আস্থা ফেরাতে নির্বাচন কমিশনকে স্বচ্ছতা দৃশ্যমান করতে হবে: সুজন

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ০৬ ডিসেম্বর ২০১৮, ১৮:২১

‘নির্বাচন কমিশন সরকারের অসন্তোষ নিয়ে নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারবে না। তাই জনগণের আস্থা ফেরাতে কমিশনের দায়িত্ব ও স্বচ্ছতা দৃশ্যমান করতে হবে। কমিশনকে জনগণের ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠায় নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করতে হবে। রাজনৈতিক দলগুলেকেও দল ও দেশ পরিচালনায় তাদের ভূমিকা কী হবে তা নির্বাচনি ইশতেহারে উল্লেখ করতে হবে।’ বৃহস্পতিবার (৬ ডিসেম্বর) ‘নির্বাচনি ইশতেহার: নাগরিক প্রত্যাশা’ শীর্ষক আলোচনা ও সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন ‘সুশাসনের জন্য নাগরিকের’ (সুজন) নেতারা। সংবাদ সম্মেলনে রাজনৈতিক দলগুলোর ইশতেহারে কী থাকতে হবে তা বিস্তারিত তুলে ধরা হয়।

অনুষ্ঠানে কলামিস্ট ও সুজনের নির্বাহী সৈয়দ আবুল মকসুদ বলেন, ‘সরকারের অসন্তোষ নিয়ে নির্বাচন কমিশন কাজ করতে পারবে না। যেভাবে তারা কাজ করতে চায় তারা পারছে না। সরকারি দলের লোকজন যেভাবে নির্বাচন কশিশনের প্রশংসা করছেন তাতে মনে হচ্ছে সরকারি দলের লোকজন নির্বাচন কমিশনের জনসংযোগে নেমেছেন। এ অবস্থায় জনগণের আস্থা ফেরাতে হলে তাদেরই প্রমাণ করতে হবে তারা দায়িত্ব পালন করতে সক্ষম, স্বচ্ছ নির্বাচন করতে পারবে। নির্বাচন কমিশনকে তাদের স্বচ্ছতা ও দায়িত্ব দৃশ্যমান করতে হবে।’

নির্বাচনি ইশতেহার বিষয়ে সুজনের লিখিত সুপারিশ উত্থাপন করে সংগঠনটির সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতায় বিশ্বাসী হয়ে রাজনীতি করতে হবে। রাষ্ট্রীয় আদর্শের সঙ্গে দলগুলোর আদর্শের সঙ্গতি থাকতে হবে। সরকার ও দেশ পরিচালনায় জনগণের মালিকানা নিশ্চিত করতে হবে। রাজনৈতিক দলগুলোর ইতিহাস ও দল পরিচালনায় তাদের কার কী ভূমিকা তা তুলে ধরতে হবে। গণতন্ত্র, উন্নয়ন ও সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে হবে, জনগণের অধিকার আদায়ে রাজনৈতিক দলগুলোর অর্জন তুলে ধরতে হবে। ক্ষমতায় থাকালে নির্বাচনি ইশতেহার কতটুকু বাস্তবায়ন হয়েছে তা উল্লেখ করতে হবে। আগামী দিনের চ্যালেঞ্জ তুলে ধরতে হবে।

সুশাসন প্রতিষ্ঠায় ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠার অগ্রাধিকার দিতে হবে, যাতে সত্যিকার অর্থে জনগণের সম্মতির শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রয়েজনীয় নির্বাচনি সংস্কারের রূপরেখা দিতে হবে, নির্বাচনে প্রার্থীর যোগ্যতা-অযোগ্যতা, হলফনামার সংস্কার, হলফনামা যাচাই-বাছাই, নির্বাচনি ব্যয়ে স্বচ্ছতা, না ভোটের বিধান করতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘শাসন ব্যবস্থার একচ্ছত্র প্রাধান্যের অবসান করতে হবে। সাংবিধানিক সংস্কার, মেয়াদের সীমা নির্ধারণ, দ্বি-কক্ষবিশিষ্ট সংসদ, গণভোট, রিকল ব্যবস্থা, আদিবাসীদের সাংবিধানিক সাংবিধানিক স্বীকৃতি ও ধর্মনিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে হবে।’

রাজনৈতিক দলগুলোর ইস্তেহার বাস্তবায়নের বিষয়ে সৈয়দ আবুল মকসুদ বলেন, ‘যে দলীয় ক্ষমতায় যায় সেই দলই রাজনৈতিক ইশতেহার বাস্তবায়ন ভুলে যায়। তাই এবার তাদের আগের নির্বাচনি ইশতেহারে কতটা বাস্তবায়ন হয়েছে আর কতটা হয়নি তা তুলে ধরতে হবে।’

সুজনের সভাপতি এম হাফিজ উদ্দিন খান বলেন, ‘যেসব আইন-কানুন রয়েছে তা যদি বাস্তবায়ন করা যায়, তাহলে আশা করা যায় সুষ্ঠু নির্বাচন করা সম্ভব হবে।’

নির্বাচনি ইশতেহারে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি এম হাফিজ উদ্দিন খান বলেন, ‘রাজনৈতিক দলগুলোর উচিত তারা যে ইশতেহার ঘোষণা করবে তারা ক্ষমতায় যাওয়ার পর তা বাস্তবায়ন করা হয়। ক্ষমতায় যাওয়ার পর তারা তাদের অঙ্গীকার অধিকাংশই বাস্তবায়ন করে না। নির্বাচনি ইশতেহারেও তাদের এ বিষয়টি স্পষ্ট করতে হবে।’

সুজনের নির্বাহী সদস্য ও আইনজীবী সৈয়দা রেজওয়ানা হাসান বলেন, ‘যে রাজনৈতিক দল ক্ষমতায় যাবেন তারা যেনও তাদের অঙ্গীকার ভুলে না যান। স্বাধীন দেশে নির্বাচনের সময় আমি আমার মতামত প্রকাশ করতে পারবো না। তাহলে নির্বাচন কমিশন ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে ব্যবস্থা নেবে। এটা থাকলে জনগণ কীভাবে তাদের গণতান্ত্রিক স্বাধীন মতামত ব্যক্ত করবে।’

এবিএন/মমিন/জসিম

এই বিভাগের আরো সংবাদ