ডলফিন হত্যার ঘটনায় তদন্তের নির্দেশ হাইকোর্টের

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ২৯ মে ২০২০, ০০:৩৪

হালদা নদীর জীববৈচিত্র্য এবং কার্প জাতীয় মা মাছ ও ডলফিন রক্ষায় স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধিদের অংশীদারিত্বে গঠিত কমিটির পদক্ষেপ জানতে চেয়েছেন হাইকোর্ট।

বৃহস্পতিবার (২৮ মে) বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের ভার্চ্যুয়াল কোর্ট এ আদেশ দেন।

আগামী ১৫ জুন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্টদের এ বিষয়ে আদালতকে অবহিত করতে বলা হয়েছে।

আদালতে রিট আবেদনকারী আইনজীবী এম আব্দুল কাইয়ূম নিজে শুনানিতে অংশ নেন। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সমরেন্দ্র নাথ বিশ্বাস ও অমিত তালুকদার।

আদেশে বলা হয়, রিট আবেদনকারী আইনজীবী আব্দুল কাইয়ূম ২৪ মে ইংরেজি দৈনিক দ্য ডেইলি স্টারে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন আদালতের নজরে আনেন। ওই প্রতিবেদনে দেখা যাচ্ছে, ১২ মে’র পর আরেও একটি ডলফিন হত্যা করা হয়েছে। এ বিষয়ে যথাযথ তদন্ত করে কমিটিকে ওই তারিখের মধ্যে (১৫ জুন) আদালতকে অবগত করতে নির্দেশ দেওয়া হলো। আগামী ১৮ জুন বিষয়টি আদেশের জন্য কার্যতালিকায় থাকবে।

আদেশের পর আইনজীবী আব্দুল কাইয়ূম লিটন বলেন, গত ২৪ মে ৭০ থেকে আশি কেজি ওজনের আরেকটি ডলফিন মৃত অবস্থায় মদুনাঘাট এলাকায় উদ্ধারের খবর পাওয়া যায়। বিষয়টি আদালতের নজরে আনা হলে শুনানি নিয়ে আদেশ দেন।

এর আগে ব্যারিস্টার আব্দুল কাইয়ূম লিটনের এক রিট আবেদনের শুনানি নিয়ে ১২ মে চট্টগ্রাম জেলার রাউজান উপজেলার হালদা নদী থেকে আর একটিও ডলফিন কেউ যেন শিকার বা হত্যা করতে না পারেন, সে বিষয়ে বিনা ব্যর্থতায় ব্যবস্থা নিতে সরকারকে নির্দেশ দেন উচ্চ আদালত।

এ বিষয়ে বিবাদীরা কী ব্যবস্থা নিয়েছেন, তা আদেশ প্রাপ্তির ৭২ ঘণ্টার মধ্যে ই-মেইল যোগে উচ্চ আদালতকে জানাতে বলা হয়।

এ আদেশ অনুসারে আদালতে প্রতিবেদন দেন বিবাদীরা।

পরে ১৯ মে হালদা নদীর জীববৈচিত্র্য এবং কার্প জাতীয় মা মাছ ও ডলফিন রক্ষায় স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধিদের অংশীদারিত্বে একটি কমিটি গঠনের নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। নদীর তীরবর্তী এলাকার সংসদ সদস্যরা কমিটির উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করবেন। কমিটিতে কারা থাকবেন সেটাও উল্লেখ করেন আদালত।

চট্টগ্রামে জেলা প্রশাসকের সভাপতিত্বে কমিটির সদস্যরা হলেন, জেলা পুলিশ সুপার, চট্টগ্রামের নৌ পুলিশ, কোস্টগার্ড, পরিবেশ অধিদপ্তর, জেলা মৎস্য কর্মকর্তা, পানি উন্নয়ন বোর্ডের একজন করে প্রতিনিধি, হাটহাজারী, ফটিকছড়ি, বোয়ালখালী, রাউজান, রামগড় ও মানিকছড়ির উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মেরিন সায়েন্স অ্যান্ড ফিশারিজ অনুষদের প্রতিনিধি, জেলা প্রশাসকের মনোনীত দু’জন হালদা গবেষক ও দু’জন এনজিও প্রতিনিধি এবং নদী তীরবর্তী উপজেলা চেয়ারম্যানরা।

কমিটির সদস্য সচিব করা হয় বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তাকে।

পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত কমিটি কার্যক্রম চালাবেন বলে আদেশে উল্লেখ করা হয়।

একইসঙ্গে ২৮ মে পরবর্তী আদেশের জন্য দিন রেখেছিলেন। এরমধ্যে ২৪ মে আরেকটি ডলফিন মৃত অবস্থায় উদ্ধারের খবর আসে।

এবিএন/শংকর রায়/জসিম/পিংকি

এই বিভাগের আরো সংবাদ