ফেসবুকে মাদক বিক্রি, ৫ অ্যাডমিনের মধ্যে গ্রেফতার ১

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ২০ মে ২০২০, ২১:৪০

‘উইড লাভারস’ বা ‘গাঞ্জা প্রেমী’ নামে ফেসবুকে খোলা হয়েছে একটি গ্রুপ।  গ্রুপে সদস্য ১৫ হাজারের বেশি। করোনাকালে ফেসবুক এই গ্রুপ থেকেই মাদক কেনাবেচা করে একটি সংঘবদ্ধ চক্র। কোথায় কীভাবে মাদক পাওয়া যাবে এবং তার হোম ডেলিভারি কীভাবে হবে সবিস্তারে সেখানে বলা হয়। এরপর মেসেঞ্জারে যোগাযোগ করে মাদক পৌঁছে দেয় ওই সিন্ডিকেট। আর মাদকের টাকা নেওয়া হয় অনলাইন ব্যাকিংয়ের মাধ্যমে।

র‌্যাবের দায়িত্বশীল একটি সূত্র জানায়, মাদক কেনাবেচার গ্রুপটির অ্যাডমিন পাঁচজন। তারাই এটি নিয়ন্ত্রণ করেন। সাইবার মনিটরিংয়ের মাধ্যমে এরই মধ্যে ফাহিম নাঈম (১৯) নামে এক অ্যাডমিনকে শনাক্ত করা হয়। সোমবার রাজধানীর নাখালপাড়ার লুকাস মোড় এলাকা থেকে র‌্যাব-২ অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করে। এ ব্যাপারে তেজগাঁও থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করা হয়েছে। নাঈমের সহযোগী আরও ৪ এডমিনকে খোঁজা হচ্ছে। নাঈম গ্রেফতারের পর থেকে তারা গা-ঢাকা দিয়েছেন।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে র‌্যাবের হাতে গ্রেফতার নাঈম জানিয়েছেন, ভার্চুয়াল জগতে মাদকের অর্ডার নিয়ে তা ক্রেতার কাছে মোটরসাইকেলে পৌঁছে দিতেন তিনি। মাদক বিক্রির টাকা ৫ অ্যাডমিন মিলে ভাগবাটোয়ারা করে নিতেন।

র‌্যাবের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, ‘উইড লাভারস’ নামে ওই গ্রুপে বিশেষ গাঁজার কথিত উপকারিতার ব্যাপারে নানা কাল্পনিক তথ্য তুলে ধরা হতো। করোনার এমন দিনে সহজে গাঁজা, ইয়াবাসহ অন্যান্য মাদক কিভাবে পাওয়া যাবে তা বলা হয় সেখানে। কিভাবে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে মাদক পরিবহন করতে হবে সেই কৌশলও বলা হয়। করোনার মধ্যে ওষুধের প্রেসক্রিপশন, ব্যাংকের জরুরি কাগজ বা অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ নথি নিয়ে বাসা থেকে বের হতে বলা হতো ওই গ্রুপে। রাস্তায় পুলিশ আটকালে যাতে ওই নথি দেখিয়ে ছাড় পাওয়া যায় সেই নির্দেশনাও দেওয়া হয় মাদক ক্রেতা ও বিক্রেতাদের। 

‘উইড লাভারস’ নামে ওই গ্রুপে ‘রেইন ড্রপস’ নামে একজন তার আইডি থেকে লিখেন- ‘একলা বসে স্টিক বানাইয়া খাইতেছি।’ সৈকত আকমল নামে একজন ১৬ মে লিখেন- ‘মামা আইস্যা পড়ছি। গানজা আছে মামা।’ একজন লিখেছেন- 'এই মাত্র হাতে পাইলাম ভাই।'

র‌্যাব-২ এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মনিরুজ্জামান গণমাধ্যমকে জানান, সাইবার মনিটরিংয়ের মাধ্যমে ভার্চুয়াল জগতে মাদক কেনাবেচার এই গ্রুপের সন্ধান মেলে। পরে তাদের অ্যাডমিনদের খোঁজা হয়। একজনকে গ্রেফতারের পর অন্য চারজনকে ধরতে আভিযান অব্যাহত রয়েছে। গ্রুপটির কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। করোনার এ সময়ে তারা যেভাবে অনলাইনে মাদক কেনাবেচার হাঁট বসিয়েছিল এটা উদ্বেগজনক। মাদকসেবীর কাছে গ্রুপটি ভাইরাল হয়ে যাচ্ছিল।

আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একটি সূত্র জানায়, মিয়ানমার থেকে প্রায় প্রত্যেক দিনই ইয়াবার চালান দেশে ঢুকছে। বড় কারবারিরা ইয়াবা দেশে এনে একটি অংশ স্টক করে রাখেন। আরেকটি অংশ লকডাউনের মধ্যে জরুরি পণ্য পরিবহনের আড়ালে দেশের নানা প্রান্তে পৌঁছে দিচ্ছেন। সবজি, চাল, ডাল ও অ্যাম্বুলেন্সে স্থানান্তর হচ্ছে ইয়াবা। আবার ত্রাণের প্যাকেটের আড়ালে হোম সার্ভিস ডেলিভারির আড়ালে মাদকসেবীদের কাছে খুচরা ব্যবসায়ীরা ইয়াবা বাড়ি পাঠাচ্ছেন।

এবিএন/জনি/জসিম/জেডি

এই বিভাগের আরো সংবাদ