মোবাইল ফোন ব্যবহারে ঘাড় ব্যথা বাড়ছে

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ২০ মে ২০১৮, ১৭:৫৭

মো. মুজিবুল হক শ্যামল, ২০ মে, এবিনিউজ : বর্তমান সময়ে সবচেয়ে প্রচলিত ও অত্যাধুনিক যোগাযোগ মাধ্যম হলো মোবাইল ফোন। বর্তমানে মোবাইল ফোন ব্যবহার করে না এমন মানুষ দূরবীণের সাহায্যে খুঁজে বের করাও মুশকিল হবে। শিশু থেকে বৃদ্ধা, ধনী–গরীব সকলেই এটি ব্যবহার করে। এমনকি আমাদের ঘরের একেবারে ছোট্ট শিশুটিও মোবাইল দেখলে ধরার জন্য বিছানায় লাফালাফি করে। কিন্তু মনে রাখতে হবে ১৮ বছরের নিচে বাচ্চাদের মোবাইল ফোন ব্যবহার করা একেবারে অনুচিত। এ সময় মোবাইল ব্যবহার করলে তাদের শরীরে ও চোখ অপরিপক্কতার কারণে বিভিন্ন শারীরিক সমস্যার সৃষ্টি হতে পারে। কেউ কেউ স্টাইল করে মাথা নিচু অবস্থায় মোবাইল ব্যবহার করতে করতে নিজেকে কুঁজো করে ফেলছেন। এখন এমন অবস্থা হয়ে দাঁড়িয়েছে মনে হয়, এক সেকেন্ডও মোবাইল ছাড়া আমরা থাকতে পারি না। বর্তমানে অ্যান্ড্রয়েড, আই ফোন, উইন্ডোজ মোবাইল সহজলভ্যতার কারণে সবাই প্রতিটা মুহূর্ত মোবাইলের সাথে বন্ধুত্ব গড়ে ফেলি। আমরা অনেকেই দীর্ঘসময় ধরে ভুল ভঙ্গিতে মোবাইল ফোন ব্যবহার করে থাকি। ঠিকভাবে মোবাইল ফোন ব্যবহার না করার কারণে আমরা অনেকেই মাথা, কাঁধ, হাত ও কোমর ব্যথা অনুভব করি, ঠিক তেমনই একটি কষ্টদায়ক হচ্ছে ঘাড় ব্যথা। ঘাড় ব্যথা আমাদের সমাজের মানুষের মধ্যে প্রধান সমস্যা। একটা সময় ছিল একটানা কম্পিউটারে বা ডেস্কে কাজ করলে ঘাড় ব্যথা করত, এখন একটানা বুল পদ্ধতিতে মোবাইল ব্যবহারের কারণে ঘাড় ব্যথার রোগী দিন দিন বাড়ছে। প্রতি তিনজন মানুষের মধ্যে দুইজন ঘাড় ব্যথায় ভুগে থাকেন। অনেকে আবার মনে করতে পারেন আমিতো ঐভাবে সবসময় মোবাইল ব্যবহার করছি আমার তো ঘাড় বা অন্য কোন পেশিতে ব্যথা হচ্ছে না। অপেক্ষা করুন দেখবেন ঘাড় বা অন্য পেশিতে ব্যথা আসবেই, আবার কারও ক্ষেত্রে ব্যথা অনুভব দেরিতে হতে পারে। ঘাড় ব্যথার অনেকগুলো কারণের মধ্যে রয়েছে অসঠিক ভঙ্গিতে মোবাইল ফোন ব্যবহার করা। একটি গবেষণায় দেখা গেছে ১৮–৪৪ বছর বয়সী, ৮০% ভাগ লোক তাদের দৈনন্দিন কাজ–কর্মের দুই ঘন্টা ছাড়া বাকিটা সময় মোবাইল ফোন ব্যবহার করে থাকেন। ঘাড় ব্যথার অন্যতম কারণ দীর্ঘক্ষণ ঘাড় ঝুঁকিয়ে মোবাইল ফোনের দিকে তাকিয়ে থাকা বা টেক্সট করা। মাথা সামনের দিকে ঝুঁকিয়ে মোবাইল ফোন ব্যবহারের ফলে ঘাড়ের মাংসপেশি শক্ত ও স্পাজম হয়ে যায়। ফলে ঘাড়ে প্রচণ্ড ব্যথা অনুভূত হয় এবং ঘাড়ের মবিলিটি কমে যায়। যার ফলে জয়েন্ট সঠিকভাবে কাজ করেনা। আপনি জানেন কী অসঠিক ভঙ্গিতে মোবাইল ফোন ব্যবহারের সময় আপনার মাথার ওজন দ্বিগুণ বা তিনগুণ বেড়ে যায়। শুধু যে মোবাইল ব্যবহারে ঘাড় ব্যথা বাড়ছে তা নয়, যারা পিসির/কম্পিউটারের সামনে ঝুঁকে কাজ করেন তাদের মধ্যে এধরনের সমস্যা দেখা দেয়। স্বাভাবিকভাবে আমাদের ঘাড় থেকে কানের যে স্ট্রাকচার থাকে তা সামনের দিকে চলে যায়। ফলে প্রতি ইঞ্চিতে অতিরিক্ত ১০–১২ পাউন্ড ওজন যুক্ত হয়। এতে করে ঘাড়ের মাংসপেশির উপর/সার্ভাইক্যাল হাড়ের অংশে অনেক চাপ পড়ে এবং ঘাড়ে প্রচণ্ড ব্যথা হয়। এছাড়াও দীর্ঘদিন অসঠিক ভঙ্গিতে মোবাইল ফোন ব্যবহারের ফলে অনেকের হাত ঝিম ঝিম করে, অবশ অনুভূত হয় এ অবস্থাকে বলা হয় রেডিকোলপ্যাথি। আধুনিক ফিজিওথেরাপি চিকিৎসার মাধ্যমে এধরনের ঘাড় ব্যথা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব। এই সামান্য ঘাড় ব্যথা থেকে আপনার মাথাও ব্যথা হতে পারে (সারভাইকোজোনিক হেডেক/মাথা ব্যথা), হতে পারে শোল্ডার পেইন এবং কিছুদিন পর হাতের কুনইয়ের দিকে ব্যথা আসতে পারে। আমাদের দেশে এই ধরনের মাথা ব্যথা রোগীর সংখ্যা অনেক। অনেকে সেটি বুঝতেও পারে না মাথা ব্যথা কোথা থেকে হচ্ছে। অনেক টেস্ট ও চিকিৎসার পরও মাথার ব্যথার কোন কারন খুঁজে পায় না। ফিজিওথেরাপি চিকিৎসার মধ্যে রয়েছে– লো–লেভেল লেজার থেরাপি, মায়োফেসিয়াল রিলিফ, ঘাড়ের মাংসপেশির স্ট্রেচিং– স্ট্রেন্দেনিং এক্সারসাইজ, চিনটাক এক্সারসাইজ, কোল্ড থেরাপি অতীব ফয়দায়ক।

