রিফাত হত্যার রায় আজ, বাবার মোটরসাইকেলে আদালতে মিন্নি

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৯:৪৩

রগুনার আলোচিত রিফাত শরীফ হত্যা মামলার প্রাপ্তবয়স্ক ১০ জনের বিরুদ্ধে বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) রায় ঘোষণা করবেন জেলা ও দায়রা জজ আদালত।  

আজ বুধবার (৩০ সে‌প্টেম্বর) সকাল ৮টা ৫২ মি‌নি‌টে বাবা মোজা‌ম্মেল হক কি‌শোরের সঙ্গে কা‌লো রং‌য়ের এক‌টি মোটরসাইকেল যো‌গে নি‌য়ে আদালতপাড়ায় প্রবেশ ক‌রেছেন মামলার অন্যতম আসামি মি‌ন্নি।

নিহত রিফা‌তের স্ত্রী ও রিফাত হত্যা মামলার চার্জশি‌টভুক্ত ৭ নম্বর আসামি।

মিন্নি আদালতে আসেন বাবা মোজাম্মেল হোসেন কিশোরের মোটরসাইকেলে করে। মোটরসাইকেল চালান মোজাম্মেল হোসেন কিশোর। আর পেছনে বসা ছিলেন মিন্নি। সাদা পোশাক পরা মিন্নিকে এ সময় বেশ বিষণ্ণ দেখাচ্ছিল। এরপর আদালতের কার্যক্রম শুরু হওয়ার আগ পর্যন্ত বাবার সঙ্গেই আদালতের একটি কক্ষে অবস্থান করেন মিন্নি।

এদিকে রিফাত শরীফ হত্যা মামলার রায়কে কেন্দ্র করে আদালতপাড়াসহ জেলা কারাগার‌কে ঘি‌রে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হ‌য়ে‌ছে।  

তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা অতিক্রম করে আদালতে প্রবেশ করতে হচ্ছে বিচারপ্রার্থীসহ সাংবাদিকদের। পাশাপাশি জেলাজুড়ে সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা।

সরেজমিনে দেখা গেছে, আদালত প্রাঙ্গণ, প্রবেশপথ ও আশপাশের এলাকায় কড়া পুলিশি পাহারা বসানো হয়েছে। এরই মধ্যে রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের কয়েকজন আইনজীবীও হাজির হয়েছেন আদালতে। আদালতের ভেতরে সাদা পোশাক ও ইউনিফর্ম পরা অবস্থায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা টহল দিচ্ছেন।

রায় ঘিরে বরগুনার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সজাগ দৃষ্টি রাখছে পুলিশ। জেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে পুলিশের নিরাপত্তা চৌকি বসানো হয়েছে। এছাড়া র্যাব সদস্যদের পাশাপাশি গোয়েন্দা পুলিশও টহল দিচ্ছে বরগুনায়।

বরগুনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (হেড কোয়ার্টার্স) মহরম আলী বলেন, মামলার রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে আদালতের আশপাশের এলাকায় কঠোর নিরাপত্তাবেষ্টনী গড়ে তোলা হয়েছে। জেলা করাগারে থাকা এই মামলার আট আসামিকে সকাল ১০টার মধ্যে আদালতে হাজির করা হবে।

মহরম আলী বলেন বলেন, রায় ঘিরে আমরা ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি। বিশষ করে আদালত প্রাঙ্গণে রয়েছে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা। সরকারি গাড়ি ছাড়া কোনো যানবাহন আদালত প্রাঙ্গণে ঢুকতে পারবে না।

বরগুনা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট ভূবন চন্দ্র হালদার বলেন, রিফাতের রায়ের দিকে গোটা দেশের মানুষ তাকিয়ে আছে। রাষ্ট্রপক্ষ আসামিদের বিরুদ্ধে আদালতে তথ্যপ্রমাণ উপস্থাপন করতে সমর্থ হয়েছে। প্রত্যেক আসামির সর্বোচ্চ সাজা হবে বলে আমরা আশাবাদী।

এদিকে জেলা ও দা‌য়রা জজ মো. আছাদুজ্জামান সকাল ৭টা ২৩মি‌নি‌টে আদাল‌তে প্রবেশ ক‌রেছেন।

২০১৯ সালের ২৬ জুন বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে শত শত লোকের উপস্থিতিতে স্ত্রীর সামনে রিফাত শরীফকে (২৫) কুপিয়ে হত্যা করা হয়। পরে রিফাতকে কুপিয়ে হত্যার একটি ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে ভাইরাল হয়।

ভিডিওতে দেখা যায়, ধারালো দা দিয়ে রিফাতকে একের পর এক কোপ দিতে থাকেন দুই যুবক। ওই সময় রিফাত শরীফের স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নি দুই যুবককে বারবার প্রতিহতের চেষ্টা করে ব্যর্থ হন। ঘটনাটি পুলিশের সিসি ক্যামেরার আওতায় ছিল। কিন্তু সন্ত্রাসীর সঙ্গে যুদ্ধ করেও স্বামীকে বাঁচাতে ব্যার্থ হন মিন্নি। গুরুতর আহত অবস্থায় বরিশাল নেয়ার পর মারা যান রিফাত।

এ ঘটনায় রিফাতের বাবা আবদুল হালিম দুলাল শরীফ বাদী হয়ে ১২ জনকে আসামি করে বরগুনা থানায় হত্যা মামলা করেন। এতে মিন্নিকে প্রধান সাক্ষী করা হয়েছিল। এরপর আরেকটি ভিডিও ভাইরাল হয়। ওই ভিডিও দেখে মিন্নির বাবার বিরুদ্ধেও মামলা করার কথা জানান রিফাতের বাবা।

এরই মধ্যে মামলার প্রধান সাক্ষী মিন্নিকে গত ১৬ জুলাই রাতে গ্রেফতার করে পুলিশ। পুলিশের তদন্তে স্বামী হত্যায় ফেঁসে যান মিন্নি। পরদিন তাকে পাঁচদিনের রিমান্ডে নেয়া হয়। দুদিন পরে মিন্নিকে আদালতে হাজির করে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়।

এবিএন/জনি/জসিম/জেডি

এই বিভাগের আরো সংবাদ