শরীর ফিট রাখুন সাইকেলে

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ০১ জুলাই ২০১৮, ১৮:০৬

মো. মুজিবুল হক শ্যামল, ০১ জুলাই, এবিনিউজ : প্রকৃতপক্ষে জীবনের কাছ থেকে আমরা যা কিছু চাই তা হলো, শরীর ভালো থাকা আর মন ভালো থাকা। যদি স্বাস্থ্যের উন্নতি চাই, ভালো থাকতে চাই। তাহলে খেতে হবে ভালো খাবার, পুষ্টিকর খাবার আর করতে হবে নিয়মিত শরীরচর্চা। এভাবে সৃষ্টি হবে স্বাস্থ্য সম্মত জীবন যাপনের অভ্যাস এজন্য চাই দিনে মাত্র ৩০ মিনিটের মাঝারি ব্যায়াম মানে সাইকেল চালানো। উন্নতবিশ্বে এটি ব্যবহার অনেক হলেও বাংলাদেশে এর তেমন ব্যবহার হয় না। অনেকে এটিকে খাটো করে দেখেন। এটি মানে একের ভেতর দুই– সাইকেল চালানো হলো আর শরীরটাও ফিট হল। যারা ব্যস্ততাময় জীবনে খানিকটা অন্যরকম করতে চান তারা চাইলে অফিসে গাড়িতে না চড়ে সাইকেল বাহন ব্যবহার করতে পারেন। ভালো থাকতে হলে সাইকেল চালাতে হবে অন্ততপক্ষে ৩০ মিনিট প্রতিদিন।

ফিটনেস উন্নত করতে হলে এবং বজায় রাখার চৎমকার উপায় হলো বাইসাইকেল চালানো। মাত্র ৩০ মিনিট দিনে বাইসাইকেল চালালে শরীরের প্রধান পেশিগুলোর ব্যায়াম হয়, ওপরে উঠে আসে হৃদস্পন্দন হারও, বাইসাইকেল চালানো চাপ কম ফেলে শরীরে।

অন্যান্য ব্যায়ামের চেয়ে এটা হাড়ের গিটগুলোর ওপর অনেক কম চাপ দেয়।

অস্ট্রেলিয়ায় সরকার নিচের বিষয়গুলো জানিয়ে শরীর চর্চা হিসেবে সাইকেল চালাতে উদ্বুদ্ধ করে। সাইকেল চালানো হৃদরোগ, স্টোক ও রক্তচাপ প্রতিরোধে সাহায্য করে। টাউপ–২ ডায়াবেটিস ও কিছু কিছু ক্যানসারের ঝুঁকি হ্রাস করে। সুস্থ মজবুত হাড়, পেশি ও অস্থিসন্ধি নির্মাণে ও বজায় রাখতে সাহায্য করে। আহত হওয়ার ঝুঁকিও কমে।

শরীর ভালো রাখার ক্ষেত্রে সহায়ক। নিয়মিত বাইসাইকেল ব্যায়ামে বয়স্ক লোকের যেসব স্বাস্থ্যহিত হয়, সেসব পাওয়া যায়। শরীরের নিত্যদিনের কাজ কর্ম ও স্বাধীনভাবে জীবন যাপনে হয় সহায়ক। সামাজিক মেলামেশা বাড়ে, জীবনের গুণগত মান বাড়ে, বিষন্নতা কমে, সুস্থ, মজবুত হাড় গঠনে ও হাড়ের গিঁট ও পেশি গঠনেও বজায় রাখতে সহায়ক হয়। এছাড়া কোমরের মেদে হওয়া থেকে পরিত্রাণ, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা থেকে, মাসসিক চাপ সহায়ক করতে সাইকেলের ব্যায়াম খুবই সহায়ক। হৃদরোগ, স্টোক, উচ্চ রক্তচাপ, টাইপ–২ ডায়বেটিস ও কিছু কিছু ক্যানসারের ঝুঁকি কমে। এগুলো ছাড়াও যারা হাঁটু ব্যথা ও পায়ের ব্যথা ও অন্যান্য সমস্যা দূর করতে পারেন। প্রতিদিন বাইসাইকেল চালালে হাঁটুর ব্যথা প্রতিরোধ করা সম্ভব। উচ্চ আবহাওয়ায়, কড়া রোদে শরীর চর্চা করার সঙ্গে সর্তকতা অবলম্বন করা উচিত। এছাড়া আমাদের প্রতিনিয়ত কর্মস্থলে যাওয়ার জন্য বাস স্টপে লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা। তারপর গাদাগাদি করে ঝুলতে ঝুলতে কর্মস্থলে পৌঁছানো। আর গরমটা যদি একটু বেশি হয় তাহলে তো কথাই নেই।

আমাদের হাতের টাকা–পয়সার খরচ কমাতে হলে একটি বাইসাইকেলই যথেষ্ঠা কমংস্থালে যাবার জন্য। সাইকেল চালানো কোন কঠিন কাজ নয় যে কেউ সাইকেল চালাতে পারেন। তাই সর্তক করতে হলে প্রথমে আস্তে আস্তে চালাতে পারেন। এছাড়া বাংলাদেশে এর ব্যবহার একেবারে কম বললেই হয়। উন্নত বিশ্বে এর প্রচুর ব্যবহার রয়েছে। সেখানে পুরুষ–মহিলা উভয়ই ব্যবহার করেন।

তারা প্রত্যেহ সাইকেলে চেপে কর্মস্থলে যান। আমরা যদি এর ব্যবহার সকলে করতে পারি তাহলে সবাই নিজেকে সুস্থ রাখতে পারি।

বাইরে সাইকেল চালাতে না চাইলে ঘরে বা জিমে (স্টাটিক/স্থির সাইকেল) এক ঘরনের এক্সারসাইজ বাইক কিনতে পাওয়া যায় যা দিয়ে আপনি ঘরে বসেই ব্যায়াম করে নিতে পারেন। দু’ধরনের বাইক আছে হস্তচালিত ও ইলেকট্রিক। ইলেকট্রিক বাইক গতি ও প্রতিরোধ ক্ষমতা শরীরের ক্যালরি কমাতে সাহায্য করে।

বাইক সাধারণত মজবুত, সাশ্রয়ী ও দীর্ঘ সময় এক্‌্রারসাইজের জন্য আরামদায়ক। এটি আপনি দিনের যে কোনো সময় করতে পারেন। এটি হৃদযন্ত্রের গতি মনিটর করে ও ক্যালরি কমাতে সাহায্য করে। শরীরের নিচের অংশ যেমন–হাঁটু, কোমর ইত্যাদি পেশির কার্যক্ষমতা বাড়ায়। (সংগৃহীত)

এবিএন/ফরিদুজ্জামান/জসিম/এফডি

এই বিভাগের আরো সংবাদ