ফিরে দেখা ২০১৮

বছরের আলোচিত ১০ চরিত্র

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ০১ জানুয়ারি ২০১৯, ০১:১৯ | আপডেট : ০১ জানুয়ারি ২০১৯, ০৯:৫৪

দেখতে দেখতেই শেষ হয়ে গেল ২০১৮ সাল। জাতীয় সংসদ নির্বাচন, কোটা আন্দোলন, নিরাপদ সড়ক আন্দোলন, খেলার মাঠে টাইগারদের আধিপত্য- নানা ঘটনা-অঘটনায় খবরের পাতা ছিলো সরগরম। এরমধ্যে ব্যক্তি হিসেবে সবচেয়ে বেশি আলোচিত হয়েছেন- এমন দশজনের তালিকা দেখে নেওয়া যাক একনজরে।

১. শেখ হাসিনা

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে টানা তৃতীয়বার প্রধানমন্ত্রী হচ্ছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। নির্বাচন ঘিরে দলীয় মনোনয়ন, বিরোধীদের সঙ্গে সংলাপ, মিয়ানমার থেকে বিতাড়িত রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে ‘মাদার অব হিউম্যানিটি’ খেতাব লাভ, শান্তিতে নোবেল পুরস্কারে মনোনীতদের তালিকায় নাম, বিশ্বের ২৬তম ক্ষমতাধর নারীর স্বীকৃতিসহ নানা কারণে সারাবছরই আলোচনায় ছিলেন শেখ হাসিনা।

২. বেগম খালেদা জিয়া

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া আলোচনায় ছিলেন রাজনৈতিক নয়, বরং আদালতের কারণে। জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় তাকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেন আদালত। পরে সেই সাজা বাড়িয়ে দশ বছর করেন হাইকোর্ট। এরমধ্যে খালেদা জিয়া অসুস্থ দাবি করে বেশ কয়েক দফা উন্নত চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তির আবেদন জানায় বিএনপি। এছাড়া, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খালেদা জিয়ার প্রার্থিতা বাতিল, তাকে ছাড়াই বিএনপির নির্বাচনে অংশ নেওয়া নানা কারণে তিনিও সারাবছর আলোচনায় ছিলেন তিনি। বর্তমানে তিনি পুরান ঢাকার প্রাক্তন কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি আছেন।

৩. ড. কামাল হোসেন

বছরের অন্যতম আলোচিত চরিত্র প্রবীণ রাজনীতিবিদ ও বাংলাদেশের সংবিধান প্রণেতা হিসেবে পরিচিত ড. কামাল হোসেন। দীর্ঘদিন রাজনৈতিকভাবে নিষ্ক্রিয় থাকলেও বছরের মাঝামাঝি সরকারবিরোধী জোট হিসেবে জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া গঠনের ঘোষণা দিয়ে আলোচনায় আসেন। নানা নাটকীয়তার পর জোট থেকে বি চৌধুরীর বিদায় ও বিএনপির অন্তর্ভূক্তির মাধ্যমে আত্মপ্রকাশ ঘটে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের। এই জোটের শীর্ষ নেতা হিসেবেই আলোচনায় ছিলেন ড. কামাল। এর মধ্যে বি চৌধুরীর সঙ্গে দ্বন্দ, জামায়াত ইস্যুতে বিতর্ক, নির্বাচনে অংশ না দেওয়া, সাংবাদিকের সঙ্গে দুর্ববহার প্রভৃতি কারণে খবচরের শিরোনাম হয়েছেন তিনি।

৪. মাশরাফি বিন মর্তুজা

চলতি বছরে ক্রিকেট ক্যারিয়ারের ১৭তম বর্ষে পা দিয়েছেন ওয়ানডেতে টাইগার দলপতি মাশরাফি বিন মর্তুজা। এ বছরই হাবিবুল বাশারকে পেছনে ফেলে অধিনায়ক হিসেবে সবচেয়ে বেশি জয়ের রেকর্ড গড়েছেন তিনি। এছাড়া প্রথম বাংলাদেশি ক্রিকেটার হিসেবে ২০০ ওয়ানডের মাইলফলকও স্পর্শ করেছেন নড়াইল এক্সপ্রেস। তার নেতৃত্বে প্রথমবারের মতো র্যাং কিংয়ে সেরা আটে থেকে সরাসরি চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে খেলেছে বাংলাদেশ। তবে সব ছাপিয়ে গেছে মাশরাফির রাজনীতিতে আসার খবরে। এবারের নির্বাচনে নড়াইল-২ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে লড়েছেন তিনি। জয়ী হয়েছেনও রেকর্ড পরিমাণ ভোট ব্যবধানে। তবে তার রাজনীতিতে যোগদান ভালভাবে দেখেনি অনেকেই। সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক সমালোচনা হয়েছে এ নিয়ে।

