ঢাকার উত্তরের শতভাগ বর্জ্য অপসারণ করা হয়েছে : প্যানেল মেয়র

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ২৩ আগস্ট ২০১৮, ১৮:৪০

ঢাকা, ২৩ আগস্ট, এবিনিউজ : ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্যানেল মেয়র জামাল মোস্তফা বলেছেন, এ বছর ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের এলাকাসমূহে প্রথমদিনে আনুমানিক ২ লাখ ১৫ হাজার পশু কুরবানি হয়েছে। যাতে ৮ হাজার ৫০০ টন বর্জ্য উৎপাদন হয়। কিন্তু ২৪ ঘণ্টার কম সময়ে ঢাকার উত্তরের শতভাগ বর্জ্য অপসারণ করা হয়।

তিনি আজ ২৩ আগস্ট (বৃহস্পতিবার) বিকেলে সংবাদ সংম্মেলনে এসব তথ্য জানান।

তিনি বলেন, প্রতি বছরের মতো এ বছরও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের নাগরিকগণ ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে নির্বিঘ্নে পবিত্র ঈদের আনন্দ উদযাপন করেছে। সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ও সহযোগিতায় কুরবানির প্রথম দিনে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকায় উৎপাদিত বিপুল পরিমাণ বর্জ্য সকল ওয়ার্ড থেকে ২৪ ঘণ্টার কম সময়ে অপসারণ করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকায় ১৮৩টি পশু জবাই করার স্থান নির্ধারণ করা হয়েছিল। এছাড়া সরকারি ও ব্যক্তি মালিকানাধীন আবাসিক কমপ্লেক্সের অভ্যন্তরে উপযুক্ত স্থান হিসেবে চিহ্নিত ৩৬৬টি স্থানসহ মোট ৫৪৯টি স্থানে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক পশু কুরবানি দেয়া হয়েছে। গেল বছরগুলোর তুলনায় এবছর নির্ধারিত স্থানে পশু কুরবানিতে জনগণের সাড়া ছিল উৎসাহব্যঞ্জক। নির্ধারিত স্থানে পশু জবাইয়ের সংখ্যা গেল বছরের তুলনায় অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে।

প্যানেল মেয়র বলেন, পরিচ্ছন্নকর্মীরা এবং ভ্যানসার্ভিসের কর্মীরা মানুষের বাসাবাড়ি থেকে বর্জ্য সংগ্রহ করে সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশন (এসটিএস) এবং কন্টেইনারে জমা করে প্রতিটি ওয়ার্ডকে বর্জ্যমুক্ত করেছে। নির্ধারিত স্থানে কন্টেইনারে বর্জ্য জমা হওয়ার পরপরই তা ল্যান্ডফিলে পরিবহনের কাজ শুরু হয়।

তিনি আরও বলেন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের নির্ধারিত স্থানে না গিয়ে নিজ বাড়ির সামনের রাস্তার উপর কুরবানি করেছেন যা অপ্রত্যাশিত ছিল। আশা করি আগামী কুরবানিতে সকলে রাস্তার উপর পশু জবাই করা থেকে বিরত থাকবেন।

সংবাদ সম্মেলন জানানো হয়, ঢাকা উত্তরে ১ হাজার ৫৪৫টি ট্রিপে ৮ হাজার ৫০০ টন বর্জ্য ল্যান্ডফিলে পরিবহন করা হয়েছে। এ স্বল্পসময়ে বিপুল পরিমাণ বর্জ্য অপসারণ, বর্জ্য ব্যবস্থায়ন এবং সড়ক পরিচ্ছন্নতা কাজে ২৮০টি বিভিন্ন ধরনের যান-যন্ত্রপাতি নিয়োজিত ছিল। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন থেকে কুরবানি বর্জ্য অপসারণে নিজস্ব ২ হাজার ৭০০ জন পরিচ্ছন্নকর্মীসহ সর্বমোট ৯ হাজার ৫০০ জন পরিচ্ছন্নকর্মী আবর্জনা মুক্ত করেছেন।

সংবাদ সম্মেলনে আগামী কুরবানি ঈদে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার বেশ কয়েকটি উদ্যোগ তুলে ধরা হয়। যার মধ্যে রয়েছে; যত্রতত্র কুরবানি করা থেকে বিরত রাখার জন্য উদ্ভাবনী প্রচারাভিযান চালানো, কুরবানির পশুর বর্জ্য রাখার জন্য প্লাস্টিকের ব্যাগের পরিবর্তে পঁচনশীল পাটের ব্যাগের ব্যবহার চালুকরণ, কুরবানির পশুর বর্জ্য ল্যান্ডফিলে সনাতনী ডাম্পিংয়ের পরিবর্তে বর্জ্যকে সম্পদে রূপান্তর করা।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মেসবাহুল ইসলাম, ওয়ার্ড কাউন্সিলর আফসার উদ্দিন, তারেকুজ্জমান রাজিব, ডা. জিন্নাত আলী, দেওয়ান আব্দুল মান্নান, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা স্থায়ী কমিটির সভাপতি ওয়ার্ড কাউন্সিলর জাকির হোসেন বাবুলসহ অনেকে।

এবিএন/মাইকেল/জসিম/এমসি

এই বিভাগের আরো সংবাদ