রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন যত তাড়াতাড়ি সম্ভব শুরু হবে: পররাষ্ট্র সচিব

ঢাকা, ১৭ মে, এবিনিউজ : রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন যত তাড়াতাড়ি সম্ভব শুরু হবে বলে জানিয়ে পররাষ্ট্র সচিব এ কে এম শহিদুল হক বলেছেন, ‘এই জন্য বাংলাদেশ ও মিয়ানমার যৌথভাবে কাজ করছে। এছাড়া রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে সৃষ্ট বাধাগুলো চিহ্নিত করে সমাধান করা হচ্ছে।’

আজ বৃহস্পতিবার বিকালে বাংলাদেশে-মিয়ানমার জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপের বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের একথা জানান পররাষ্ট্র সচিব।

এর আগে, আজ বৃহস্পতিবার বেলা এগারোটা থেকে বিকাল তিনটা পর্যন্ত রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন মেঘনায় দুই দেশের সচিবসহ প্রতিনিধিদের মধ্যকার বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে জানুয়ারিতে মিয়ানমারের রাজধানী নেপিদোতে যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপের প্রথম বৈঠকে অনুষ্ঠিত হয়েছিল।

এম শহীদুল হক বলেন ‘রোহিঙ্গাদের যে তালিকা মিয়ানমারকে দেওয়া হয়েছিলো, সেটা যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা চলছে। এমন প্রত্যাবাসন সব সময়ই জটিল ও কঠিন বিষয়। কিন্তু আমরা অনুভব করছি এই প্রত্যাবাসন যত তাড়াতাড়ি সম্ভব শুরু হবে। এ বিষয়ে আমাদের মাঝে কোনো মতভেদ নেই।’

‘উভয়পক্ষে খুব খোলামেলা আলোচনা হয়েছে এবং দ্রুত প্রত্যাবাসনে মিয়ানমারও সম্মতি জানিয়েছে’- যোগ করেন তিনি।

বৈঠক শেষে মিয়ানমারের পররাষ্ট্র সচিব ইউ মিন্ট থো সাংবাদিকদের বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে দুই দেশের যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপের বৈঠক ফলপ্রসূ হয়েছে। আমরা আমাদের নাগরিকদের ফিরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে খোলামেলা আলোচনা করেছি।’

তিনি জানান, রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন নিয়ে এরই মধ্যে মিয়ানমার সরকার প্রস্তুতি নিচ্ছে। তবে ঠিক কবে নাগাদ এই প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরু হবে সে বিষয়ে তিনি কোনও কথা বলেননি।

প্রসঙ্গত, ২০১৭ সালের আগস্টে রাখাইন রাজ্যে একটি নিরাপত্তা চৌকিতে কথিত হামলার অভিযোগ তুলে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা মুসলিমদের ওপর দেশটির সেনাবাহিনীর অতর্কিত হামলা ও দমন-পীড়ন চালায়। এতে প্রাণ বাঁচাতে বাংলাদেশে আশ্রয় নিতে শুরু করে রোহিঙ্গারা।

গত চার দশক ধরেই বিভিন্ন সময়ে লাখ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে আসছেন। প্রায় ১১ লাখ ছাড়িয়ে যাওয়া রোহিঙ্গাদের আশ্রয় হয়েছে কক্সবাজারে উখিয়া উপজেলার বিভিন্ন ক্যাম্পে। বাংলাদেশে বর্তমানে প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়েছে।

এবিএন/জনি/জসিম/জেডি