৫. দিয়া খানম ও আবদুল করিম

২৯ জুলাই কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের সামনের বিমানবন্দর সড়কে বেপরোয়া একটি বাসের চাপায় নিহত হন শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দুই শিক্ষার্থী দিয়া খানম মিম ও আবদুল করিম রাজীব। এ ঘটনা ক্ষোভের আগুন জ্বেলে দেয় শিক্ষার্থীদের মনে। দোষীদের শাস্তি ও নিরাপদ সড়কের দাবিতে রাস্তায় নেমে আসে স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীরা। একে একে তাদের সঙ্গে যোগ দেয় কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও। আন্দোলনে সমর্থন জানায় সাধারণ জনগণও। দেখতে দেখতে আন্দালন ছড়িয়ে পড়ে সারাদেশে। আন্দোলন চলাকালে ধানমন্ডিতে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালায় হেলমেটধারী সন্ত্রাসীরা। এসময় বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী নিহত ও একাধিক ছাত্রী ধর্ষণের শিকার হয়েছে বলে গুজব ছড়িয়ে পড়ে। বিশ্বমিডিয়ায় গুরুত্বসহকারে প্রচার হয় এসব খবর। পরবর্তীতে প্রধানমন্ত্রীর আশ্বাসে আন্দোলন স্থগিত করে শিক্ষার্থীরা। নিহত দিয়া ও রাজীবের পরিবারকে ২০ লাখ টাকা করে অনুদান দেন প্রধানমন্ত্রী।

৬. ড. শহিদুল আলম

নিরাপদ সড়ক আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের উসকানি ও গুজব প্রচারের অভিযোগে গত ৫ আগস্ট গ্রেফতার করা হয় আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন আলোকচিত্রী ড. শহিদুল আলমকে। তথ্য-প্রযুক্তি আইনের মামলায় ৬ আগস্ট তাকে রিমান্ডে নেয় পুলিশ। পরে তার জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত। শহিদুল আলমকে গ্রেফতারের প্রতিবাদ জানান দেশী-বিদেশি বিশিষ্টজনেরা। তার দ্রত মুক্তি চেয়ে বিবৃতি দেন ডেসমন্ড টুটু ও তাওয়াক্কুল কারমানসহ ১১ নোবেলজয়ী। গত ১৫ নভেম্বর শহিদুল আলমের জামিন মঞ্জুর করেন হাইকোর্ট। সর্বশেষ, ২০ নভেম্বর জামিনে মুক্তি পান এই বিখ্যাত আলোকচিত্রী।

৭. সাকিব আল হাসান

বাংলাদেশের প্রাণ, সাকিব আল হাসান- কথাটা এদেশের ক্রিকেটে এখন প্রবাদতুল্য। সাফল্যমণ্ডিত ২০১৮তেও টাইগারদের সামনে থেকেই নেতৃত্ব দিয়েছেন বিশ্বের অন্যতম সেরা এই অলরাউন্ডার। হাতের ইনজুরিতে দীর্ঘ বিরতি, ফিরে এসেই ব্যাটে-বলে দুর্দান্ত ণৈপূণ্য, ক্যারিবীয়ানদের বিপক্ষে ম্যান অব দ্যা সিরিজের পুরস্কার, র্যাং কিংয়ে বিশাল লাফ, বছরের সেরা ওয়ানডে একাদশে জায়গা পাওয়া- এসব নিয়ে আলোচনায় ছিলেন পুরো বছর জুড়েই। এরমাঝে গুঞ্জন উঠেছিলো, মাশরাফির মতো তিনিও আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পাচ্ছেন। তবে শেষ পর্যন্ত সেটা না ঘটলেও নৌকা প্রতীকের প্রচারণায় তার ছিল সরব উপস্থিতি। সব মিলিয়ে সাকিব খবরের শিরোনাম হয়েছেন বারবার।

