‘বঙ্গবন্ধুর খুনি নূর চৌধুরীকে ফেরাতে কানাডার সঙ্গে আলোচনা চলছে’

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১৩:১৭

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আত্মস্বীকৃত খুনি নূর চৌধুরীকে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে কানাডা সরকারের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা চলছে বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী কাদের ওবায়দুল কাদের। 

আজ সোমবার সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি মিলনায়তনে নূর চৌধুরীকে ফিরিয়ে আনার দাবিতে কানাডার প্রধানমন্ত্রী বরাবর অনলাইন স্বাক্ষর সংগ্রহ কর্মসূচির উদ্বোধনীতে তিনি এ কথা বলেন।

কানাডার আইনে মৃত্যুদণ্ডের বিধান না থাকায় নূর চৌধুরীকে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে জটিলতা আছে জানিয়ে সড়ক পরিবহন ও ওবায়দুল কাদের বলেন, কানাডার একটা আইন আছে। তাদের আইনটা হচ্ছে, কাউকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার বিধান সে দেশের আইনে নেই। যে কারণে এই আইনটিকে শিথিল করে নূর চৌধুরীকে দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে, কানাডায় একটা মামলাও বাংলাদেশ সরকার করেছে এবং সেখানে আলাপ-আলোচনা আমাদের সরকারের সঙ্গে অব্যাহত রয়েছে।

৬ খুনি এখনো পলাতক থাকার প্রসঙ্গ টেনে সেতুমন্ত্রী বলেন, এই ৬ জনকে দেশে ফিরিয়ে আনার দাবি জোরদার হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রে আছেন রাশেদ চৌধুরী। তাকে ফিরিয়ে আনার জন্য যুক্তরাষ্ট্র সরকারের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র সরকার আমাদেরকে সহযোগিতা করছে। তাকে ফিরিয়ে আনতে ওখানে একটি মামলা করা হয়েছে সরকারের পক্ষ থেকে।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ১৫ আগস্টের খুনিদের বিচার হবে না এই মর্মে ইনডেমনিটি অর্ডিন্যান্স জারি করেছিলেন জিয়াউর রহমান। এই খুনিদের বিচার কাজ বন্ধ করতে ৫ম সংশোধনীতে ইনডেমনিটি অর্ডিন্যান্স যুক্ত করেছিলেন কে? এই জিয়াউর রহমান। লাখো শহীদের রক্তে অর্জিত সংবিধানে কেন ইনডেমনিটি অর্ডিন্যান্স যুক্ত করা হয়েছিল? সেই প্রশ্নের জবাব বিএনপি এখনও দেয়নি।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের নেতা ও তৎকালীন রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবকে সপরিবারে হত্যা করে সেনাবাহিনীর একদল কর্মকর্তা ও সৈনিক। দুই মেয়ে শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা সে সময় দেশের বাইরে থাকায় প্রাণে বেঁচে যান।

দীর্ঘদিন বিচার বন্ধের পর শুরু আইনি প্রক্রিয়ায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ১২ জনের মধ্যে ৫ জনের ফাঁসি কার্যকর হয়েছে ২০১০ সালে। বাকিদের একজন মারা গেছেন এবং ৬ জন পলাতক আছেন।

তারা হলেন- আব্দুর রশিদ, শরিফুল হক ডালিম, এম রাশেদ চৌধুরী, এসএইচএমবি নূর চৌধুরী, আব্দুল মাজেদ ও রিসালদার মোসলেমউদ্দিন। তাদের বিরুদ্ধে ২০০৯ সালে ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড নোটিস জারি করা আছে।

তাদের মধ্যে নূর চৌধুরী কানাডায় এবং এম রাশেদ চৌধুরী যুক্তরাষ্ট্রে রয়েছে বলে নিশ্চিত রয়েছে ইন্টারপোলের বাংলাদেশ শাখা ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো (এনসিবি)।

অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মীজানুর রহমান, ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন, সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন উপস্থিত ছিলেন।

এবিএন/সাদিক/জসিম

এই বিভাগের আরো সংবাদ