পরামর্শ:
মনে রাখতে হবে চিকিৎসার চেয়ে প্রতিরোধ উত্তম। সেজন্য মোবাইল ফোন ব্যবহারের সময় আপনার ভঙ্গি সঠিক রাখা অত্যবশ্যাক। নিচের দিকে মাথা ঝুঁকিয়ে মোবাইল ফোন ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকুন। মোবাইল ফোন চোখের লেভেল বরাবর রেখে ব্যবহার করুন। কিছু ণ মোবাইল ফোন ব্যবহারের পর অল্প ণ বিরতি নিন এবং ঘাড়ের মোবালাইজশন এক্সাসাইজ করুন। অর্থাৎ মাথা সামনে–পেছনে, ডানে–বায়ে এবং চক্রাকারে ঘুরানো ৮–১০ বার করে সকাল–বিকাল বা যখন ব্যথা অনুভব করবেন। এছাড়া মাথার উপরের অংশে দুহাতের আঙ্গুল একত্র করে নিচের দিকে আস্তে আস্তে চাপ প্রয়োগ করুন এবং থুতলির নিচে আঙ্গুল দিয়ে ওপরের দিকে চাপ দিতে পারেন। এভাবে করার সময় লক্ষ্য করবেন ঘাড়ে ব্যথা অনুভব করছেন। করুন প্রচুর পানি পান করুন, ধুমপান বর্জন করুন। সঠিকভঙ্গি এবং ঘাড়ের এক্সারসাইজ আপনার কষ্ট নিরাময় করবে।  (সংগৃহীত)

এবিএন/ফরিদুজ্জামান/জসিম/এফডি

এই বিভাগের আরো সংবাদ