টিআইবির প্রতিবেদন রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত : তথ্যমন্ত্রী

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১৬ জানুয়ারি ২০১৯, ১৪:৪৩

গত ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচন নিয়ে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) দেওয়া গবেষণা প্রতিবেদন একপেশে এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে মন্তব্য করেছে তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ এমপি।

আজ বুধবার (১৬ জানুয়ারি) বেলা সোয়া ১১টার দিকে চট্টগ্রাম নগরের দেওয়ানজি পুকুরপাড় এলাকায় নিজ বাসায় সংবাদ সম্মেলন করে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, প্রকৃতপক্ষে দেশে কয়েকটি সংগঠন আছে যারা দেশের ভাবমূর্তি উজ্জল করা নয়, বরং ক্ষুণ্ন করার কাজেই লিপ্ত থাকে। টিআইবি বিভিন্ন সময় বিভিন্ন বিষয় নিয়ে যে প্রতিবেদন প্রকাশ করে ও বলে তা ধারণাপ্রসূত। আমরা অতীতেও দেখতে পেয়েছি, তারা যে গবেষণার কথা বলে সেগুলো প্রকৃতপক্ষে কোনো সঠিক গবেষণা নয়। বেশিরভাগই একপেশে ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, এর আগেও দেশের বিরুদ্ধে নানা ধরনের প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে টিআইবি। পদ্মা সেতুতে যে কোনো দুর্নীতি হয়নি তা শুধু দেশে নয়, বিদেশেও প্রমাণিত হয়েছে। বিশ্বব্যাংক কানাডার আদালতে মামলা করেছিল, সেই মামলায় বিশ্বব্যাংক হেরে গেছে। 

তিনি বলেন, এর পর টিআইবিসহ যে সব সংস্থা পদ্মা সেতু নিয়ে দুর্নীতির কল্পকাহিনী সাজিয়েছিল; তাদের জনগণের কাছে ক্ষমা চাওয়া উচিত ছিল। তাদের এ ধরনের মনগড়া, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রতিবেদন প্রকাশ করা থেকে বিরত থাকা উচিত। কিন্তু সেটি তারা করেনি। নির্বাচন নিয়ে বক্তব্য, গবেষণার কথা বলে যে প্রতিবেদন মঙ্গলবার টিআইবি প্রকাশ করেছে তার সঙ্গে বিএনপির বক্তব্যের কোনো পার্থক্য নেই। প্রকৃতপক্ষে এটি বিএনপি-জামায়াতের পক্ষে টিআইবি একটি প্রতিবেদন দিয়েছে মাত্র, অন্য কিছু নয়। এই নির্বাচন দেশ-বিদেশ সব জায়গায় প্রশংসিত হয়েছে। যারা আমাদের দেশে নির্বাচন পর্যবেক্ষণের জন্য এসেছিল, তারা সবাই এই নির্বাচনের প্রশংসা করেছে।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে বিগত সময়ে যত সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে, এরমধ্যে ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত নির্বাচন অপেক্ষাকৃত অনেক শান্তিপূর্ণ হয়েছে। বিভিন্ন দেশ এ নির্বাচনের পর বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন জোট এবং আমাদের সভানেত্রীকে অভিনন্দন জানিয়েছে। বিদেশি রাষ্ট্রদূতরা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে একসঙ্গে কাজ করার অভিপ্রায় পুনঃব্যক্ত করেছেন। এমনকি পাকিস্তানও অভিনন্দন জানিয়েছে।

তিনি বলেন, যদিও একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অপেক্ষাকৃত শান্তিপূর্ণ হয়েছে। তারপরও নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের ২২ জন নেতাকর্মী নিহত হয়েছেন। টিআইবির প্রতিবেদনে এ নিয়ে কোনো বক্তব্য নেই। ‘বাংলাদেশের ইতিহাসে কোননো রাজনৈতিক দল ৩০০ আসনে ৮০০ মনোনয়ন দেয়নি। বিএনপি লজ্জাজনকভাবে মনোনয়ন বাণিজ্যের মাধ্যমে প্রায় তিনগুণ প্রার্থীকে মনোনয়ন দিয়েছে। বিএনপির এই বাণিজ্য নিয়ে টিআইবির কোনো বক্তব্য প্রতিবেদনে নেই।’

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রক্রিয়া পর্যালোচনার’ প্রাথমিক প্রতিবেদন প্রকাশ উপলক্ষে মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে টিআইবি বলেছে, প্রার্থীরা সমান সুযোগ না পাওয়াসহ বিভিন্ন ত্রুটির কারণে একাদশ সংসদ নির্বাচন ‘প্রশ্নবিদ্ধ ও বিতর্কিত’। দুর্নীতির বিরুদ্ধে জনমত তৈরিতে প্রচার কার্যক্রম পরিচালনাকারী সংস্থাটির মতে, এ ধরনের নির্বাচন গণতন্ত্রের জন্য ইতিবাচক নয়। এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের বক্তব্য তুলে ধরতেই আজ (বুধবার) সংবাদ সম্মেলন করেন দলটির তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ।

এবিএন/সাদিক/জসিম

এই বিভাগের আরো সংবাদ
well-food