এবার নির্বাচন বয়কট না করে ভোট পাহারা দিবো : ড. কামাল 

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১৭ নভেম্বর ২০১৮, ১৮:৩০ | আপডেট : ১৭ নভেম্বর ২০১৮, ২০:০৪

গতবারের মতো এবার আর নির্বাচন বয়কট না করে ভোট পাহারা দেয়ার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ড. কামাল হোসেন। আজ শনিবার দুপুরে সুপ্রিমকোর্ট চত্বরে জাতীয় আইনজীবী ঐক্যফ্রন্টের আয়োজনে মহাসমাবেশে তিনি এ কথা বলেন।

ড. কামাল হোসেন বলেন, ৫ বছর ভাওতাবাজি করে ক্ষমতায় থেকেছেন। ভাওতাবাজির জন্য কোনো মেডেল থাকলে তাদেরকে (সরকারকে) দেয়া উচিত। আর হবে না। এখন দ্রুত আমরা অবাধ, নিরপেক্ষ নির্বাচন চাই।

ঐক্যফ্রন্ট নেতাদের তিনি বলেন, আমি হাতজোড় করে বলবো, বয়কট আমরা চাই না। নির্বাচন বয়কট করবো না। আমরা নির্বাচন করবো, আমরা ভোট দিব। হাজারে হাজারে আমরা ভোট দিব। ৭০’ এ আমি বঙ্গবন্ধুর নির্বাচনে ঘরে ঘরে গিয়ে ভোট চেয়েছি। এবারও সেরকম আমরা করবো।

তিনি বলেন, নির্বাচনে পাহারা দিতে হবে। গুন্ডা পান্ডা যাই হোক, আমরা সংঘবদ্ধ হলে তারা টিকবে না। ৭০’ এর নির্বাচনেও সরকার গুন্ডা নিয়ে এসেছিলো। কিন্তু আমাদের স্লোগানের সামনে পালিয়েছিল৷ জনগণ ঐক্যবদ্ধ হোন। জনগণকে দেশের মালিক হতে হবে। এটাই সংবিধানের নিয়ম।

তিনি বলেন, এতদিন তারা ভোট ছাড়া থেকেছে৷ এখন আরেক ধাপ জালিয়াতি করে টিকতে চাইবে। কিন্তু আমরা তা হতে দিতে পারি না। আপনারা সংঘবদ্ধ হোন।

এসময় সরকারের উদ্দেশে কামাল হোসেন বলেন, ভাওতাবাজির জন্য কোনো মেডেল দিতে হলে বর্তমান সরকারকে দেয়া উচিত। সংবিধানের মূল বিষয় হলো গণতন্ত্র। গণতন্ত্র কি আছে দেশে? আমি এতদিন সহ্য করেছি৷আমি নিজেও জানি না কিভাবে এমন অন্যায় সহ্য করলাম।

তিনি বলেন, তারা (সরকার) ২০১৪ সালে বলেছিলো দ্রুত একটি নির্বাচন দেবে। আমি ভাবলাম দেবে। বিশ্বাস করলাম। দ্রুত নির্বাচনের কথা বলে তারা ৫ বছর ক্ষমতায় থেকে গেলো। এটা কি দ্রুত নির্বাচন? তারা এভাবে ভাওতাবাজি করে ৫ বছর টিকে আছে ক্ষমতায়। অবশেষে এখন একটি নির্বাচন দেয়ার কথা বলছে। এই নির্বাচনকে জনগণের ভোট নিশ্চিত করতে হবে।

ড. কামাল বলেন, আইনজীবীদের ঐক্য হলো যেকোনো ঐক্যের চেয়ে সবচেয়ে বড় শক্তি। এই শক্তি যেকোনো সরকারকে কাঁপিয়ে দিতে পারে।

গণফোরাম নেতা বলেন, ক্ষমতা থাকলে যা কিছু ইচ্ছা করে পার পাওয়া যাবে না। এটা বাংলাদেশ। হঠাৎ করে মন্ত্রী হয়ে যা তা করে পার পেয়ে যাবে, তা ভেবো না। পার পাবে না। প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহাকে ‘তোকে কে নিয়োগ দিয়েছে’ যে মন্ত্রী সম্বোধন করেছে সে মন্ত্রীকে শনাক্ত করুন। আমি নিজে তার বিরুদ্ধে মামলায় লড়াই করবো। এভাবে দেশের প্রধান বিচারপতিকে ‘তুই’ বলে মন্ত্রী হোক আর যাই হোক সে পার পাবে না।

কামাল হোসেন সরকারকে লক্ষ্য করে বলেন, সবসময় আমাকে সংবিধান সংবিধান করে। কিসের সংবিধানের কথা বলো? তোমাদের থাকাটাই তো অসাংবিধানিক। সকাল-সন্ধ্যা সংবিধান সংবিধান করছো। তোমরা নামকা ওয়াস্তে নির্বাচন করে ৫ বছর চালিয়েছো। তো কাকে তোমরা সংবিধান দেখাচ্ছো? সংবিধানের প্রথম লাইন তারা পড়ার পর আর পড়ে কিনা আমি জানি না।

এসময় তিনি আরো বলেন, বার অ্যাসোেিসয়শনের পক্ষ থেকে তাদের জন্য একটি আইনের উপর ট্রেনিংয়ের আয়োজন করা উচিত, আমি নিজে তাদের ক্লাস নেব। কিন্তু তারা তো আসবে না। তারা বলবে তারা বেশি জানে।

‘‘আমার পক্ষে এদেরকে ‘মাননীয়’ বলা অসম্ভব মনে করি। কোননা এরা হলো সম্মানীয়ের উল্টা। তোমরা লজ্জাবোধ হারিয়ে মানুষ আছো, নাকি অন্যকিছু হয়ে গেছো’’।

বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি চেয়ে তিনি বলেন, একটি দলের প্রধান থাকবেন আরেজকনকে সেন্ট্রাল জেলে বন্দি রাখবে তা হবে না। এগুলো করলে হবে না। উনাকে মুক্ত করতে হবে৷ এরকম বৈষম্যের ভিত্তিতে কাউকে জেলে রাখা যাবে না৷ এভাবে বৈষম্য করে গণতন্ত্র আসবে না, সাংবিধানিক নিয়ম আসবে না। এতে করে দেশে একটি অরাজকতা হয়ে আছে এবং আরো হবে। 

তিনি বলেন, ইভিএম কেন? কোটি টাকা দিয়ে কেন ইভিএম? ইভিএম নিয়ে সংলাপ করেন। ডাকেন কে কতটা তা চায় যুক্তি দিয়ে বলি। সবার মতামত নেন। পক্ষ বিপক্ষ যুক্তির পর সিদ্ধান্ত নেয়া হোক।

মহাসমাবেশের প্রধান বক্তা বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য প্রসঙ্গে বলেন: বি. চৌধুরীর কাছে গিয়েছিলাম। বেশ কয়েকবার গিয়েছি। কিন্তু দুর্ভাগ্য আমাদের। আমরা তাকে বুঝাতে পারিনি৷

এসময় তিনি বেগম খালেদা জিয়ার সাজা বাতিল ও তারেক রহমানের মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবি করেন।

জাতীয় আইনজীবী ঐক্যফ্রন্টের সভাপতি অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীনের সভাপতিত্বে এসময় বক্তব্য রাখেন ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ব্যারিস্টার জমিরউদ্দীন সরকার, সুব্রত চৌধুরী, নিতাই রায় চৌধুরী প্রমুখ।

এবিএন/মমিন/জসিম

এই বিভাগের আরো সংবাদ