রোহিঙ্গা সংকটের এক বছর : প্রত্যাবাসনে তেমন অগ্রগতি নেই

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ২৫ আগস্ট ২০১৮, ১১:০৩

ঢাকা, ২৫ আগস্ট, এবিনিউজ : বিশ্বের সবচেয়ে আলোচিত রোহিঙ্গা সংকটের এক বছর পূর্ণ হচ্ছে আজ শনিবার (২৫ আগস্ট)। গত এক বছরে মিয়ানমারকে নানা ধরনের চাপ প্রয়োগ করার পরও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন হয়নি। মিয়ানমারের সঙ্গে শুধু আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। এদিকে রাখাইন রাজ্যে উপযোগী পরিবেশ না থাকায় রোহিঙ্গারা এখনো বাংলাদেশে আসছে। তবে কক্সবাজারে থাকা রোহিঙ্গারা বলছেন, এখনো তারা নিজের ভূমি মিয়ানমারের রাখাইনে ফিরতে চান।

টেকনাফের লেদা ক্যাম্পে অবস্থানরত মিয়ানমারে মংড়ুর বলি বাজারের বাসিন্দা মৌলনা, সলিম, মাহবুব বলেন, আমরা আন্তর্জাতিক সংস্থার সহযোগিতায় মিয়ানমারে ফিরে যেতে চাই। মিয়ানমার আমাদের ফেরত নেয়ার কথা বলেও নিচ্ছে না। এ কারণে মিয়ামারকে আরও চাপ দিতে হবে।

রোহিঙ্গা প্রতিরোধ কমিটির সাধারণ সম্পাদক নুর মোহাম্মদ সিকদার বলেন, আমরা চাই যে কোনোভাবে রোহিঙ্গারা তাদের দেশে ফিরে যাক। আমাদের ছোট দেশে রোহিঙ্গারা আমাদের জন্য বোঝা। বহির্বিশ্বের চাপে পড়ে মিয়ানমারের সরকার ও সামরিক জান্তা ইতোমধ্যে কিছুটা নমনীয় হলেও তারা তাদের কৌশলগত অবস্থান থেকে এক চুলও সরেনি। যে কারণে রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে অগ্রগতি আশাব্যঞ্জক নয়।

ইতোমধ্যে রোহিঙ্গাদের দেখতে বাংলাদেশে এসেছেন জাতিসংঘের মহাসচিবসহ বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধান, প্রধানমন্ত্রী, রানি থেকে শুরু করে আর্ন্তজাতিক বিভিন্ন সংস্থার প্রধানরা।

গত মঙ্গলবার সিঙ্গাপুরে এক বক্তব্যে মিয়ানমার নেত্রী সু চি বলেন, রোহিঙ্গা মুসলিমদের রাখাইন রাজ্যে ফেরানোর বিষয়ে সময়সীমা বেঁধে দেওয়া কঠিন। কারণ এ বিষয়ে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় নেয়া দেশ বাংলাদেশের সহযোগিতা প্রয়োজন মিয়ানমারের।

তিনি বলেন, ফেরত আসা রোহিঙ্গাদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করেছে মিয়ানমার। কিন্তু রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানোর বিষয়টি বাংলাদেশের ওপর নির্ভর করছে।

রাখাইন রাজ্যে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর নির্মম দমন অভিযানের কারণে ৭ লাখের বেশি রোহিঙ্গা মুসলিমদের দেশ ছেড়ে বাংলাদেশে পালানোর ঘটনায় মিয়ানমার সরকারের পদক্ষেপে সমর্থন জানিয়ে সু চি বলেন, সন্ত্রাসবাদের কারণে সংকট সৃষ্টি হয়েছে, সামাজিক বৈষম্যের কারণে নয়।

গত ১১ আগস্ট পররাষ্ট্রমন্ত্রী এএইচ মাহমুদ আলীর নেতৃত্বে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদল রাখাইন রাজ্য পরিদর্শনে করে ওই রাজ্যে চালানো ‘ব্যাপক বিধ্বংসী অবস্থা' পর্যবেক্ষণ করেছেন। বিশেষ করে রোহিঙ্গাদের পুড়ে যাওয়া ঘরবাড়িগুলো সরেজমিনে ঘুরে দেখেছেন। অথচ মিয়ানমার সরকার ওইসব ঘরবাড়িতে ‘দুর্ঘটনাজনিত আগুন' লেগেছে বলে বর্ণনা করছে।

রোহিঙ্গাদের পুনর্বাসনের অগ্রগতি সম্পর্কে পররাষ্ট্র সচিব এম শহিদুল হক জানান, রোহিঙ্গারা রাখাইনে তাদের নিজ বাড়িতে একটি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে ফিরে যাবে বলে তিনি আশাবাদী।

প্রসঙ্গত, নিরাপত্তা চৌকিতে হামলার পর গত বছর ২৫ আগস্ট রাখাইনে রোহিঙ্গাবিরোধী সেনা অভিযান শুরু করেছিল মিয়ানমারের সেনাবাহিনীসহ অন্যান্য সরকারি সংস্থা। খুন, ধর্ষণ, অগ্নিসংযোগের মুখে বাংলাদেশে পালিয়ে আসে সাড়ে ৭ লাখ রোহিঙ্গা। জাতিসংঘ ওই অভিযানকে জাতিগত নিধনযজ্ঞের পাঠ্যপুস্তকীয় উদাহরণ আখ্যা দেয়। তবে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ একে সশস্ত্র বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে বৈধ অভিযান আখ্যা দিয়ে আসছে।

এবিএন/সাদিক/জসিম

এই বিভাগের আরো সংবাদ