আসামি ধরেই কেন মিডিয়ার সামনে আনা হয় প্রশ্ন হাইকোর্টের

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১৬:৩০

আইনশঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা কোন ঘটনায় আসামি ধরা পড়ার সাথে সাথে বিচার শেষ না হতেই, গণমাধ্যমে সংবাদ সম্মেলনে করেন। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্বয়ং হাইকোর্ট। উচ্চ আদালত বলেন, এ চর্চা সংশ্লিষ্ট মামলার তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করে।  

একইসঙ্গে তদন্তাধীন বিষয় নিয়ে টিভি মিডিয়ায় টকশো প্রচারিত হওয়ার বিষয়ে বিষ্ময় প্রকাশ করেছেন আদালত। হাইকোর্ট বলেন, এতে মিডিয়া ট্রায়াল হবার আশঙ্কা তৈরি হয়।

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নারায়ণগঞ্জে ধর্ষণ ও হত্যার শিকার স্কুল ছাত্রীর জীবিত ফেরত আসার ঘটনায় রিভিশন আবেদনের শুনানিতে বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমান বেঞ্চ এসব মন্তব্য করেন।


এদিন এ মামলার সব নথি নিয়ে হাইকোর্টের তলবে হাজির হয়ে দুই তদন্ত কর্মকর্তা ব্যাখ্যা দেন। এ সময় আদালত মামলার তদন্তের সময় আসামির দোষ স্বীকার করা স্বাভাবিক কি না এমন প্রশ্ন তোলেন।

আদালত বলেন, পৃথিবীতে এমন কোন নজির নেই যে, স্বতঃস্ফূর্তভাবে আসামি দোষ স্বীকার করেছে। সেখানে ধর্ষণ ও হত্যার কথা দোষ না করেই স্বীকার করলো? এই মামলার তদন্ত প্রশ্নবিদ্ধ। ধর্ষণ ও হত্যার না করেও আসামিরা কিভাবে স্বীকার করলো? এটা বড় খটকা।

আবেদনের পক্ষের আইনজীবী শিশির মনির শুনানিতে আসামির জবানবন্দি নেয়ার সময় একজন আইনজীবী উপস্থিতি রাখা বাধ্যতামূলক করার জন্য আদালতের কাছে আবেদন করেন। শুনানি শেষে হাইকোর্ট ২৪ সেপ্টেম্বর আদেশের দিন নির্ধারণ করেন।

গত ২৬ আগস্ট নারায়ণগঞ্জে কথিত মৃত কিশোরী ফিরে আসা এবং তিন আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি সহ মামলার সব নথি তলব করেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে ওই মামলায় তদন্তের সঙ্গে জড়িত দুই তদন্ত কর্মকর্তাকেও তলব করেন আদালত।   

গত ২৪ আগস্ট ‘ধর্ষণের পর নদীতে লাশ ফেলে দেয়া স্কুল ছাত্রীর ৪৯ দিন পর জীবিত প্রত্যাবর্তন’  শীর্ষক শিরোনামে একটি জাতীয় দৈনিকে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ওই প্রতিবেদনটি আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির হাইকোর্টের নজরে আনেন।

গত ৪ জুলাই ৫ম শ্রেণির ছাত্রী দিসা নিখোঁজ হয়। গত ৬ আগস্ট নিখোঁজ স্কুল ছাত্রী দিসার বাবা জাহাঙ্গীর হোসেন নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানায় অপহরণ মামলা দায়ের করেন। মামলার পর পুলিশ আব্দুল্লাহ, রকিব এবং খলিল নামে ৩ জনকে গ্রেফতার করেন। তারা আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। স্বীকারোক্তিতে তারা বলেন যে, তারা ৫ম শ্রেণির ছাত্রী দিসাকে গণধর্ষণের পর হত্যা করে লাশ শীতলক্ষ্যা নদীতে ভাসিয়ে দেয়। জবানবন্দি গ্রহণের পর আসামিদেরকে জেলে পাঠানো হয়। কিন্তু ২৩ আগস্ট দিসাকে খুঁজে পাওয়া যায়।

 এবিএন/মমিন/জসিম

এই বিভাগের আরো সংবাদ