৮. শাকিব খান

বাংলা চলচ্চিত্রের এক নাম্বার হিরো শাকিব খানকে নিয়ে এ বছর মিডিয়ায় ছিল মিশ্র আলোচনা। নানা নাটকীয়তায় ভরপুর শাকিব-অপুর সংসার ভেঙ্গেছে এ বছরই।

গত ১২ মার্চ আনুষ্ঠানিকভাবে বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটে তাদের। একই সময় চিত্রনায়িকা বুবলির সঙ্গে শাকিবের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের গুঞ্জন ছড়ায়। এছাড়া টালিউডের বেশ কয়েকটি সিনেমায় অভিনয় করে নজর কাড়েন এই ঢালিউড সুপারস্টার। বছরের শেষদিকে সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হওয়ার খবরও ছড়ায় মিডিয়ায়। শোনা যায়, ভক্তদের অনুরোধেই শেষ পর্যন্ত মনোনয়নপত্র সংগহ থেকে বিরত ছিলেন তিনি।

৯. সেফুদা

বছরের অন্যতম আলোচিত চরিত্র সিফাত উল্লাহ ওরফে সেফুদা। সোশ্যাল মিডিয়ায় নানা অশ্লীল, অসঙ্গতিপূর্ণ ভিডিওবার্তা ছড়িয়ে বেশ আলোচনায় আসেন তিনি। অল্প সময়ে ফেসবুক তারকা বনে যাওয়া সেফুদা মানসিক রোগী বলে জানায় তার পরবারের সদস্যরা। তার পুরো নাম সেফাতউল্লাহ মজুমদার। লেখাপড়া করেছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে। ১৯৯০ সাল থেকে তিনি অস্ট্রিয়ার রাজধানীর ভিয়েনায় পাড়ি জমান। জানা যায়, এক পারিবারিক ঝগড়ার কারণে কোর্টের রায়ে দীর্ঘদিন ভিয়েনায় জেল খাটেন সেফাতউল্লাহ। মুক্ত হবার পর অস্ট্রিয়ার আইন অনুযায়ী তার লিগ্যাল হবার সব রাস্তা বন্ধ হয়ে যায়। যার প্রভাব পড়ে তার ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জীবনে। স্ত্রী সন্তানদের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন ও মাদকাসক্ত হয়ে ওঠেন তিনি। পরবর্তীতে মানসিক বিকারগ্রস্ত হয়ে পড়েন সেফাতউল্লাহ। পরবর্তীতে ফেসবুক লাইভে অশ্লীল বক্তব্য দেওয়া শুরু করেন তিনি। তার ‘মদ খা’, ‘হিংসে হয়’ বচনগুলো ভাইরাল হয় দ্রুতই।

১০. হিরো আলম

বগুড়ার ক্যাবল ব্যবসায়ী আশরাফুল আলম ওরফে হিরো আলম আলোচনায় থাকেন সারাবছরই। এ বছরই ঢালিউডের পর সুযোগ পেয়েছেন টালিউড-বলিউডের সিনেমাতেও। কমেডিয়ান হিসেবে পরিচিত হলেও তার কর্মকাণ্ড ঠিকই তাকে তারকা বানিয়ে দিয়েছে। এ বছর বাংলাদেশে গুগলে সবচেয়ে বেশি খোঁজা নামের তালিকায় হিরো আলম আছেন ১০ নম্বরে। এছাড়া একাদশ জাতীয় সংসদে নির্বাচনে অংশগ্রহণের কারণেও ব্যাপক আলোচনা হয়েছে তাকে নিয়ে। প্রথমে জাতীয় পার্টি থেকে মনোনয়নপত্র কেনা, নানা নাটকীয়তার পর স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়া, বাছাইয়ে মনোনয়নপত্র বাতিল, হাইকোর্টে আপিল, প্রার্থিতা ফেরত পাওয়া, প্রতীক বরাদ্দে বিলম্ব, সর্বশেষ ভোটের দিন তাকে মারধোরের ভিডিও ভাইরাল ও নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা- বছরের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত খবরের ‘হিরো’ হয়েছেন হিরো আলমই।

এবিএন/শংকর রায়/জসিম/পিংকি

এই বিভাগের আরো সংবাদ