স্মার্টফোনের স্ক্রিনে দীর্ঘসময় কি কাটানো ক্ষতিকর?

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১৫ এপ্রিল ২০১৯, ১১:১৪

স্মার্টফোন, ট্যাব, কম্পিউটার বা অন্য কোনো ভিভাইসের স্ক্রিনে আপনি দীর্ঘ সময় কাটালে তা আপনার স্বাস্থ্যের ওপর কী প্রভাব ফেলে? একটানা দীর্ঘ সময় কোনো ডিভাইসের স্ক্রিনে সময় কাটানো যে ক্ষতিকর, এতদিন মোটামুটি এটাই ছিল গ্রহণযোগ্য মত। কিন্তু নতুন এক গবেষণায় দাবি করা হচ্ছে, বেশি সময় স্ক্রিনে চোখ রাখলে যে মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর এর কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়ে, এমন কোনো সুস্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে না।

যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড ইন্টারনেট ইনস্টিটিউট টিনএজারদের ওপর দীর্ঘসময় স্ক্রিনে কাটানোর প্রভাব নিয়ে গবেষণাটি চালায়। বিশেষ করে তরুণরা ঘুমাতে যাওয়ার আগে লম্বা সময় ধরে কোনো ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহার করলে তার কী প্রভাব তাদের সার্বিক মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর পড়ে, সেটাই তারা দেখেছে।

গবেষকদের একজন অ্যামি ওরবেন বিবিসিকে বলেন, ‘ঘুমানোর আগে আধঘন্টা, এক বা দুই ঘণ্টা ধরে কেউ স্ক্রিনে চোখ রাখলে সেটা যে তাদের স্বাস্থ্যের ওপর কোনো প্রভাব ফেলে এমন কিছু আমরা পাইনি।’

যুক্তরাজ্য, আয়ারল্যান্ড ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ১৭ হাজারের বেশি টিনএজারের তথ্য সংগ্রহ করা হয় এ গবেষণার জন্য।

অ্যামি ওরবান বলেন, এ গবেষণার জন্য তথ্য সংগ্রহের সময় জরিপে অংশগ্রহনকারীরা যে তথ্য তাদের দিয়েছেন, শুধু সেটার ওপর তারা নির্ভর করেননি। কারণ মানুষ আসলে কতটা সময় স্ক্রীনে কাটায়, সেটা তারা নিজেরাই ঠিকমতো অনুমান করতে পারে না।

মানুষ কতক্ষণ ধরে স্মার্টফোন ব্যবহার করে, সে ব্যাপারে আগের গবেষণাগুলোতে নিজেরা যে আনুমানিক তথ্য দিয়েছিল, তার সঙ্গে তাদের ফোন ট্র্যাক করে পাওয়া তথ্যের অনেক পার্থক্য ছিল।

তবে সমালোচকরা অক্সফোর্ডের নতুন গবেষণা সম্পর্কে কিছু প্রশ্ন তুলেছেন। এই গবেষণায় ব্যবহৃত কিছু তথ্য অনেক পুরনো, ২০১১ সালের। কিন্তু গত আট বছরে কিশোর-কিশোরীদের স্ক্রীনটাইম ব্যবহার অনেক বদলে গেছে। এখন তারা অনেক বেশি সময় স্ক্রীনে কাটায়।

কিশোর-কিশোরীরা অনলাইনে এমন সব জিনিস দেখছে, যা তাদের ক্ষুধামান্দ্য বা আত্ম-ক্ষতির দিকে ঠেলে দিচ্ছে উদ্বেগ আছে অভিভাবকদের মধ্যে। এমন ঘটনার কথা প্রচুর শোনা যায়।

তবে অক্সফোর্ডের গবেষকরা জানাচ্ছেন, মানসিক স্বাস্থ্যের সঙ্গে কে কতটা সময় স্ক্রীনে কাটাচ্ছে তার সর্ম্পক আসলে খুব কম।

অ্যামি অরবেন বলেন, ‘এর মানে এই নয় যে ক্ষতিকর বা উপকারী কোনো ডিজিটাল প্রযুক্তি নেই। আমরা যা বলতে চাইছি, তা হলো, এ ক্ষেত্রে আরও গবেষণার দরকার আছে।’

তবে গবেষণার ফল যাই হোক, ইন্টারনেটের ওপর আরও বেশি নিয়ন্ত্রণ আরোপের জন্য বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সরকারের ওপর চাপ দিনে দিনে বাড়ছে।
তথ্যসূত্র : বিবিসি

এবিএন/সাদিক/জসিম

এই বিভাগের আরো সংবাদ
well-food