীকাল সিদ্ধান্ত হবে।

এ সময় ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ বলেন, ঐক্যবদ্ধভাবে একটাই ইজতেমা হবে, দুইটা হবে না। সারা দেশে যে গোলযোগ হচ্ছে সেটি কাম্য নয়।

তবলিগ জামাতের ভেতরে দুটি গ্রুপের দ্বন্দ্ব চলছে বেশ কিছুদিন ধরে, যা সহিংস রূপ গত ডিসেম্বরে সংঘর্ষের মধ্যে দিয়ে। এ দ্বন্দ্বের কেন্দ্রে আছেন তবলিগ জামাতের কেন্দ্রীয় নেতা ভারতীয় মোহাম্মদ সাদ কান্দালভী। এ অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণেই ঢাকার টঙ্গীতে এবার বিশ্ব ইজতেমা হতে পারেনি। তবলিগ জামাতের একটি গ্রুপ ১১ জানুয়ারি থেকে ইজতেমা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। কিন্তু বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান গত নভেম্বরেই তবলিগ জামাতের দুগ্রুপকে নিয়ে বৈঠক করেন- যেখানে ওই তারিখে ইজতেমা না করার সিদ্ধান্ত হয়।

বেশ কিছুদিন ধরেই কান্দালভী তবলিগ জামাতে এমন কিছু সংস্কারের কথা বলছেন, যা এ আন্দোলনে বিভক্তি সৃষ্টি করেছে।

সাদ কান্দালভি বলেন, ‘ধর্মীয় শিক্ষা বা ধর্মীয় প্রচারণা অর্থের বিনিময়ে করা উচিত নয়।’ যার মধ্যে মিলাদ বা ওয়াজ মাহফিলের মতো কর্মকাণ্ড পড়ে বলে মনে করা হয়।

কিন্তু তার বিরোধীরা বলছেন, সাদ কান্দালভি যা বলছেন তা তবলিগ জামাতের প্রতিষ্ঠাতা নেতাদের নির্দেশিত পন্থার বিরোধী।

২০১৮ সালের জানুয়ারি মাসে ইজতেমায় অংশ নেওয়ার জন্য সাদ কান্দালভী ঢাকায় আসলেও ইজতেমায় অংশ নিতে পারেননি। তিনি কাকরাইল মসজিদে অবরুদ্ধ ছিলেন।

 

এবিএন/সাদিক/জসিম

এই বিভাগের আরো সংবাদ