ঈদে মেহেদি দেয়ার প্রচলন যেভাবে এসেছে

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১৪ জুন ২০১৮, ১০:৫৩

ঢাকা, ১৪ জুন, এবিনিউজ : দেশে উৎসবে মেহেদির রঙে হাত সাজানো খুব জনপ্রিয় একটি রীতি। ধর্মীয় যে কোনো উৎসব থেকে শুরু করে বিয়ে-জন্মদিনসহ নানা অনুষ্ঠানে মেহেদির রঙে হাত না রাঙালে অনেকের কাছেই উৎসবের পরিপূর্ণতা পায় না।

মেহেদি গাছের গাঢ় সবুজ রঙের পাতা থেকে যে মিষ্টি গন্ধের টকটকে লাল নির্যাস বের হয়, সেটা সবার মন কেড়ে নেয়।

মেহেদি পাতা বেটে, শুকিয়ে, গুঁড়া করে বা পেস্ট করে শরীরের বিভিন্ন স্থান রাঙানোর ইতিহাস বহু পুরনো।

আর উৎসবে বিশেষ করে ঈদ হলে তো কথাই নেই। বিয়েতে বর-কনের হাতে মেহেদি থাকা চাই-ই চাই।

মেহেদির দেয়ার কারণে কখনো কোনো অ্যালার্জি বা পার্শ্ব প্রতিক্রিয়ার নজির না থাকায় যুগে যুগে এর জনপ্রিয়তা একবিন্দু কমেনি, বরং বেড়েছে।

শরীরে এ মেহেদি দেয়ার ইতিহাস অনেক আগের। তবে ঠিক কবে কোথায় মেহেদির আবিষ্কার হয়েছিল তার সঠিক কোনো দিনক্ষণের ব্যাপারে কোনো তথ্য মেলেনি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও গবেষক তৌহিদুল হক জানান, ‘লিখিত কোনো দলিল না থাকলেও ইসলামের নবী হযরত মোহাম্মদ (স.) এর মেহেদি ব্যবহারের তথ্য মুসলমানদের এই মেহেদি ব্যবহারের প্রতি উদ্বুদ্ধ করেছে। পরে ভারতীয় উপমহাদেশে মুঘল সাম্রাজ্য এই মেহেদি দেয়ার প্রথাকে আরও প্রসারিত করে। ’

তিনি বলেন, ‘মেহেদি ব্যবহারের ক্ষেত্রে হযরত মোহাম্মদ (স.) এর একটি উক্তি রয়েছে। এ বিষয়গুলোর ওপর নির্ভর করে এ ভারতীয় উপমহাদেশে এক সময় মেহেদির ব্যবহার শুধু মুসলিম জনগোষ্ঠী বা মুসলিম সমাজের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। পরবর্তী সময়ে মুঘল সাম্রাজ্যের জনগণ এটাকে প্রসারিত করে।’

এ ছাড়া মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোয় এবং আফ্রিকায় যেসব দেশের ভাষা অ্যারাবিক সেসব দেশেও ব্যবহৃত হয় এ মেহেদি।

অধ্যাপক তৌহিদুল হক বলেন, বিশ্বের নানা দেশের মেহেদি ব্যবহার হচ্ছে কিন্তু এর কারণ বা উদ্দেশ্য স্থানভেদে ভিন্ন। শুরুতে মেহেদির প্রচলন ধর্মীয় দৃষ্টিকোণের জায়গা থেকে শুরু হলেও পরে এই প্রথাটি সামাজিক ও সাংস্কৃতিক পরিচয় পেয়েছে। তবে এখন মানুষ এখন এটাকে সার্বজনীন রূপে গ্রহণ করেছে। তবে একেক দেশে একের ধরণের কারণ আর উদ্দেশ্যে মেহেদি ব্যবহার হয়।

ইতিহাসের বইগুলোয়, মিসরের ফারাও সাম্রাজ্যে মমির হাতে ও পায়ের নখে মেহেদির মতো রঙ দেখা যায়। তবে সেটা মেহেদি দিয়ে রাঙানো কিনা সেটা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

আবার বর্তমান যুগে বিভিন্ন ধর্মের বিয়ের উৎসবে মেহেদি সন্ধ্যা নামে আলাদা একটি দিনের আয়োজন করা হয় যেখানে বর কনে থেকে শুরু করে পুরো পরিবার আনন্দে মেতে ওঠে শুধুমাত্র মেহেদির রঙে নিজেকে রাঙিয়ে তুলতে।

আবার অনেকে চামড়ার বিভিন্ন রোগের জন্য হার্বাল ওষুধ হিসেবে ব্যবহার করছে এ মেহেদি।
খবর বিবিসি বাংলা

এবিএন/সাদিক/জসিম

এই বিভাগের আরো সংবাদ